kalerkantho


ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব গৃহীত

মিয়ানমারে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার তাগিদ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার তাগিদ

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদ্যমান অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরো বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এর অংশ হিসেবে মিয়ানমারকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ—কোনোভাবেই অস্ত্র সরবরাহ না করতে ইইউর ২৮টি সদস্য দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকেও মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে ইপি সদস্যরা এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারী সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ইইউ ও এর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়াসহ যেসব দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে তাদের ওপর ইইউ ও সদস্যরা চাপ সৃষ্টি করবে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে আগে উত্থাপিত প্রস্তাবের খসড়া পরিবর্তন করে শাস্তির আহ্বানসহ বেশ কিছু বিষয় যোগ করা হয়। গত ৬ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিষয়ে ১২ দফা প্রস্তাবের খসড়া উত্থাপিত হয়েছিল। গতকাল যে ২৬ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তাতে নতুন করে ১৪টি দফা যোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা গত মঙ্গলবার রাতে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নতুন করে অবরোধ আরোপের ডাক দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নকারী সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান।

গত রাতে গৃহীত প্রস্তাবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতা, হত্যা, ধারাবাহিক বলপ্রয়োগসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতে উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা মিয়ানমার সরকারকে তার বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিবার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভকেও আহ্বান জানানো হয়ে। প্রস্তাবে ইইউতে মিয়ানমারের বাণিজ্য সুবিধা কাটছাঁটের বিষয়টি বিবেচনা করতে ইইউ বাণিজ্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মিয়ানমারকে অনতিবিলম্বে সহিংসতা থামাতে বলেছে এবং জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনসহ স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওই দেশে ঢুকতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মিয়ানমারকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে স্থলমাইন সরিয়ে নিতে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে স্বেচ্ছায়, সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার তাগিদ দিয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলেছে, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের একঘরে করে রাখার চর্চা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাবে মিয়ানমার সরকার ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্য ও উসকানির নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এ ছাড়া রাখাইন রাজ্যসহ মিয়ানমারজুড়ে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার ও সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আসিয়ান ও এ অঞ্চলের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে উদ্যোগ না নিলে সু চিকে দেওয়া শাখারভ পুরস্কার প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই প্রস্তাবে।

নৃশংসতা বন্ধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চীনসহ প্রধান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্রীড়নকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।



মন্তব্য