kalerkantho


চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে শফিউল

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে শফিউল

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষণার সময়সীমা পেরোতে এখনো ঢের বাকি। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার পর তৃতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশও একটু আগেভাগেই দল ঘোষণা করে দিল গতকাল।

আর এটি যেহেতু বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির আসর, এখানে ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা বলে বাড়তি খেলোয়াড় সংযোজনের সুযোগও ছিল না। তাই এই দলের কলেবর আইসিসির নির্ধারণ করে দেওয়া ১৫ জনেরই। যে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ইনজুরিপ্রবণ পেসার শফিউল ইসলামও।

নির্বাচকরা যেভাবে তাঁকে গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশের সেরা পেসার বলে আসছেন, তাতে টানা নিজেকে ফিট রাখতে ব্যর্থ শফিউলের যে কোনো সময় দলে ফেরা প্রত্যাশিতই ছিল না। তাঁর মতোই গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে নিজের শেষ ওয়ানডে খেলা নাসির হোসেনের দলে ফেরা অবশ্য অপ্রত্যাশিতই। যদিও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওয়ানডে দলে ঠাঁই হয়নি তাঁর। তাঁকে নেওয়া হয়েছে সাসেক্সের অনুশীলন শিবির ও আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দলে। এটি আইসিসির আসর নয় বলে যথারীতি এখানে দল ভারী। ১৮ জনের স্কোয়াডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ১৫ জনের সঙ্গে নাসিরসহ আছেন পেসার শুভাশীষ রায় ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসানও।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে অবশ্য মুশফিকুর রহিম একাই উইকেটরক্ষক। তবে গতকাল দুপুরে দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানিয়ে রেখেছেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে নুরুল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময়ও দলের সঙ্গেই থাকবেন। যাতে মুশফিক চোট পেলে বা অন্য কোনো জরুরি অবস্থায় তাঁকে হাতের কাছেই পাওয়া যায়। নুরুল, শুভাশীষ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্ট্যান্ড বাই খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকা নাসির এবার অন্তত আশ্বস্ত হতে পারেন যে আবারও সক্রিয় বিবেচনার খুব কাছাকাছিই আছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে খুব ভালো করলেও যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তাঁর কোনো সুযোগ নেই, সেটিও কাল নিশ্চিত করে দিয়েছেন মিনহাজুল। আবার নাসিরের জন্য অবারিত দুয়ার খোলার আগে তাঁকে বাজিয়ে দেখার ব্যাপারটিও আনলেন আলোচনায়, ‘নাসির বছরখানেক ধরে দলের সঙ্গে কোনো সফরে যাচ্ছে না। সেই হিসাবে ওকে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনেছি। ও ইমার্জিং কাপে ভালো খেলেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটেও যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স। সাসেক্সে প্রস্তুতি শিবির আছে। তা ছাড়া আয়ারল্যান্ড সফরে ওকে অভ্যস্ত করার ব্যাপারও আছে। ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাজ করবে। ইংল্যান্ডে ১০ দিনের প্রস্তুতি শিবিরেও ওকে দেখা হবে। ’

একই পজিশনে খেলোয়াড়ের সংখ্যাধিক্যের কারণেই এত দিন নাসিরকে বিবেচনায় নেওয়া যায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক, ‘একই জায়গায় তিনজন খেলোয়াড় ছিল—মাহমুদ উল্লাহ, সাব্বির ও মোসাদ্দেক। নাসির ছিল এই তিনজনের পরে। এখন সাব্বিরকে তিন নম্বরে তুলে আনায় একটি জায়গা খালি হয়েছে। শূন্য হওয়া সেই জায়গাতেই এসেছে নাসির। এখন এই তিনজন থেকে আমরা ছয় ও সাত নম্বরের জন্য খেলোয়াড় নেব। সে জন্য নাসিরকে প্রস্তুত হতে হবে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে অনেক ব্যবধান। সেই হিসাবে নাসিরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আবহে যথাযথভাবে প্রস্তুত করে তোলার জন্যই নেওয়া হয়েছে। ’

সাড়ে পাঁচ বছর পর সবশেষ শ্রীলঙ্কা সফরেই ওয়ানডে দলে ফেরা আরেক স্পিনিং অলরাউন্ডার শুভাগত হোম কলম্বোর প্রস্তুতি ম্যাচে বাজে বোলিং করেই আবার ছিটকে পড়েছেন। মিনহাজুল জানিয়েছেন, তাঁর বোলিং নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট মোটেও সন্তুষ্ট ছিল না। কিন্তু যাঁর বোলিং সামর্থ্য নিয়ে নির্বাচকরা সব সময়ই সন্তুষ্ট ছিল, সেই শফিউলকে নেওয়া যাচ্ছিল না টানা ম্যাচ খেলে আনফিট হয়ে পড়ার শঙ্কায়। শ্রীলঙ্কার প্রচণ্ড গরমেও তাই এই পেসারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকিতে যাননি নির্বাচকরা। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে সুযোগ পেয়ে যাওয়াতে অবশ্য ইংল্যান্ডের ঠাণ্ডা আবহাওয়ার ভূমিকা আছে, ‘বিপিএলে ইনজুরিতে না পড়লে শফিউল আমাদের অনেকগুলো সিরিজের দলেই থাকত। তা ছাড়া টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও কিছু নেতিবাচক মনোভাব ছিল যে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই ওকে আমরা শ্রীলঙ্কায় নিইনি। কারণ শ্রীলঙ্কায় অনেক গরম ছিল। ওখানে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হতো। এখন ওর ফিটনেস ঠিক আছে। আর যেহেতু খেলা হবে ঠাণ্ডা কন্ডিশনে, তাই ও টানা ম্যাচও খেলতে পারবে। ’     

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও সাঞ্জামুল ইসলাম।

সাসেক্সের অনুশীলন শিবির ও আয়ারল্যান্ড সফরের দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান, শুভাশীষ রায় ও সাঞ্জামুল ইসলাম।


মন্তব্য