kalerkantho


পেঁয়াজের বদলে পাতা পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পেঁয়াজের বদলে পাতা পেঁয়াজ

পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে অনেক দিন ধরেই। এই পরিস্থিতিতে অনেকে পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ ঝুঁকছে বাজারে আসা দেশি পাতা পেঁয়াজে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গতকাল সোমবার অনেক ক্রেতাকে পাতা পেঁয়াজ কিনতে দেখা গেছে। তারা জানায়, পাতা পেঁয়াজের সঙ্গে কচি পেঁয়াজও থাকছে। তাই পেঁয়াজ না কিনে তারা পাতা পেঁয়াজ কিনছে। সবজি হিসেবে পেঁয়াজপাতা খাওয়া যাচ্ছে আবার মসলা হিসেবে ব্যবহার  করা যাচ্ছে কচি পেঁয়াজকে।

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ ১১৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা এবং খুচরায় প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। সেখানে নতুন ওঠা দেশি পাতা পেঁয়াজ বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। 

পেঁয়াজের এই ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে ভোক্তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

আবার পেঁয়াজের দাম নিয়ে অভিযোগ-আপত্তি জানানোর কোনো জায়গা না পেয়ে ভোক্তারা সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গোক্তি প্রকাশ করছে।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ আসলে বলে বলে ক্লান্ত। নিয়ন্ত্রকরা যখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো প্রকার গা করছে না তখন মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই তারা বিকল্প পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’ পেঁয়াজ বাজারের অস্থিরতা ঠেকাতে না পারা সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংস্থাটি তৈরিই করা হয়েছে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু এটি এখন ঘুমন্ত। রমজান মাস ছাড়া এদের কার্যক্রম নেই। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে রাজীব আহমদ নামের একজন বলেছেন, ‘১২৫ টাকায় এক কেজি দেশি পেঁয়াজ কিনলাম। আগে রান্নাঘরে রাখতাম। দামের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজ খাবার টেবিলে রাখছি।’

রাজীবের মতো অনেক ক্রেতাই এখন ফেসবুকে এভাবে করে পেঁয়াজের মাত্রাতিরিক্ত দামের বিষয়ে ঠাট্টা করছে। তারেক হোসাইন, আসাদুর রহমানসহ অনেক ভোক্তাই তাদের ফেসবুকে প্রফাইল পিকচার দিয়েছে পেঁয়াজের।

আবার একজন লিখেছেন, ‘দুঃসংবাদ! বাসায় পেঁয়াজ শেষ। খবরে পড়লাম পেঁয়াজ ও মুরগির দাম একই। পেঁয়াজ কিনব, না মুরগি কিনব?’  

টিসিবির হিসাবে দেখা গেছে, এই সময়ে দেশি পেঁয়াজের যে দাম তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০৭ গুণ বেশি। গত বছর এই সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ পর্যন্ত। গত বছর এই সময়ে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের ২৩ নম্বর আড়তের পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা লোকমান জানান, আরো ১০-১২ দিনের আগে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। নতুন পেঁয়াজ বাজারে পুরোদমে না এলে দাম কমবে না।

তবে খুচরা সবজি দোকানিদের কাছে দেখা গেল, সামান্য কিছু পেঁয়াজ রেখে তারা বেশি করে বিক্রি করছে পাতা পেঁয়াজ।

শুক্রাবাদের সবজি বিক্রেতা সুমন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। যারা কিনছে তারা এক পোয়া করেই বেশি কিনছে। এই ক্রেতারাই আগে অন্তত এক কেজি করে কিনত। এ জন্য আমরাও পেঁয়াজ আনা কমিয়েছি। পাতা পেঁয়াজটাই বেশি চলছে।’

 



মন্তব্য