kalerkantho


চলে গেলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চলে গেলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক

চলে গেলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। তিনি গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বিবৃতিতে শোক জানিয়েছেন।

মন্ত্রী ছায়েদুল হক প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের সংক্রমণ নিয়ে গত অক্টোবরে বিএসএমএমইউতে ভর্তি হওয়ার পর গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি মারা যান। এর আগে তাঁকে শুক্রবার হাসপাতালে দেখতে যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে গতকাল রাষ্ট্রপতি তাঁর শোক বিবৃতিতে বলেন, ‘তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করল। দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ রাষ্ট্রপতি প্রয়াত ছায়েদুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোক বিবৃতিতে বলেন, ‘তিনি ছয় দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।’

মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালে বিএসএমএমইউতে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। এ দেশে অনেকে পাওয়ার পেলে তাঁর অপব্যবহার করে, কিন্তু পাওয়ার পেয়েও তাঁকে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারেনি। তাঁর মতো সত্মানুষ বিরল।’

সকাল ১১টার দিকে ছায়েদুল হকের মরদেহ মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়ায় সরকারি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছায়েদুল হকের মরদেহ নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে মরদেহ। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হবে।

ছায়েদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তাঁর একমাত্র ছেলে রায়হানুল হক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক।

ছায়েদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ সুন্দর আলী ও মা মেহের চান্দ বিবি। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন ছায়েদুল হক। ১৯৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন ছায়েদুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি নেওয়ার পর এলএলবি পাস করে আইন পেশায় যুক্ত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের পশ্চিমপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের মাঝেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক। আজ রবিবার বাদ জোহর তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে। সকালে নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্বভাগ এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে মন্ত্রীর মৃত্যুর খবরে তাঁর নিজ এলাকা নাসিরনগরে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দল-মত-নির্বিশেষে এলাকার মানুষ মন্ত্রীর পূর্বভাগের গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায়। তারা সবাই অপেক্ষায় আছেন মন্ত্রীকে শেষবারের মতো দেখার জন্য। মন্ত্রীর মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের গতকালের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। উপজেলা বিএনপি বিজয় দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান মামুনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এ কে এম একরামুজ্জামান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর গভীর শোক জানিয়েছেন। তাঁরা পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।



মন্তব্য