kalerkantho


হলফনামায় তথ্য গোপন

মুক্তির এমপি পদ বাতিল চেয়ে ইসিকে দুদকের চিঠি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তির এমপি পদ বাতিল চেয়ে ইসিকে দুদকের চিঠি

হলফনামায় সম্পদের প্রকৃত তথ্য না দেওয়ায় ময়মনসিংহ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সচিব মো. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তি সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় সম্পদ বিবরণীতে সম্পদ কম দেখিয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচনী আইন অনুসারে হলফনামার মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে আট বিষয়ে তথ্য জমা দেন এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। সেখানে তিনি তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর মিলে মোট সাড়ে চার লাখ টাকার সম্পত্তি আছে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর আগে তিনি গত ৩০ জুন ২০১৩ সালে উপকর অঞ্চল সার্কেল-৬-এ (মুক্তাগাছা) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখান ৫৬ লাখ চার হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া তিন লাখ টাকার সম্পদের তথ্যও নির্বাচন কমিশন ও আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের অসত্য হলফনামা দাখিল নৈতিকতার পরিপন্থী।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন (আরপিও) অনুযায়ী, হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়টি ভোটের আগে প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর এ বিষয়ে সরাসরি কিছু করার নেই নির্বাচন কমিশনের। ড. এ টি এম শামসুল হুদার কমিশন হলফনামায় মিথা তথ্য দিয়ে কেউ নির্বাচিত হলে নির্বাচনের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার পক্ষে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করেছিল। কিন্তু কাজী রকিবের কমিশন সে প্রস্তাব সমর্থন করেনি।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবুল মোবারক এ প্রতিবেদককে বলেন, হলফনামায় তথ্য গোপন করার জন্য নির্বাচন কমিশন কোনো সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের ক্ষমতা না রাখলেও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য মামলা করতে পারে। সে মামলায় শাস্তি হলে তখন তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতে পারে।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জাতীয় সংসদে রাজশাহী-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এনামুল হকের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূতভাবে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে চিঠি লেখে এবং তাঁর সদস্য পদ বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে। নির্বাচন কমিশন ওই সময় জানায়, দুদকের ওই চিঠির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এমনকি এ বিষয়ে দুদকের চিঠির কোনো জবাবও দেওয়া হবে না। ২০১২ সালের ১২ মে ইসির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ওই বছরের ৯ মে এ বিষয়ে দুদকের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। ওই দিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য যদি দুর্নীতি করেন তাহলে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার দুদকের আছে বলে মনে হয় না। এই এখতিয়ার সংসদের।

এদিকে সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তির বিরুদ্ধে দুদকের চিঠির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দুদকের চিঠি পেয়েছি। এর আইনগত দিক খতিয়ে দেখে চিঠিটি কমিশনে উত্থাপন করা হবে।’

সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁর মোবাইল ফোনটি গতকাল সন্ধ্যায় বন্ধ পাওয়া যায়।

 



মন্তব্য