kalerkantho


কোটি টাকার গাড়ি তিন-চার লাখ!

আবার নিলামে বিলাসবহুল ১২০ গাড়ি

ফারজানা লাবনী   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আবার নিলামে বিলাসবহুল ১২০ গাড়ি

ফাইল ছবি

শুল্কমুক্ত সুবিধায় চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর আটকা ১২০টি বিলাসবহুল গাড়ি আবার নিলামে তুলতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আমদানিকালে ১২০টি গাড়ির শুল্কসহ দাম ছিল প্রায় ১২৬ কোটি টাকা।

অথচ ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রথম নিলামে গাড়িগুলোর দর উঠেছিল তিন-চার লাখ টাকা করে।  

বিএমডাব্লিউ, টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, স্টেশন ওয়াগন, প্রাডো টিএক্স, ডিজেলচালিত ভিএক্স, হ্যামার, পোরশে, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব গাড়ি ২০১১ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা আছে। আইনি জটিলতায় এনবিআর বন্দর থেকে এগুলো ছাড় করার  অনুমোদন দেয়নি। চলতি মার্চ মাসের মধ্যে এসব গাড়ি আবার নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

নিলামের প্রস্তুতি নিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে চিঠি পাঠানো হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত এনবিআরের মূল দপ্তর থেকে। ওই চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআরের ওই চিঠি থেকে জানা গেছে, নিলামপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গত নভেম্বরে এনবিআর সদস্যের (শুল্ক, রপ্তানি ও বন্ড) নেতৃত্বে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যথাযথভাবে নিলামপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা নজরদারি করছেন খোদ এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। নিলামপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সম্প্রতি পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তিতে নির্দেশ দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

  

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এবার গাড়িগুলোর শুল্কসহ দামের ন্যূনতম ৬০ শতাংশ দর পেতে নিলামে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ ক্ষেত্রে নিয়মকানুন পরিবর্তনে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার শওকত আলী সাদী কালের কণ্ঠকে বলেন, এক থেকে দেড় কোটি টাকা দরের একটি গাড়ির দাম তিন-চার লাখ টাকা নিলামে ওঠায় বন্দরে রাখা ১২০টি গাড়ি নিলামে বিক্রি করা হয়নি। এ বিষয়ে এনবিআরের নতুন দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ নিলামের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   

নির্দিষ্ট কোনো সিন্ডিকেট যাতে ১২০টি বিলাসবহুল গাড়ি কেনাবেচায় কোনো কৌশলেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে সে জন্য এনবিআর চেয়ারম্যান নিলামসংক্রান্ত কমিটিকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় নির্দেশ দেন। একাধিক টিভি চ্যানেল, জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে গাড়ির নিলামের খবর প্রচার করতে বলেন। চট্টগ্রামে উপস্থিত না হয়েও নিলামে অংশ নিতে প্রত্যেক শুল্ক দপ্তরে নিলাম বাক্স রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়ে ১২০ গাড়ি কেনার পর গাড়ির মালিককে রাস্তায় অতিদ্রুত চলতে ক্লিয়ারেন্স পারমিট (সিপি) অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ১২০টি গাড়ির নিলামপ্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে এনবিআর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দুদকের প্রতিনিধিকে নিলামপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের আহ্বান করা হয়েছে। নিলামে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার পরও কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া না গেলে এসব গাড়ি আবারও নিলাম করা হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, কারনেট সুবিধায় শুল্ক না দিয়ে বিভিন্ন চালানে ১২০টি বিলাসবহুল গাড়ি বাংলাদেশে আনে বিভিন্ন আমদানিকারক। কারনেট সুবিধায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে গাড়ি আনা হলে শুল্ক পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। কেবল বিদেশি পাসপোর্টধারীরা এ সুবিধা পায়। তবে এ সুবিধার আওতায় নির্ধারিত সময়ের পর গাড়িটি অবশ্যই যে দেশে প্রবেশ করবে সেখান থেকে ফেরত নিয়ে যেতে হবে।

এ ১২০টি গাড়ির চালান আসার আগে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় কারনেট সুবিধায় আনা প্রায় ১৫০টি গাড়ি ফেরত নেওয়া হয়নি। বেশির ভাগ গাড়ির আমদানিকারকরা এনবিআরকে জানায়, গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে। তবে এনবিআরের তদন্তে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে গাড়িগুলো দেশের মধ্যে গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ২০১১ সালের শেষ সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ১২০টি গাড়ি ছাড় করার অনুমোদন আটকে দেয় এনবিআর। প্রায় চার বছর পর ২০১৫ সালের নভেম্বরে গাড়িগুলো নিলামে তোলা হয়। এ নিলামে দেড় কোটি টাকার একটি গাড়ির দর আসে সাড়ে চার লাখ টাকা। এভাবে ১২০টি গাড়ির প্রতিটির প্রকৃত দাম থেকে নিলামের দর অনেক গুণ কম ওঠায় এনবিআর গাড়িগুলো আবারও নিলামে তোলার প্রস্তুতি নেয়।


মন্তব্য