kalerkantho


‘এক মাসে হত্যা ৬৭০০ রোহিঙ্গা’

ডাবলিন সিটিতে খেতাব হারালেন সু চি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘এক মাসে হত্যা ৬৭০০ রোহিঙ্গা’

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে কথিত বিদ্রোহীদের ধরপাকড়ের নামে সামরিক বাহিনীর অভিযানের প্রথম মাসেই অন্তত ছয় হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ) গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ বিষয়ে এ যাবৎ পাওয়া সর্ববৃহৎ সংখ্যা। এদিকে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটির কাউন্সিলররা গতকাল মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে ইতিপূর্বে দেওয়া স্বাধীনতা খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে এর আগে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডসহ একাধিক সিটি সু চিকে দেওয়া সম্মাননা প্রত্যাহার করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান গত ৫ ডিসেম্বর সুস্পষ্টভাবেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

এরই মধ্যে এমএসএফ গতকাল বলেছে, ‘তারা বেশ কঠোরভাবে হিসাব-নিকাশ করে দেখেছে এক মাসে অন্তত ছয় হাজার সাত শ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৩০টি শিশু, যাদের বয়স পাঁচ বছরের কম।’

এমএসএফ জানায়, এক মাস ধরে রোহিঙ্গা শিবিরে দুই হাজার ৪৩৪টিরও বেশি পরিবারের ওপর চালানো ছয়টি সমীক্ষা থেকে তারা ওই তথ্য পেয়েছে।

এমএসএফের মেডিক্যাল ডিরেক্টর সিডনি ওং বলেন, ‘মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বেঁচে এসে বাংলাদেশে জনাকীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আমরা দেখা করেছি ও কথা বলেছি। তারা তাদের পরিবারের যেসংখ্যক সদস্যদের এবং যেভাবে হত্যার শিকার হওয়ার কথা বলেছে তাতে আমরা হতভম্ব হয়েছি।’

এমএসএফের জরিপে দেখা গেছে, বন্দুকের গুলিতেই ৬৯ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাকিদের মধ্যে ৯ শতাংশকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ৫ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে পিটুনিতে। নিহত পাঁচ বছরের কম বয়সী রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে গুলিতে।

অন্যদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অভিযানের শুরুর দিকের সপ্তাহগুলোতে নিহত হয়েছে মাত্র ৪০০ জন। এদের মধ্যে ৩৭৬ জনই রোহিঙ্গা ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।

তবে এমএসএফ বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গারাই।

এদিকে বিবিসি জানায়, ডাবলিন সিটির কাউন্সিলররা গতকাল সু চিকে দেওয়া ‘ডাবলিন সিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খেতাব পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় সু চির নাম থাকার প্রতিবাদে গত মাসে সংগীতশিল্পী বব জেলডফ তাঁকে দেওয়া ‘ডাবলিন সিটি অ্যাওয়ার্ড’ ফিরিয়ে দেন।

গতকাল সু চির খেতাব প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে ৫৯ জন কাউন্সিলরের প্রায় সবাই সমর্থন করেন। মাত্র দুজন কাউন্সিলর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এবং একজন ভোটে অনুপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য