kalerkantho


সামাদের মাধ্যমেই জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়েছিলেন তামিম

সামাদ মামুসহ ৩ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০




সামাদের মাধ্যমেই জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়েছিলেন তামিম

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় তামিম আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে ২০১৪ সালে ‘জুনুদ আল তাওহীদ আল খিলাফাহ’ নামে জঙ্গিদের সমন্বিত সংগঠন গঠন করেছিলেন আব্দুস সামাদ ওরফে মামু ওরফে আরিফ ওরফে আশিক। কিছুদিন পর উত্তরাঞ্চলের দুর্ধর্ষ জঙ্গি মামুনুর রশিদ রিপন এবং জেএমবির পৃষ্ঠপোষক সরোয়ার জাহানের সঙ্গে মিলে তাঁরা নব্য জেএমবি গঠন করেন। সেখানে তামিমের পরের ভূমিকাটিই পালন করেন আব্দুস সামাদ মামু। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত বুধবার রাতে আব্দুস সামাদ মামু, তাঁর শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম ও সহযোগী আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী ওরফে শিশিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ২০০ ডেটোনেটর জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সিটিটিসি ইউনিটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালের শেষ দিকে দেশে আসেন তামিম। তখন হাতে অনেক টাকা থাকলেও বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালানোর মতো লোক খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ২০১৪ সালে তামিমকে নিয়ে আব্দুস সামাদ মামু গঠন করেন ‘জুনুদ আল তাওহীদ আল খিলাফাহ’। ওই সময়ই এবিটির আদর্শধারীরা আনসার আল ইসলাম নামে সংগঠিত হয়। তখন জঙ্গি মামুনুর রশিদ রিপন ও সরোয়ার জাহানের সঙ্গে তামিমের পরিচয় করিয়ে দেন মামু। তাঁরা জুনুদ আল তাওহীদের মোর্চা বাদ দিয়ে নব্য জেএমবি গঠন করেন। ২০১৫ সালে হোসেনি দালানে হামলার ঘটনায়

মামুর নাম প্রথম উঠে আসে। পরে তদন্তে জানা গেছে, এই মামুই পুরনো জঙ্গিদের সঙ্গে তামিমের সম্পর্ক গড়ে দিয়েছিলেন।

গতকাল দুপুুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আব্দুস সামাদ ওরফে মামুর বাড়ি দিনাজপুরে। ২০১০ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। এর আগে কওমি মাদরাসা থেকে ২০০২ সালে দাওরা হাদিস এবং ২০১১ সালে আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল পাস করেন। তিনি আরবি ভাষায় অনেক দক্ষ। নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করার পর মামু বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে গিয়ে মোটিভেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন। এ ছাড়া একই সঙ্গে নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহে অন্যদের সহায়তা করতেন। সামাদ ওরফে মামুর শ্বশুর জিয়াদুল ইসলামের মাছের খামারে পানির নিচে তাঁরা ডেটোনেটর লুকিয়ে রাখতেন। পরে চাহিদামতো তা নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করা হতো।

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগে সামাদ মামুকে আবার উত্তরবঙ্গে সদস্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সামাদ ওরফে মামুর বিষয়ে হলি আর্টিজানে হামলা বা এর আগে-পরে অন্যান্য হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পরিকল্পনাসহ নানা রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হোসেনি দালানে বোমা হামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রথমে মামু নামটি জানা যায়। অনেক সাংবাদিকই আগে প্রশ্ন করেছেন, তামিম দেশি জঙ্গিদের সঙ্গে কিভাবে মিলিত হলো? মূলত ২০১৪ সালে এই মামুর মাধ্যমেই সে নব্য জেএমবি গড়ে তোলে। তাকে প্রথম দিকের নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বা সম্পাদকও বলা যায়।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবি বর্তমানে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। তাদের নতুন করে বড় ধরনের কোনো হামলা করার শক্তি বা সামর্থ্য নেই। তাদের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ হিসেবে যারা কাজ করত তাদের প্রায় সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। তবে যারা এখনো আত্মগোপনে রয়েছে তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে সন্তুটির কিছু নেই।

 


মন্তব্য