kalerkantho


ডিএনসিসি উপনির্বাচন

জানুয়ারিতে তফসিল, ভোট ফেব্রুয়ারিতে

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জানুয়ারিতে তফসিল, ভোট ফেব্রুয়ারিতে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনসহ ঢাকার দুই সিটির নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের সমসংখ্যক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের নির্বাচন হবে আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। এসব নির্বাচনের জন্য আলাদা তিনটি তফসিল ঘোষণা করা হবে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। তবে ভোটগ্রহণ হবে একই দিনে।

এ নির্বাচনে এবারের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় যাঁরা যুক্ত হতে যাচ্ছেন তাঁরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে ভোট দিতে পারবেন। আর এ নির্বাচনে যাঁরা নির্বাচিত হবেন তাঁদের মেয়াদ হবে বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়াদের সঙ্গে সংগতি রেখে দুই বছরের কিছুটা বেশি।

গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সীমানা বাড়ানোর পর ওয়ার্ডের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৫-এর ৩ উপধারাটি নিয়ে আলোচনা হয়। এ আইনে বলা আছে, মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হলে করপোরেশন এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

কিন্তু সম্প্রতি দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ১৮টি করে নতুন ওয়ার্ড এবং একই সঙ্গে ছয়টি করে সংরক্ষিত ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় বর্তমান করপোরেশনের বৈধতাও প্রশ্নের সম্মুখীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে নির্বাচিত কাউন্সিলর রয়েছেন ৩৬টিতে। এ বাস্তবতায় কমিশনের সভায় মেয়র পদে উপনির্বাচনসহ এই দুই সিটির নতুন ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর পদে নির্বাচনও জরুরি বলে মত দেওয়া হয়।

সভায় দুই সিটির বর্ধিত অংশের সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের মেয়াদ কত দিন হবে এবং এ নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশনের সভায় এ নির্বাচনের নানা বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইনি জটিলতা নেই। সে জন্য কমিশন এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা দিয়েছে। যদি কোনো আইনি জটিলতা থাকত, তাহলে কমিশন এ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিত না। তবে ভবিষ্যতে যদি আইনের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন আসে, তাহলে তা কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু একটি পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদে পৃথকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তাই পৃথক তিনটি তফসিল দেওয়া হবে। তবে ভোটগ্রহণ একই দিনে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ‘জানুয়ারিতে যাঁরা নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন তাঁরা এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে নতুন ভোটারদের কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।’

এ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের  কাউন্সিলরদের মেয়াদ কত দিন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘সাধারণ ওয়ার্ডে যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের মেয়াদ চলমান সিটি করপোরেশনের মেয়াদের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। উপনির্বাচনে মেয়রের যে মেয়াদ হবে সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত কাউন্সিলরের মেয়াদও একই হবে। তাঁদের পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত করা হলে করপোরেশনের প্রতি মেয়াদে দুটি নির্বাচন দিতে হবে এবং তা সম্ভব না।’ 

এদিকে ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসি এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। আগামী ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসাবে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  

প্রসঙ্গত, মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ডিএনসিসির মেয়র পদ শূন্য হয়েছে গত ৩০ নভেম্বর থেকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে গেজেট জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ১৫(ঙ) ধারা অনুসারে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের আগে মেয়র বা কাউন্সিলরের পদ শূন্য হলে শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে মেয়রের শূন্যপদে উপনির্বাচনের।

আর গত জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ৩৬টি ওয়ার্ড গঠন করে সরকার। এ নিয়ে দুই সিটি করপোরেশনে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৯। এ বিষয়ে গত ২৬ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন এসব ওয়ার্ড গঠনের গেজেট জারি করে। এতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পুরনো ৩৬টির সঙ্গে নতুন করে ১৮টি ওয়ার্ড যোগ হওয়ায় ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪। আর দক্ষিণ সিটির ওয়ার্ডসংখ্যা ৫৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫।

ওয়ার্ড গঠনের আগে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গত ৯ মে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকূল, বেরাইদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও হরিরামপুর ইউনিয়নকে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত ছয়টি আসন হচ্ছে ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৩ নম্বর; ৩৭, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৪ নম্বর; ৪৩, ৪৪ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৫ নম্বর; ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৬ নম্বর; ৪৯, ৫০ ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৭ নম্বর এবং ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৮ নম্বর আসন।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নের কতিপয় এলাকাকে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত ছয়টি আসন হচ্ছে ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২০ নম্বর; ৭০, ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২১ নম্বর; ৬৭, ৬৮ ও ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২২ নম্বর; ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২৩ নম্বর; ৬১, ৬২ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২৪ নম্বর এবং ৫৮, ৫৯ ও ৬০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড।

 


মন্তব্য