kalerkantho


রিভিউ আবেদন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

পাঁচ বিচারপতিই শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পাঁচ বিচারপতিই শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন

ফাইল ছবি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিলের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে সরকারের করা আবেদনের ওপর শুনানি নতুন বিচারপতির অপেক্ষায় আটকে থাকবে না বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, আপিল বিভাগে যে পাঁচ বিচারপতি আছেন তাঁরাই শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি কৌঁসুলিদের এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ষোড়শ সংশোধনীসংক্রান্ত মামলায় আপিলে রায় দিয়েছিলেন সাতজন বিচারপতি। তাঁদের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেছেন। অন্য একজন বিচারপতি অবসরে গেছেন। এখন আছেন পাঁচজন বিচারপতি। ওই পাঁচজন শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সরকার রিভিউ আবেদন দাখিল করেছে। এমন রিভিউ আবেদনের প্রথাও রয়েছে। যাঁরা নেই তাঁরা তো শুনানি করতে পারবেন না। বর্তমানে পাঁচজন বিচারপতি আপিল বিভাগে রয়েছেন। এই পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চই শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিধিমালা (রুলস) পড়ে যা বুঝেছি, যাঁরা কর্মরত আছেন তাঁরাই শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন। নতুন বিচারপতির জন্য শুনানি গ্রহণ অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।’

উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতাসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৬ সালের ৫ মে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে আপিল বিভাগ গত ৩ জুলাই সেটি খারিজ করে দেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১ আগস্ট। এর চার মাসেরও বেশি সময় পর গত রবিবার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী রিভিউ আবেদন করা হয়েছে। রিভিউ আবেদন শুনে যদি বিচারকরা মনে করেন রিভিউ গ্রহণ করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে তাহলে রায় দেবেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সরকার নিয়েছে বলে বিএনপি যে অভিযোগ করছে সে বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য একটা শৃঙ্খলাবিধি করা হয়েছে। ওনারা (বিএনপি) এ বিষয়টি জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত পকেটে নিয়ে ঘুরেছেন। বের করেননি। এই সরকারের আমলে আস্তে আস্তে বের করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে একটা মর্যাদার আসনে বসানো হলো।’

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। এটা একমাত্র রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’



মন্তব্য