kalerkantho


প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ১১

প্রতীকী ছবি

প্রশ্নফাঁস প্রতারক সন্দেহে শিক্ষক, কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তাসহ সারা দেশে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব-৩ ঢাকার উত্তরখান ও গাজীপুর এলাকা থেকে গতকাল সোমবার ভোরে গ্রেপ্তার করে পাঁচজনকে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসানুর রহমান ওরফে রকির (২৯) কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে অন্য চারজন দ্রুত উত্তর লিখে পরীক্ষা শুরুর আগে আগে অন্যদের দিতেন।

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হচ্ছেন উত্তরখানের ক্যামব্রীজ হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তানভীর হোসেন (২৯), একই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক সজীব মিয়া (২৬), একই এলাকার সৃজনশীল কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম (২১) ও এনামুল হক (২৭)। গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। এ সময় র‌্যাব-৩-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরানুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ভেতরে এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্রও পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জেনেছে, রকি ‘রকি ভাই’সহ বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন এবং চার বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁস ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মেসেঞ্জারের ইনবক্সে টাকা পাঠানোর রসিদের ছবি দেখার পর তিনি পরীক্ষার্থীকে গ্রুপের সদস্য করতেন এবং প্রশ্ন দিতেন। তিনি আরো জানান, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ২৮ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সারা দেশে গ্রেপ্তার ৬ : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছ থেকে গতকাল জামালগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র বিপুল হোসেনকে (১৭) প্রশ্নপত্র বিক্রির সময় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিপুল উপজেলার পূর্ব মাতাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হলে দেওয়া জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আক্কেলপুর থানায় মামলার পর বিপুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কুমিল্লার চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে থেকে ফুয়াদ (১৮) ও শাহরিয়ার (১৮) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমেদের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুজনের মোবাইল ফোনে পাওয়া প্রশ্নপত্র হলের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলেছে বলে জানা যায়।

ঢাকার ধামরাইয়ের হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশের আগে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক ও তন্বী সাহার মোবাইল ফোনে জীববিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। দুজন আশুলিয়ার শিমুলিয়া এসপি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ধামরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম এবং ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মাদ রেজাউল হক দিপু জানান, পরীক্ষার আগে কিভাবে তারা প্রশ্ন পেয়েছে তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

টাঙ্গাইলের সখীপুর পিএম পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও চারজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নাম আফরোজা আক্তার ও লাবনী আক্তার। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা জান্নাত তাহেরা বলেন, দুজনের মোবাইল ফোনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চারজনকে মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতরে প্রবেশ করায় জরিমানা করা হয়।

নাটোরের লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে অবৈধভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্র লিখতে সহযোগিতার অপরাধে মতিউর রহমান নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, হাতেনাতে ধরে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পিরোজপুরের নাজিরপুরে সিরাজুল হক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সেট পরিবর্তনের অভিযোগে কেন্দ্রসচিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা জানান, শাস্তিপ্রাপ্তর নাম মাধব চন্দ্র দাস। পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানোর পর উত্তরপত্রগুলো ডাকযোগে না পাঠিয়ে সরাসরি হাতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

[ঢাকার বাইরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য এ খবরে যুক্ত করা হয়েছে।]



মন্তব্য