kalerkantho


পদ্মা-যমুনার চরে হবে অর্থনৈতিক অঞ্চল

আবুল কাশেম   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পদ্মা-যমুনার চরে হবে অর্থনৈতিক অঞ্চল

প্রমত্তা পদ্মা ও খরস্রোতা যমুনা নদীর চরে ইকোনমিক জোন বা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় এ নদী দুটি খনন করে পাওয়া পলি ও বালু দিয়ে চরগুলোর উচ্চতা বাড়িয়ে এ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

চীনের দুটি কম্পানি এরই মধ্যে এসব ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কম্পানি দুটিকে প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিতে বলেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বডির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, চীনের দুটি কম্পানি পদ্মা ও যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবছর ভাঙনের ফলে নদীর মধ্যে বহু জমি বিলীন হয়ে গেছে। পলি জমে নদীর গভীরতাও কমেছে। ফলে জেগে ওঠা চরের পাশাপাশি নদী দুটি খননের মাধ্যমে উদ্ধার করা জমিতে ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, ‘এ নদী দুটির বুকে যেসব চর জেগে উঠেছে, তা বর্ষা মৌসুমে যাতে ভেঙে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছি। এরই মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা ও যমুনা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে জমি পুনরুদ্ধার করে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কম্পানি (সিআরসিসি) ও পাওয়ার চায়না বেজার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এরপর প্রকল্পের কারিগরি দিকসহ সার্বিক বিষয় উপস্থাপনের জন্য কম্পানি দুটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা বেজাকে জানিয়েছে, শিগগির প্রকল্পের বিস্তারিত কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।  

গভর্নিং বোর্ডের পঞ্চম সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যত্রতত্র শিল্প স্থাপনের ফলে কৃষিজমি কমার পাশাপাশি পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টির মাধ্যমে পরিকল্পিত শিল্পায়ন করে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্পের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজীতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিটিতে ১০০ একর করে ২০০ একরের দুটি লেক বা জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বেজা। এ দুটি জলাধার অর্থনৈতিক অঞ্চলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, শিল্পে পানির জোগান, পরিবেশ সুরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি জলাধার নির্মাণ করা হবে বিধায় এগুলোর নাম ‘শেখ হাসিনা সরোবর’ করার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছে। আর এই দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বড়তাকিয়া থেকে বেড়িবাঁধ (সিপি মোড়) পর্যন্ত চার লেনের ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। সিপি মোড় থেকে মিরসরাই পর্যন্ত আরো সাত কিলোমিটার দুই লেনের রাস্তা হচ্ছে। মুহুরি প্রকল্প থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত আরো ১৯ কিলোমিটার চার লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হবে। ফলে বড়তাকিয়া থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে চার লেনের রাস্তার দৈর্ঘ্য হবে ২৯ কিলোমিটার। এই রাস্তার নাম ‘শেখ হাসিনা সরণি’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজা।

বেজা জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ৭৫ হাজার একর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য ভূমি ব্যাংক স্থাপন, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ৩০ হাজার একর জমির ওপর আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ১৬ হাজার ৭০০ একর জমির ওপর শিল্প ও পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় এক হাজার ৪০০ একর জমির ওপর দুটি বিশেষ পর্যটন এলাকা ও আইটি পার্ক করা হবে। এখন ২০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ চলছে। বেজা এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। আরো ২০ হাজার একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা শিগগির বেজার দখলে আসবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ২৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে, কর্মসংস্থান হয়েছে আট হাজার মানুষের।


মন্তব্য