kalerkantho


টেস্ট নেতৃত্বেও ফিরলেন সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



টেস্ট নেতৃত্বেও ফিরলেন সাকিব

বিপিএলে দেশের অন্য শীর্ষ ক্রিকেটাররা যেখানে পারফর্ম করেছেন, সেখানে তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ। মুশফিকুর রহিম নিজেও রান করেননি। তাঁর দল রাজশাহী কিংসও পৌঁছায়নি সেরা চারে। এই সময়টায় একটু প্রশান্তির খোঁজে থাইল্যান্ডে গিয়েই তিনি শুনলেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট নেতৃত্ব হারানোর খবর। তাঁর হারানোর দিনে কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ার পথে আরেক ধাপ এগোলেন সাকিব আল হাসান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়েই শুরু করেছেন তাঁর নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়। এবার হলেন টেস্ট অধিনায়কও, এই অলরাউন্ডারের কাছ থেকে যে দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। আর চন্দিকা হাতুরাসিংহের সময়ে টেস্ট থেকে একরকম বিবেচনার বাইরে চলে যাওয়া মাহমুদ উল্লাহকে করা হয়েছে সাকিবের ডেপুটি।

২০১১ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থতার সফরের পরপরই সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সাকিবকে। ছয় বছর পর আবার একে একে ফিরে পেলেন দুই ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের সভায় মুশফিককে সরিয়ে সাকিবকে টেস্ট অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত হয়। এমন কিছু যে হতে চলেছে, তা অবশ্য অনুমিতই ছিল। কারণ দুঃস্বপ্নের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মুশফিকের নেতৃত্বে দুই টেস্টে অত্যন্ত বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। পচেফস্ট্রুমে সিরিজের প্রথম টেস্টে হার ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্লুমফন্টেইনে শেষ টেস্টে ব্যবধান আরো বড়, ইনিংস এবং ২৫৪ রানে।

এই ব্যর্থতার সঙ্গে সিরিজ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমে মুশফিকের বিরূপ কিছু মন্তব্যেও নাখোশ ছিল বিসিবি। সেসবও যে তাঁর টেস্ট নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের বক্তব্যে আছে সেই ইঙ্গিতও, ‘একেবারেই যে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে, তা নয়। আর থাকলেও সেটা বলা যাবে না।’ যদিও এই সিদ্ধান্ত মুশফিককে নিজেই জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘ও থাইল্যান্ডে আছে। আমি ওর সঙ্গেও কথা বলেছি।’ টেস্ট নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার পেছনে আনুষ্ঠানিক এ ব্যাখ্যাটিই দিলেন নাজমুল, ‘আমরা মনে করেছি, এখানে একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। মুশফিকুর রহিমের সেরা ব্যাটিংই আমরা চাইছি। আমরা চাইছি সে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিক। সে জন্য ওকে আমরা চাপমুক্ত রাখতে চাচ্ছি।’

সেই সঙ্গে অধিনায়কত্ব বদলে ভবিষ্যৎ ভাবনার কথাও বলেছেন নাজমুল, ‘সার্বিকভাবে আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, তাতে এখনকার কথা ভাবলেই শুধু হবে না। ভাবছি আগামী চার-পাঁচ বছরের কথা। সে জন্য যে পরিকল্পনা, তারই একটা পদক্ষেপ টেস্ট নেতৃত্বে পরিবর্তন।’ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সব ফরম্যাটেই অধিনায়ক করা হয়েছিল মুশফিককে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ উইনিং ইনিংসেই শুরু হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বের অধ্যায়। তবে ২০১৪ সালে টানা ব্যর্থতায় সেই বছরের অক্টোবরে তাঁকে সীমিত ওভারের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে অধিনায়ক করা হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। টেস্ট অধিনায়ক থেকে যান মুশফিকই।

তাঁর নেতৃত্বে খেলা ৩৪ টেস্টের মধ্যে সাতটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে আছে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়। শ্রীলঙ্কায় নিজেদের শততম টেস্টও বাংলাদেশ জিতেছে তাঁর অধিনায়কত্বে। তাঁর অধীনে ১৮ টেস্টে হারের পাশাপাশি ৯টিতে ড্র-ও করেছে বাংলাদেশ। কালই মুশফিকের জায়গা নেওয়া সাকিবের জন্যও টেস্ট অধিনায়কত্ব নতুন নয়। ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি চোটে পড়ায় ঘটনাচক্রে অধিনায়ক হওয়া সাকিব বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৯ টেস্টে। এর মধ্যে একমাত্র জয়টি এসেছিল কম জোরের ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাঁর দায়িত্বের প্রথম টেস্টেই। সেটি কেড়ে নেওয়ার পর আবার ফিরে পেলেন ছয় বছর পর। তাঁর সঙ্গে সহ-অধিনায়কত্ব নিয়ে টেস্ট বিবেচনায় ফিরলেন মাহমুদ উল্লাহও।

তাতে আবার ছিটকে পড়লেন তামিম ইকবালও। এত দিন টেস্টে তিনিই ছিলেন মুশফিকের ডেপুটি। কেন তামিমকে এই দায়িত্বে বিবেচনা করা হলো না, সেই ব্যাখ্যা অবশ্য দেননি বিসিবি প্রধান। হতে পারে বিপিএলের বাজে উইকেট নিয়ে তামিমের সাম্প্রতিক ঝাঁজালো মন্তব্যই এর কারণ! 


মন্তব্য