kalerkantho


রূপগঞ্জে যুবলীগ নেতা খুন

আসামির বাড়িতে পুলিশের পাহারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আসামির বাড়িতে পুলিশের পাহারা!

ঘটনার ৯ দিন পরও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কৃষ্ণনগর এলাকার যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামিদের রক্ষায় তাদের বাড়িতে পুলিশের পাহারা বসেছে।

এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মিজানুর রহমান কৃষ্ণনগর এলাকার আলম মিয়ার ছেলে। তিনি কাঞ্চন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ১৩ নভেম্বর প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি আহত হন। এর ছয় দিন পর গত শনিবার রাজধানীর বনশ্রী এলাকার ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত মিজানের ভাই মঞ্জুরুল আলমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে কৃষ্ণনগর এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা জাহিদুল, সিরাজ, রহিম, নাজমুল, সুজন, হূদয় ও মনসুরের। জাল দলিল তৈরি করে জাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমিটি দখল করে নেয়। এর জের ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মঞ্জুরুল আলমের মাছের খামারে হামলা চালায় জাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা। হামলাকারীরা মঞ্জুরুল আলম ও তাঁর ফুফাতো ভাই পলাশকে কুপিয়ে আহত করে।

খবর পেয়ে তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে যান যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান। তখন হামলাকারীরা তাঁকেও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানুর রহমানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাঁকে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মিজানের ছোট ভাই মঞ্জুরুল আলম রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। তাঁদের মামলা না নিয়ে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে মামলা নেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে মিজান মারা যাওয়ার পর পুলিশ নিহতের পক্ষের মামলা গ্রহণ করে।

অভিযোগ রয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাব্বির হোসেনের সঙ্গে আসামিদের দহরম-মহরম সম্পর্ক। তাই আসামিদের গ্রেপ্তার না করে তিনি তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ঘটনা ছাড়াও হামলাকারী জাহিদুল ও সিরাজের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যের জমি দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁরা এলাকার আফর উদ্দিনের ছেলে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আসামিদের যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে মামলার তদন্তের ভার অন্য কোনো কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে। ’


মন্তব্য