kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছি

যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের যাত্রা শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছি

ফাইল ছবি

দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ ছাড়া কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ব্যয় হয় তার চেয়ে অনেক কম দামে আমরা বিদ্যুৎ দিচ্ছি। তাই সবাইকে এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের যেন কোনো অপচয় না হয়।’

গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

একই স্থান থেকে দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তখন তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্য ভবিষতে আমাদের রপ্তানিতে সব থেকে বড় অবদান রাখবে। কাজেই আমাদের ছেলেমেয়েদের সেভাবেই আমরা প্রশিক্ষণ দিতে চাই।’

বাসস জানায়, নতুন চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে—শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্লান্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, শাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট এবং সরিষাবাড়ী ৩ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট। শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০টি উপজেলা হচ্ছে—ফরিদপুর সদর, রাজৈর, নওগাঁ সদর, কামারখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া, শালিখা, মেহেরপুর সদর, মদন ও বেলাব।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় আমরা বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট। আর আমরা ২০০১ সালে যখন ক্ষমতা থেকে যাই তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে রেখে গিয়েছিলাম চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। অথচ ২০০৯ সালে যখন পুনরায় সরকার গঠন করি তখন আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ নেমে আসে তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াটে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৬০০ মেগাওয়াট নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ক্যাপটিভ জেনারেশনসহ ১৬ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছি।’ তাঁর সরকার বিদ্যুতের বহুমুখীকরণেও গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেমন সোলার পাওয়ার প্লান্ট করছি, তেমনি পরমাণু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও করছি। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি আবার ভারত থেকেও বিদ্যুৎ কিনে নিয়ে আসছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘৮৩ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। সব থেকে আনন্দের বিষয়, জাতীয় গ্রিডে সোলার বিদ্যুৎ আজ থেকে যোগ হচ্ছে। যদিও এটা খুব ব্যয়বহুল, তার পরও আজ যে যাত্রাটা শুরু হলো ভবিষ্যতে এই সোলার বিদ্যুতের যে উৎপাদনটা হবে, সেখানে ব্যবহারের অতিরিক্তটা আমাদের জাতীয় গ্রিডে চলে আসবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, আজকের ১০টিসহ এ পর্যন্ত ৩৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ বিপু গণভবন প্রান্ত থেকে বক্তব্য দেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম মুতাইরি, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল হায়াৎ প্রমুখ গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে যশোরে আইটি পার্কের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় আমরা একটা করে হাইটেক পার্ক করে দেব।’ সরকার আশা করছে, ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতের আয় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং জিডিপিতে সফটওয়্যার ও আইসিটি সেবা খাতের অবদান ৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, মানুষ তখন কম্পিউটার ব্যবহার করত না। কেউ কেউ শখ করে কম্পিউটার কিনলেও শোপিসের মতো সাজিয়ে রাখত আর ব্যবহার করত টাইপরাইটার মেশিন হিসেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের কোনো আন্তর্জাতিক সংযোগ ছিল না। দেশের তথ্য চুরি হয়ে যাবে এই অজুহাত দেখিয়ে বিএনপি সাবমেরিন কেবলের সংযোগ দেয়নি। তারা (বিএনপি) টাকা-পয়সা বানানোর তালেই ব্যস্ত ছিল। আমরা নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি জ্ঞান দেওয়ার জন্য কম্পিউটারে শুল্ক কমিয়েছি।’ 

অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। 

যশোর থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, যশোরে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, মনিরুল ইসলাম মনির, রণজিৎ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ই দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই পার্কে ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি ৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই পার্কের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, সরিষাবাড়ীর তিন মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধন উপলক্ষে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর, পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাভডোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ সদর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুত্তায়নের উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সংসদ সদস্য মো. আবদুল মালেক, জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আখাউড়া উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেছা বাপ্পী, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পৌর মেয়র নায়ার কবির, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর সদর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হিসেবে উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রসুল প্রমুখ।

 



মন্তব্য