kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি

খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ, আসামিপক্ষের আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল ওই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সাক্ষীদের মাধ্যমে এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে, আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার জন্য নিবেদন করছি।’

মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

রাষ্ট্রপক্ষ গতকালই যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করে আবার শেষও করেছে। আজ বুধবার এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে।

খালেদা জিয়া গতকাল সকালেই হাজির হন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, মামলার এজাহার, চার্জশিট সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জিয়া এতিমখানার টাকা আত্মসাত্ করেছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। যে অপরাধ তাঁরা করেছেন তা দুঃখজনক।

দুদকের আইনজীবী আরো বলেন, ৩২ জন সাক্ষীর প্রত্যেকেই আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জিয়া ট্রাস্ট মামলার সত্যতা প্রমাণ করেছেন। খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খণ্ডাতে পারেননি। সাক্ষীরা প্রমাণ করেছেন, এতিমদের দুই কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থের সম্পূর্ণটাই আত্মসাত্ করেছেন আসামিরা। এ কারণে দুর্নীতি দমন আইন ও দণ্ডবিধির অভিযোগগুলো প্রমাণ হয়েছে। আর এই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন আইনজীবী।

রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যুক্তিতর্কের পূর্ব নির্ধারিত দিন ধার্য ছিল গতকাল। রাষ্ট্রপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। তাঁরা কয়েক দিন পরে তারিখ ধার্য করার আবেদন জানান। কিন্তু বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান সময় মঞ্জুর না করে আজকের ধার্য তারিখই বহাল রাখেন। আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন তাঁর আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করেছিল দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের করা আরো একটি মামলা একই আদালতে বিচারাধীন।


মন্তব্য