kalerkantho


রংপুর সিটি নির্বাচন

প্রচার শেষ ব্যালট উৎসবের জন্য প্রস্তুত নগর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রচার শেষ ব্যালট উৎসবের জন্য প্রস্তুত নগর

রংপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের প্রচারের শেষ সময় ছিল গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত। এবার ভোটগ্রহণের পালা। আগামীকাল বৃহস্পতিবারই নগর মাতবে ব্যালট উৎসবে। সে জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করে আনা হয়েছে।

প্রচারের শেষ দিনে গতকাল মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা ছুটে বেরিয়েছে নগরের পাড়া-মহল্লায়।

সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শেষ দিনে হৈ-হুল্লোড়, মিছিল-স্লোগান আর মাইকিংয়ে জমে ওঠে নির্বাচনী প্রচার।

সকালেই নগরের রণচণ্ডী এলাকায় গণসংযোগ করেন জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। দুপুরে সিটি বাজার পায়রা চত্বর এলাকায় প্রচার চালান আওয়ামী লীগ প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। আর বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা প্রচার চালান মীরগঞ্জ এলাকায়।

অন্যদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু প্রচার চালান সিটি বাজার, কলেজ রোড, মেডিক্যাল মোড় এলাকায়। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী প্রচার চালান রংপুর প্রেস ক্লাব এলাকায়। অন্য দুই মেয়র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (স্বতন্ত্র) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সেলিম আখতারও সকাল থেকেই প্রচারে নামেন। মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ব্যস্ত সময় পার করেছেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের ৬৫ জন এবং ২১২ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী।

বিএনপি পদপ্রার্থী কাওছার জামান বাবলা শেষ দিনে প্রচারপত্র বিলি করেছেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার আশঙ্কা আবারও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাবলা বলেন, ‘যেভাবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং তাদের লোকজন আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তাতে করে নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়।’ অবশ্য শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই জয়ী হবো। গণসংযোগকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নূর মোহাম্মদ মণ্ডল, জেলা সম্পাদক রইছ আহাম্মেদ, মহানগর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

সকাল ১০টায় নগরের বেতপট্টি এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ দিনের প্রচার শুরু করেন ঝন্টু। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দলের রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঝন্টু বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ভালো। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট  দেবেন। তারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।’

জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা গতকাল সকালে রণচণ্ডী এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান। এ সময় তিনি বলেন, ‘রংপুর এরশাদের ঘাঁটি। ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে আবারও তা প্রমাণিত হবে।’

এদিকে ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমরা চাই একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। এ জন্য বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবাই আমাদের সহযোগিতা করবে।’ তিনি জানান, আগামীকালের নির্বাচনে নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডের তিন লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন ভোটার ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

রিটার্নিং অফিসার আরো জানান, ইতিমধ্যে বেগম রোকেয়া কলেজ নামের একটি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন বসানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই কেন্দ্রসহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিলসহ যাবতীয় নির্বাচনী সামগ্রীও নির্বাচন কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে।

উল্লেখ্য, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজনসহ মোট ২৮৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন এবং ৩৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 



মন্তব্য