kalerkantho


জাতিসংঘ ও অংশীদারদের সহায়তা নেবে দুই পক্ষ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জাতিসংঘ ও অংশীদারদের সহায়তা নেবে দুই পক্ষ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং আগ্রহী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডাব্লিউজি)। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে দুই দেশের বৈঠক শেষে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং এর কর্মপরিধিবিষয়ক সমঝোতা সই হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর উপস্থিতিতে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব ইউ মিয়ন্ত থ চূড়ান্ত করা কর্মপরিধি সই করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে দুই দেশের ১৫ জন করে সদস্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে থাকবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের বলেন, “আগেই দুই দেশের মধ্যে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যবস্থাবিষয়ক চুক্তি) সই হয়েছিল। তার অধীনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি হয়ে গেল। এখন পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হবে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ বিষয়ে তাঁর সন্তুষ্টির কথা জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর সই হওয়া চুক্তির দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু করা নিশ্চিত করতে কাজ করবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চুক্তির আলোকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরে যাওয়া, পুনর্বাসন ও পুনর্প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে।

কার্যপরিধি অনুযায়ী, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া শুরুর জন্য ভৌত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলবে। এর মধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য পরিচয় যাচাই কাঠামো, সময়সীমা নির্ধারণ, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু ও যোগাযোগের বিষয় থাকবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করবে এবং দুই দেশের সরকারকেই তিন মাস পর পর অগ্রগতি জানাবে।

বৈঠকে অংশ নিতে গত সোমবার ঢাকায় আসেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব। গত ২৩ নভেম্বর নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সইয়ের পর তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে গ্রুপ গঠন করতে উভয় দেশ ব্যর্থ হয়।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির পর তা বাস্তবায়ন নিয়ে যখন দুই দেশ আলোচনা করছে তখনও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে। ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজে) তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাদের ইচ্ছার ওপর। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। আবার এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে নেপিডোর ওপর চাপ সৃষ্টির সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য ইরানের ফিল্ড হাসপাতাল : এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ শয্যার একটি ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ চালু করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। গত সোমবার কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকায় ইরান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইব্রাহীম শাফেঈ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

৩০ লাখ প্যাকেট খাবার স্যালাইন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কেনা ৩০ লাখ প্যাকেট খাবার স্যালাইন গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, ইউএসএআইডি কর্মকর্তারা স্যালাইনের চালানটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ৯ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে।

 


মন্তব্য