kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

জিয়া পরিবার ৯৫০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জিয়া পরিবার ৯৫০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে

বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর সন্তানরা ৯৫০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন। বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভাটির আয়োজন করা হয়।

আলোচনাসভায় ৩২ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশকে মুক্তিযুদ্ধের পথে পরিচালিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহু বছরের চেষ্টা ও অবদান, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে নিয়ে যাওয়া, জিয়াউর রহমান, এইচ এম এরশাদ, খালেদা জিয়ার যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, সরকারে থেকে খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই পুত্রের দুর্নীতির নানা বিষয় তুলে ধরেন। বর্তমানে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে চলছে এবং আগামী দিনেও এভাবেই চলবে, বিজয় দিবসে এমন প্রতিজ্ঞার কথাও জানান শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একসময় ভাঙা স্যুটকেস থেকে জাহাজ বেরিয়েছে

 কোকো-১, কোকো-২; ইন্ডাস্ট্রি বেরিয়েছে। এখন আবার দেখছি শপিং মল বেরোচ্ছে, ফ্ল্যাট বেরোচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা বেরোচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে ৯৫০ কোটি টাকা তারা লুটে নিয়ে গেছে। তারা আবার স্বপ্ন দেখে ক্ষমতায় যাওয়ার, তারা আবার স্বপ্ন দেখে রাজনীতি করার।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমার এটাই আহ্বান, এই বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে, যারা এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়, এই দেশের মানুষ যেন ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত হয়। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা বাস্তবায়ন করছি। দেশের মানুষ উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এই উন্নয়ন চায় তারা কি কখনো ওই যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন করা বা মন্ত্রী বানাতে পারে? যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, তাদের সমর্থন করতে পারে? নাকি তাদের ভোট দিতে পারে?’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা সৃষ্টি করে, যারা ত্যাগ স্বীকার করে, তাদের যে দরদ থাকে, তাদের যে আন্তরিকতা থাকে, সেটা কিন্তু ওই উড়ে এসে ক্ষমতায় জুড়ে যারা বসে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, তাদের থাকে না। তারা ভোগ-বিলাসে জীবন কাটায়, তারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে। এই পাচার কিন্তু আমাদের কথা নয়। সিঙ্গাপুর কোর্ট কিন্তু বলেছে, খালেদা জিয়ার সন্তান মানি লন্ডারিং করেছে। এটা সেখানেই ধরা পড়েছে যেটা আমরা পরে উদ্ধার করেছি। কাজেই এরা কোন মুখে জনগণের সামনে দাঁড়াবে? কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইবে? এই স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজ, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকারীদের আর বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভোট দেবে না, এরা আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবেও না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীরা সাজা পেয়েছে, বিচারে ফাঁসি হয়েছে, সেই যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের ওই বিএনপি সংগঠনে সদস্য করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া বিএনপি তাদের সন্তানদের নিয়ে দল গঠন করেছে। তাহলে আমার প্রশ্ন, স্বাধীনতার কথাও বলবেন, আবার যারা যুদ্ধাপরাধী, যাদের ফাঁসি হয়ে গেছে—এমন যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নিয়ে দল গঠন করবেন?’ বিএনপি জামায়াতকে সমর্থনকারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের জ্ঞান বা কোনো বোধ শক্তি নেই? তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই?’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওরা যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়েছে। খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। সম্পদ ধ্বংস করেছে। আন্দোলনের নামে ওরা কি না করেছে? আমরা গড়ে তুলি ওরা ধ্বংস করে। দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে। জনগণ যখন প্রতিরোধ গড়েছে তখন বাধ্য হয়েছে থামতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, এবারের বিজয় দিবস ব্যাপকভাবে পালিত হয়েছে। সর্বস্তরের জনগণ, সব থেকে ভালো লেগেছে, এ দেশের তরুণসমাজ, একেবারে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণির মানুষ, তাদের মধ্যে যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে, চেতনা জাগ্রত হয়েছে, আমরা আশার আলো দেখি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে; উন্নত, সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলছে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে মাথা উঁচু করেই চলবে। এটাই হবে আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

আলোচনাসভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তুলনামূলক উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরেন। আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আলোচনাসভাটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

 



মন্তব্য

AZAD commented 22 hours ago
proman den na keno? chapabaji koren shomossha nai, proman shoho koren>