kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা করতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা করতে হবে

দেশের অধিকতর উন্নয়ন এবং বিশ্বে জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা, ব্যবহার এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রক্তের অক্ষরে আমরা আমাদের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি। এই ভাষার চর্চা, এই ভাষার ব্যবহার, এটা আমাদের ভুললে চলবে না। বাঙালি হিসেবে আমাদের ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে।’

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষা ব্যবহারে বিভিন্ন বিধি-নিষেধের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলা ভাষা নিয়ে অনেক যন্ত্রণা আমাদের সইতে হয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে আমাদের বিষয়টি মনে আছে।

একসময় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো বাংলা অক্ষরে বাংলা ভাষা লেখা যাবে না। আরবি হরফে বাংলা লিখতে হবে, এই দাবির প্রতিবাদ করল বাঙালিরা। তারপর বলা হলো, রোমান হরফে বাংলা লিখতে হবে। এরও প্রতিবাদ হলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারপর এলো রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না, তিনি হিন্দু। এ জন্য তাঁর লেখা পড়লে আমাদের মুসলমানিত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখাগুলোকে মুসলমানি ভাষা দেওয়া হবে। তার ‘মহাশ্মশান’ হয়ে গেল ‘গোরস্থান’। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি’কে পরিবর্তন করা হলো। লেখা হলো, ‘ফজরে উঠিয়া আমি দেলে দেলে বলি’। আমাদের ছাত্রজীবনে কত রকমের যন্ত্রণা ভোগ করেছি, তা বুঝতে পারছেন।” একুশের পথ ধরে স্বাধীনতা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তার ভাষার ওপর, সংস্কৃতির ওপর আঘাত করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রটা পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ওপর করেছিল। এরই পথ ধরে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে মর্যাদা পেয়েছি। রাষ্ট্র পেয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি প্রতিবছর জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর শিশুরা যাতে নিজের ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সে জন্য চাকমা, মারমা, সাদ্রী, গারো ও ত্রিপুরা ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের ৪৯ হাজার ২৭৬টি বই এবার বিতরণ করা হয়েছে ৫৮ হাজার ২২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে।

বাংলাদেশ শিগগিরই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য যত শর্ত রয়েছে, তার সবই বাংলাদেশ পূর্ণ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থানটাকে উন্নত করতে পারব। সেই পর্যায়ে এসে গেছি। ইনশাআল্লাহ সেই ঘোষণা আপনারা শিগগিরই পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের সঙ্গে তো নিম্ন শব্দটি থাকতে পারে না। আমাদের এখন একটি সুযোগ এসে গেছে। যে কয়টি ক্যাটাগরিতে অর্জন থাকলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে পারি, তার প্রতিটি শর্তই বাংলাদেশ এখন পূর্ণ করেছে। কাজেই আমাদের মর্যাদাটা আরো এক ধাপ ওপরে এগিয়ে নিতে পারব।’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং ঢাকায় ইউনেসকোর আবাসিক প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন বক্তব্য দেন।  

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল কো-এক্সিসটেন্স ডায়ালগ অ্যান্ড অফিশিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডাব্লিউ এম পি জি বিক্রমাসিংহে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য