kalerkantho


১০২ ব্রিটিশ এমপি মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার চান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



১০২ ব্রিটিশ এমপি মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার চান

রোহিঙ্গা নিধনের মূল হোতা মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও সেনাপ্রধানের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) বিচারের উদ্যোগ নিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ১০২ জন সদস্য। আগামী সোমবার অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই ইস্যুতে ইইউর ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি এবং মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও রোহিঙ্গাবিষয়ক দুটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির সহসভাপতি রুশনারা আলীর নেতৃত্বে লেখা হয়েছে চিঠিটি। গতকাল বুধবার রুশনারা আলী ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে তা পাঠানোর কথা নিশ্চিত করে টুইটারে লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়ংকর অপরাধের অবশ্যই জবাবদিহি থাকতে হবে।’

ব্রিটিশ এমপিরা লিখেছেন, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর ছয় মাসের মাথায় সোমবার ইইউ সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান যায়ীদ রা’দ আল হুসাইন রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযানকে ‘আক্ষরিক অর্থেই জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করে গণহত্যার আশঙ্কা করার পরও মিয়ানমার নীতি বদলায়নি। জবাবদিহির অভাবে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। এরপর তিনি মিয়ানমারের অন্য অঞ্চলগুলোতে সংঘাতে আরো বল প্রয়োগ করছেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জেটবিমান হামলাও বাড়িয়েছেন।

এমপিরা লিখেছেন, মিয়ানমার পরিস্থিতিকে আইসিসিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সময় চলে এসেছে। এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে প্রস্তাব তুললে চীন ও রাশিয়া বিরোধিতা করবে। তাই যুক্তরাজ্যকে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য সৃষ্টি এবং ওই দুই দেশের মত পাল্টানোর চেষ্টা চালাতে হবে। সোমবার ইইউর

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত। চিঠিতে বলা হয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে ইইউর অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের নিশ্চিত করা উচিত। এ ছাড়া জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিতেও তাঁরা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চিঠিতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ, সাত হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

 



মন্তব্য