kalerkantho


ভর্তি জালিয়াতিতে ঘুরেফিরে তিন চক্র

► ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রেস থেকেও
► বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ আরো গ্রেপ্তার ১০

এস এম আজাদ   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভর্তি জালিয়াতিতে ঘুরেফিরে তিন চক্র

প্রযুক্তির সহায়তায় শুধু বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি হয়নি, একটি প্রেস থেকেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে। রাজধানীর ইন্দিরা রোডের ‘পিপলস প্রিন্টিং প্রেস’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খান বাহাদুর ও তাঁর প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামের সহায়তায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে একটি চক্র। ওই চক্রের হোতা নাটোর ও পাবনা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রকিবুল হাসান ইসাহী। আর বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত দুটি বড় সিন্ডিকেট। একটির প্রধান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) বরখাস্ত হওয়া সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) অলিপ কুমার বিশ্বাস। তিনি এখনো পলাতক। অন্য সিন্ডিকেটের হোতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হওয়া নাভিদ আনজুম তনয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি নিয়ে ধারাবাহিক তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংঘবদ্ধ অপরাধ ইউনিট এসব তথ্য উদ্ঘাটন করেছে।

গত এক সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে তাঁরা শনাক্ত করতে পেরেছেন। জড়িত কয়েকজনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ভর্তি ও নিয়োগ জালিয়াতির হোতারা আগে ধরা পড়েনি। সহযোগিতা পেলে তদন্তকারীরা চক্র ধরতে সক্ষম। তবে বরাবরই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি বলে দাবি করে আসছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠলেও তোয়াক্কা করেনি কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতিতে জড়িত এবং জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাপারেও এখনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সাইফুলের মাধ্যমে বাহাদুর ও ইসাহীর যোগাযোগ হয়। পরে প্রেস কর্মচারী বাহাদুর প্রশ্ন দেন ইসাহীকে। চক্রটি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ২৪ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে। এ ছাড়া উত্তর সরবরাহের জালিয়াতিতে জড়িত দুটি চক্র। এসব চক্র মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা এবং ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায়ও জালিয়াতি করেছে। প্রতিটি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির জন্য দুই থেকে সাত লাখ টাকা নিয়ে থাকে তারা। দুই দলে অন্তত ১২ জন ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতিতে জড়িত, যাদের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

গত ২০ অক্টোবর জালিয়াতি ধরার পর থেকে সিআইডি ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ১৯ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জালিয়াতচক্রের সদস্য ও জালিয়াতির সুবিধা নেওয়া শিক্ষার্থীরা আছে তাদের মধ্যে। শেষ ধাপে গ্রেপ্তার করা ১০ জনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের নির্দেশে ইসাহীসহ তিন আসামিকে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। গতকাল বাহাদুর ও সাইফুলের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া জালিয়াতি করে পরীক্ষা দিতে যাওয়া ১২ শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ ইউনিটের প্রধান বিশেষ সুপার (এসএস) মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মোট তিনটি গ্রুপকে শনাক্ত করতে পেরেছি। একটি দলের হোতা তনয়। আরেকটি দলের হোতা পলাতক অলিপ। এরা দু-এক বছর ধরে ডিভাইসের মাধ্যমে করছে। আর ইন্দিরা রোডের পিপলস প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারী খান বাহাদুর ও তার বন্ধু সাইফুলের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করেছে ইসাহী। সে একটি চক্রে প্রশ্ন ফাঁস করেছে। এসব চক্রে জড়িত ২৩-২৪ জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তারা অপরাধ স্বীকারও করেছে। এখনো অলিপসহ সাত-আটজন বাইরে আছে।’ তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক জালিয়াতিতে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে কয়েকজন আছে, যারা মেডিক্যাল ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায়ও জালিয়াতিতে জড়িত। এসব সূত্র ধরেও তদন্ত করা হবে।

গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ধারাবাহিক তদন্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্রের মূল উৎপাটন সম্ভব হয়েছে।

ধারাবাহিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, এই চক্র শুধু ডিভাইস সাপ্লাইয়ের সঙ্গে জড়িত এমন নয়, তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেও জড়িত। গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর জিগাতলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নাজমুল হাসান নাঈমকে। ৯ ডিসেম্বর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বনি ইসরাইলকে। রাজশাহীর বিনোদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মারুফ হোসেনকে। বনি ও মারুফ দুজনই ভর্তি জালিয়াতির জন্য ছাত্র সংগ্রহ এবং রকিবুল হাসান ইসাহীকে ছাত্রদের তথ্য সরবরাহ করতেন। ইসাহী নাটোর ও পাবনা জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা। তাঁকে ১১ ডিসেম্বর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে ১৩ ডিসেম্বর জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাইফুল ইসলামকে। তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল থেকে পাস করে বিভিন্ন কাজ করতেন। সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুরের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ইন্দিরা রোডের একটি প্রেসে ২০১০ সাল থেকে কাজ করছেন। আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন তিন বছর ধরে।

মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম জানান, গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করার পর ৭ ডিসেম্বর টি এম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম ও আখিনুর রহমান অনিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোল্ল্যা নজরুল বলেন, ‘তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, এদের মধ্যে শুধু ডিভাইস সাপ্লাই গ্রুপই নয়, প্রশ্ন ফাঁসের গ্রুপও জড়িত।’

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, বিকেএসপির সাবেক কর্মকর্তা অলিপ ও ক্রীড়া কর্মকর্তা ইসাহী ভিন্নভাবে জালিয়াতি করতেন। তাঁরা একসঙ্গে যুক্ত নন। এই জালিয়াতির সঙ্গে উত্তরা রাজউক কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীরও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ইসাহী আগে ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে মারুফ, বনি প্রশ্ন সংগ্রহ করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ পেত তনয়ের কাছ থেকে। এভাবে ২০১৫ সালে ১০-১২ জন জালিয়াতি করে। ২০১৬ সালে জালিয়াতি করে আরো কয়েকজন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জড়িতরা যে ছাত্র সংগঠনেরই হোক না কেন কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এখানে একটি বড় ছাত্র সংগঠন আমাদের তদন্তে সহায়তাও করেছে।’

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ইসাহীসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বাহাদুর ও সাইফুলকে গতকাল এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এক দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টি এম তানভির হাসনাইন, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের সুজাউর রহমান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফসান করিম, বাংলা বিভাগের আখিলুর রহমান ও নাজমুল হাসান নাঈমকে। রিমান্ড শেষে গত ৯ ডিসেম্বর তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ইসাহীর সঙ্গে রিমান্ডে থাকা বনি ইসরাইল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের ছাত্র।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ইসাহী পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের এছাম উদ্দিনের ছেলে। আর খান বাহাদুর ও সাইফুলের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে। খান বাহাদুর ইন্দিরা রোডের ৬৭/ ২ নম্বর ভবনের পিপলস পিন্টিং প্রেসে কর্মী হিসেবে চাকরি করেন। প্রেসের ভেতরেই তিনি থাকতেন। সাইফুল ঢাকায় এসে একটি ওষুধ কম্পানিতে চাকরি নেন। তিনি খান বাহাদুরের কাছে আশ্রয় নেন। খান বাহাদুর একদিন হঠাৎ সাইফুলকে ‘গোপনীয় কাজ’ আছে বলে বাইরে গিয়ে থাকতে বলেন। পরে প্রেসে ফিরে সাইফুল খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপ্রত্র ছাপা হয়। কিছুদিন পর সাইফুল উত্তরায় ইসাহীর সঙ্গে মেসে থাকা শুরু করেন। তিনি ইসাহীকে প্রেসে প্রশ্ন ছাপা হওয়ার কথা বলতেই ইসাহী প্রথমে এক আত্মীয়র জন্য প্রশ্ন নিতে বলেন। সাইফুল এ ব্যাপারে খান বাহাদুরকে রাজি করান। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে তাঁরা পরীক্ষার আগেই ইসাহীর হাতে প্রশ্ন তুলে দেন।

সিআইডি সূত্রের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে প্রেস কর্তৃপক্ষের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিপলস প্রিন্টিং প্রেসের মালিক মামুন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে একজন কর্মচারী বিশ্বাস ভাঙতে পারে! আমি কোনোভাবে টের পাইনি। এর কিছুই আমি জানতাম না।’

একটি সূত্রে জানা যায়, ডিভাইস নিয়ে জালিয়াতি করা চক্রের কাছেও প্রেস থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে যায়। আবার ডিভাইস জালিয়াতরা প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এ জন্য দুই থেকে সাত লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এই চক্রের অনেক শিক্ষার্থীও জড়িত। অলিপ ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা গাঢাকা দিয়ে আছেন। নজরদারিতে আছেন কয়েকজন।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ধরা পরে। ওই দিনই ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২ ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ইশরাক আহমেদ রাফীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ২৪ অক্টোবর রানা ও রাফী আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও মামুন দেননি। পরে আবার তাঁকে রিমান্ডে নেয় সিআইডি। ২৮ অক্টোবর মামুনও স্বীকারোক্তি দেন। গত ১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোবহান নাফি এবং ৩ নভেম্বর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আনিন চৌধুরী আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ২৪ নভেম্বর তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাভিদ আনজুম তনয় আদালতে জবানবন্দি দেন ২১ নভেম্বর। আকাশ নামের তনয়ের এক সহযোগীও ২৪ নভেম্বর জবানবন্দি দেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার নাফি জবানবন্দিতে জানান, তনয়, আনিন চৌধুরী ও তাঁর সিন্ডিকেট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ও নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে উত্তর পাঠাতেন। সিআইডি তথ্য পায়, আনিনের অ্যাকাউন্টে মোর্শেদ চৌধুরী নামের এক অভিভাবক ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন। মেয়েকে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ওই টাকা দেন। তনয়ের অ্যাকাউন্টে ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মেডিক্যালে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষার ডিভাইসে জালিয়াতির বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলে জানায় সিআইডি।

২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন রানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৪ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এলেও আর কারো বিরুদ্ধে তদন্ত বা ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ যদি জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য