kalerkantho


নারী ভোটাররাই বড় ফ্যাক্টর

আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারী ভোটাররাই বড় ফ্যাক্টর

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। নারীদের ভোট যেদিকে বেশি যাবে, সেদিকেই ভারী হবে জয়ের পাল্লা।

তাই নারীদের সমর্থন পেতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী এবং কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা এখন এদিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা নিজে একজন নারী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রতি নারী ভোটারদের একটু বেশি পক্ষপাত রয়েছে। তবে বিএনপি প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর প্রতি নারী ভোটারদের সমর্থনও নেহায়েত কম বলা যাবে না। গত সিটি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিল।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ভোটার দুই লাখ সাত হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ দুই হাজার ৪৪৭ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৬৬ জন। পুরুষের চেয়ে তিন হাজার বেশি নারী ভোটার। অবশ্য গত নির্বাচনে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার পাঁচ হাজার বেশি ছিল।  

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারী ভোটারদের প্রথম পছন্দ যে আমি, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম; সেখানে ৮০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও নির্বাচন করেছি; সেখানেও নারীরাই আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমার সমর্থকদের মধ্যে নারী ভোটার অনেক। ’

বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারী হলেই যে নারী ভোট পাওয়া যাবে, এমনটা নয়। নারায়ণগঞ্জে মেয়র আইভী ভোট পেয়েছেন নারী প্রার্থী এ কারণে নয়, তিনি ভোট পেয়েছেন কাজের কারণে। আর তাঁর কাছে সেখানকার মানুষ নিরাপত্তা পায়, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেউ চাঁদা নেয় না। ’ সাক্কু আরো বলেন, ‘ধানের শীষের ভক্ত নারী বেশি। কুমিল্লার নারী ভোটারদের বেশির ভাগ আমাকে সমর্থন করে। ’

সিটি করপোরেশনের ভোটার আনোয়ারা বেগম জানান, শহরের পূর্বাঞ্চলের ও দক্ষিণাঞ্চলের নারী ভোটাররা নির্বাচনে ফ্যাক্টর। তারা লাইন ধরে ভোট দিতে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের টার্গেট থাকে তাদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে। যে যত বেশি নারী ভোটার কেন্দ্রে নিতে পারবে, ফলাফল তার দিকেই বেশি ঝুঁকবে।

ভোটার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ছয় হাজার ৫৭৭ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ২২০ জন, নারী তিন হাজার ৩৫৭ জন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সাত হাজার ১৫২ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৪৩৪ জন, নারী তিন হাজার ৭১৮ জন।   ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সাত হাজার ৭৯১ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৮২৬ জন, নারী তিন হাজার ৯৬৫ জন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে  ভোটার আট হাজার ২৯৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৯৩১ জন, নারী চার হাজার ৩৬২ জন। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ৯ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৬৬০ জন, নারী পাঁচ হাজার ১১৩ জন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ছয় হাজার ৭০৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ২৫৬ জন, নারী তিন হাজার ৪৪৭ জন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ১১ হাজার ৩৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ২১৯ জন, নারী পাঁচ হাজার ৮১৬ জন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সাত হাজার ৭৯২ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৭০৮ জন, নারী চার হাজার ৮৪ জন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ছয় হাজার ৪২৬ জন, এর মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৯৭ জন, নারী তিন হাজার ৩২৯ জন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার আট হাজার ৩৭৪ জন, এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৩০ জন, নারী চার হাজার ৩৪৪ জন। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ৯ হাজার ৭০৯ জন, এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৭৪৪ জন, নারী চার হাজার ৯৬৫ জন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ৯ হাজার ৫৮৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৬৫১ জন, নারী চার হাজার ৯৩২ জন। অন্য সিটি করপোরেশনের সদর দক্ষিণ উপজেলার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ১১ হাজার ১৯৮ জন, এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৫৪২ জন, নারী পাঁচ হাজার ৬৫৬ জন।


মন্তব্য