kalerkantho


ডিএসসিসি বাতিল করল ৮ কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স

১১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ডিএসসিসি বাতিল করল ৮ কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স

ফাইল ছবি

অবৈধভাবে ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর অভিযোগে এবার রাজধানীর আটটি কোচিং সেন্টারের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এসংক্রান্ত আদেশে সই করেছেন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

এর আগে একই অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটের ছয়টি কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তা ছাড়া অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড লাগানোয় গতকালও ফার্মগেট এলাকায় বিভিন্ন দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ডিএনসিসি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয় অবৈধ সাইনবোর্ড ও ব্যানার।

ডিএসসিসির লাইসেন্স বাতিল করা কোচিং সেন্টারগুলো হলো—আরামবাগের উদ্ভাস একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ার, উন্মেষ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল অ্যাডমিশন কেয়ার, পীরজঙ্গি মাজার এলাকার রিলায়েন্স কোচিং, আবুল খয়রাত রোডের ইউনাইটেড স্কলার্স, বংশাল রোডের গাইড হাউস, পুরান মোগলটুলীর ওভিসি কোচিং সেন্টার, জনসন রোডের কোর এডুকেশন এবং সুভাষ বোস লেনের বিদ্বান একাডেমিক্যাল কোচিং সেন্টার।

ডিএসসিসির আদেশে বলা হয়, ডিএসসিসির দেওয়া লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে এসব কোচিং সেন্টারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটি, ফুটপাত, সড়ক বিভাজকের গাছের ডালে ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর সৌন্দর্যহানিসহ অপরিচ্ছন্ন ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তারা। এসব ব্যানার-ফেস্টুন নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলতে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা সেটা করেনি। তাই তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, শর্ত ভঙ্গ করায় আটটি কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। যারাই শর্ত ভঙ্গ করবে তাদেরই লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ফার্মগেটে ডিএনসিসির অভিযান : গতকাল সকাল ১১টার দিকে ফার্মগেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এস এম অজিয়র রহমান। এ সময় ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রথমে কোচিং সেন্টারগুলোতে যান। কিন্তু ওই সময় প্রায় সব কোচিং সেন্টারই তালাবদ্ধ ছিল। তখন তাদের অবৈধ পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে আদালতের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা।

পরে আদালতের নির্দেশে ইউসিসি, হলি মিশন, ম্যাবস, ক্যারিয়ার পাঠ, কোরিয়ান ভাষা, কনফিডেন্স, ফিউশন ভয়েজ, কর্নেল একাডেমিসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের অবৈধ সাইনবোর্ডও ভেঙে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গ্রিন রোডের খন্দকার এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার, ১৪০ নম্বর হোল্ডিংয়ের দোকানের মালিক শাহাব উদ্দিনকে পাঁচ হাজার, তাজ ইলেকট্রনিকসকে পাঁচ হাজার, ১০৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের দোকানের মালিক রিকাম হোসেনকে পাঁচ হাজার, ন্যাশনাল হার্ডওয়্যারকে পাঁচ হাজার, ম্যাংগো মিডিয়াকে পাঁচ হাজার, অপো-শোরুমকে ২০ হাজার, নিউ বাথ প্রেসারকে ৩০ হাজার, মেনস হেয়ার স্টাইলকে পাঁচ হাজার, আশিক স্যানিটারিকে ৩০ হাজার এবং ৯৪/এ নম্বর হোল্ডিংয়ে কাজি অফিসকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এর আগে আমরা অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছি। এতে ঢাকার সৌন্দর্য অনেকটা ফিরে এসেছে। এখন অবৈধ সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন এবং ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হবে।’



মন্তব্য