kalerkantho


রুদ্ধশ্বাস জয় রংপুরের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রুদ্ধশ্বাস জয় রংপুরের

রুদ্ধশ্বাস জয়!: ঢাকা ডায়নামাইটসের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে আনল রংপুর রাইডার্স। শেষ ২ বলে ঢাকার জিততে চাই ৪ রান, ক্রিজে কিয়েরন পোলার্ড। ওভারের পঞ্চম বলে থিসারা পেরেরা ছত্রখান করে দেন পোলার্ডের স্টাম্প। পরের বলে আবু হায়দারকে বোল্ড করে রংপুরকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন এই লঙ্কান অলরাউন্ডার। এমন জয়ের পর অধিনায়কের হাসিটা তো চওড়া হবেই! ছবি : মীর ফরিদ

সাত ওভারে ১ উইকেটে ৭১। এখান থেকে একটা দলের রান কত হতে পারে? নিদেনপক্ষে ১৭১ তো বটেই।

হাতে ৯ উইকেট, শেষ ১৩ ওভারে ১০০ রান হবে না কেন?

হলো না। প্রথম সাত ওভারে যে রংপুর রাইডার্স তোলে ৭১ রান; তারা ঠিক ওই ৭১ রান তোলে শেষ ১৩ ওভারে। নাহ, একটু ভুল হলো। পুরো ১৩ ওভারও খেলতে পারেনি।

এক বল বাকি থাকতেই অল আউট ১৪২ রানে। তবু ওই অল্প পুঁজি নিয়েই দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় রংপুর। ৩ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে ছয় ম্যাচে ৬ পয়েন্ট হয়ে গেল। আর আট খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়তে নেমে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস।

ম্যাচের শুরুতে ক্রিস গেইল-ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ব্যাটে ছিল ধ্বংসের সুর।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার রংপুরকে এনে দেন ঝোড়ো সূচনা। চার ওভারে ৩৬ রানের। গেইল অবশ্য এর মধ্যেই একটি সুযোগ দিয়ে যান বেঁচে। ইনিংসের দ্বিতীয় এবং সুনীল নারিনের প্রথম ওভারে তা। সাত রানে থাকা ক্যারিবিয়ান দানোর ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। শর্ট থার্ড ম্যানে সহজ ক্যাচ। কিন্তু সেটিকে ফেলে দেন আবু হায়দার। পরের ওভারেই মোহাম্মদ আমিরকে ছক্কা গেইলের। আর জাতীয় দলের সতীর্থ নারিনের করা চতুর্থ ওভারে টানা তিন বলে চার, চার, ছয়।

পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই ম্যাককালামকে (৮ বলে ৬) বোল্ড করেন একাদশে ফেরা আফ্রিদি। গেইলের তাতে থোড়াই কেয়ার। বুনো উদ্দামতায় ছুটতে থাকে তাই রানের চাকা। আফ্রিদিকে ওই ওভারেই ছক্কা মারেন। আমিরকে পরের ওভারে টানা দুই চার। আর আফ্রিদিকে লং অনের ওপারে আছড়ে ফেলা আরেক ছয়ে পূর্ণ হয়ে যায় তাঁর পঞ্চাশ। মাত্র ২৬ বলে। সাত ওভার শেষে ১ উইকেটে ৭১ রানের দারুণ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যায় রংপুর রাইডার্স।

অষ্টম ওভারে আক্রমণে আসা মোসাদ্দেক হোসেনের বাজে বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট গেইল (২৮ বলে ৫১)। শুরুর দিকে ক্যাচ ফেলা সেই আবু হায়দারই এবার মুঠোবন্দি করেন বল। তাঁর এই প্রায়শ্চিত্তের পথ বেয়ে যে অমন প্রবল দাপুটে প্রত্যাবর্তন হবে ঢাকা ডায়নামাইটসের, ভাবা যায়নি। রংপুরের আর কোনো ব্যাটসম্যান ইনিংসটা টেনে নিতে পারেননি। না মোহাম্মদ মিঠুন (২৬ বলে ২২), না শাহরিয়ার নাফীস (৯ বলে ৯), রবি বোপারা (১৬ বলে ১২), জিয়াউর রহমানরা (৯ বলে ৪)। ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে প্রমোশন দেওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা (১১ বলে ১৫) এবং লোয়ার অর্ডারের স্পেশালিস্ট থিসারা পেরেরার (৯ বলে ১৫) মেজাজে প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু তা পুরোপুরি প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই যায় ঝরে। উল্টো শেষ ওভারে পাঁচ বলের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে সাকিবের ইনিংসে হয়ে যায় পাঁচ শিকার। ১৪২ রানে আটকে যায় রংপুর।

এই পুঁজিতে লড়াইয়ের জন্য শুরুটা যেমন হওয়া প্রয়োজন, তেমনটাই মাশরাফির দলের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অধিনায়ক ফিরিয়ে দেন আগের ম্যাচে ৭৬ রান করা সুনীল নারিনকে (০)। সাকিব আল হাসানকে (১১) বোল্ড করেন সোহাগ গাজী। তবু জয়ের কক্ষপথ থেকে সরানো যায় না ঢাকা ডায়নামাইটসকে। এভিন লুইসের খুনে ব্যাটিংয়ে রংপুরের স্বল্প সংগ্রহকে মনে হয় আরো অল্প। আট ওভারেই ২ উইকেটে ৬৮ রানে পৌঁছে যায় ঢাকা। জয়ের জন্য তখন ৭২ বলে প্রয়োজন ৭৫ রান।

এরপর ম্যাচের নাটকীয় পটপরিবর্তন। সোহাগের বলে এলবিডাব্লিউ লুইস (২৫ বলে ২৮)। মাশরাফি বোল্ড করেন আরেক সেট ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলামকে (১৯ বলে ২৯)। আর ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট মোসাদ্দেক হোসেন (২)। ১২ বলের মধ্যে এই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে রংপুর ম্যাচে ফেরে প্রবলভাবে। এরপর শহীদ আফ্রিদি ১৫ বলে ২১ রান তুলে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকাকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন অনেকটা। তাঁকে বোল্ড করে ম্যাচে আবার উত্তেজনা ফেরান রুবেল হোসেন।

শেষ ২ ওভারে ঢাকার জিততে চাই ১৩ রান, হাতে ৩ উইকেট। নাদিফ চৌধুরীর সঙ্গে ব্যাট করছিলেন কিয়েরন পোলার্ড, মারমুখী হিসেবে সুনাম দুজনেরই। কিন্তু মালিঙ্গা তাদের সে সুযোগ দেননি, বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে রান আটকান, মরিয়া চেষ্টায় উড়িয়ে মারতে গিয়ে শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন নাদিফ। ফলে জয়ের জন্য ঢাকার সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ ৬ বলে ১০ রান। বাউন্ডারি অপেক্ষায় প্রথম দুটো বলে স্ট্রাইক হাতছাড়া করেননি পোলার্ড, পরের বলটায় ছয়! ঢাকার ডাগআউটে তখন উল্লাস। কে জানত, থিসারা পেরেরার শেষ দুটো বলেই লুকিয়ে সব জাদু। ম্যাচের দ্বিতীয় শেষ বলে বোল্ড পোলার্ড আর শেষ বলে ছত্রখান আবু হায়দারের স্টাম্প। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ রানের জয়ে উৎসবে মাতোয়ারা রংপুর রাইডার্স।

 


মন্তব্য