kalerkantho


রোহিঙ্গা গণহত্যার আশঙ্কা কানাডারও

মেহেদী হাসান   

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গা গণহত্যার আশঙ্কা কানাডারও

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী গণহত্যার শিকার হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে কানাডাও। মিয়ানমারবিষয়ক কানাডার বিশেষ দূত এক অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে লিখেছেন, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যেতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তিনি যে ভয়াবহ পরিস্থিতির তথ্য পেয়েছেন, তা লিখে প্রকাশ করা বেশ কঠিন। গত শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বব রে ফরাসি ভাষায় লিখেছেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের প্রক্রিয়াটি রক্তপাত ছাড়া হয়নি। এই প্রক্রিয়ায় অনেক প্রাণহানি, ক্ষত, ব্যথা, সম্পদহানি ও জীবিকার ক্ষতি হয়েছে। এটি ‘গণহত্যা’র সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জায়িদ রাদ আল হুসেইন গত সেপ্টেম্বর মাসেই একে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলেছিলেন। তবে এ মাসের শুরুর দিকে তিনি মিয়ানমারে ‘গণহত্যা’ চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কানাডার বিশেষ দূত বব রেও এমন আশঙ্কার ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিবেদনে লিখেছেন, গণহত্যা কি না তা যাচাই করা তাঁর এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়। তবে এটিও মনে রাখা দরকার যে গণহত্যা কোথাও হঠাৎ করেই ঘটে না। এর শুরু হয় ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার মাধ্যমে। এর ধারাবাহিকতায় আসে বর্জন ও আইনগত বৈষম্যের নীতি, নিশ্চিহ্ন করার নীতি এবং শেষ হয় গণহারে বিনাশের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।

বব রের মতে, রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে যে বৈষম্য করা হয়েছে এবং এবারের সংকটের আগে পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে তা অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে আইনগতভাবে তাদের মিয়ানমার থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বেশ আগে। এর ফলে রোহিঙ্গারা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী।

বব রের মতে, পরিচয়জনিত কারণে নিহত মানুষের তালিকায় আরো রোহিঙ্গার নাম ওঠার আগে মিয়ানমার ও বাকি বিশ্বের জনগণকে অবশ্যই তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গত ২৩ অক্টোবর বব রেকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেন। এরপর বব রে এই সংকট বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর সফর করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ উপস্থাপন করার আগে তিনি আবারও এ অঞ্চলে আসবেন বলে আশা করছেন।

এ যাবৎ পাওয়া তথ্যগুলোকে বব রে তাঁর প্রতিবেদনে তিনটি ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে মানবিক সংকট তুলে ধরে লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছয় লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার ঢলের কারণে বাংলাদেশেও এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ দেশে আগে থেকেই আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন শিবিরে আক্ষরিক অর্থেই বন্দি অবস্থায় আছে।

প্রতিবেদনের দ্বিতীয় ধাপে বব রে রোহিঙ্গাদের তাদের বসতভূমিতে নিরাপদে ফেরা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া এবং তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন রাখাইন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রতিবেদনের তৃতীয় ও শেষ ধাপে বব রে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনের বরখেলাপের সুস্পষ্ট প্রমাণগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে সেগুলো মূল্যায়ন করার কথা বলেছেন।


মন্তব্য