kalerkantho


'সিনেমার চেয়ে খারাপ ব্যবসা আর হয় না'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৪৩



'সিনেমার চেয়ে খারাপ ব্যবসা আর হয় না'

গত এক দশক ধরে বাংলা ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রে যে বাঁকটি তৈরি হয়েছে একটু একটু করে, তার ঠিক মুখেই তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক পূর্ণ তর্জনী হয়ে। অত্যন্ত নির্ভীকভাবে মনে করেন, যে মানুষদের দিকে তেমনভাবে কেউ তাকায় না, তাদের দিকে আলোটা ঘুরিয়ে দেওয়া দরকার।

পরিচালক হিসেবে সেটা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। মৌলিক বিষয়গুলোকে আরো গভীরে নিয়ে যান নিজের বক্তব্য দিয়ে। ওই দুই মিলেই তারপর খুলে যায় নতুন এক জানালা। তিনি হলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, আমার ছেলে আমাকে প্রতিদিন জিজ্ঞাসা করে বের হওয়ার সময়, কখন ফিরবে বাবা? সে এখন যাদবপুরে পড়ে থার্ড ইয়ারে। আমার যেদিন অফ থাকে, সেদিন আমার ছেলেও কোনো না কোনোভাবে পারলে নিজের কাজগুলোকে সরিয়ে রেখে আমার কাছে এসে বসে। আড্ডা মারে। গল্পগুজব হয়। দারুণ একটা সময় কাটে। আমি বুঝি ও আমাকে মিস করে। আমিও যে সময়টা ওকে দিতে পারি না, বাবা হিসেবে সেই সময়টাও আমি ওকে খুব মিস করি।

তিনি আরো বলেন, আমি বাবার সঙ্গে সেভাবে আড্ডা দিতে পারিনি। সে কারণেই এই ব্যাপারটা নিয়ে আমার মধ্যে একটা কাঙালপনা আছে। আমার বাবা অতটা ‘বাবা’ ছিলেন না। আমার বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। হয়তো বাবা একবার জিজ্ঞাসা করলেন, খাইছস? বা, মা’কে জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা খাইসে? এটুকুই। সরাসরিও জিজ্ঞাসা করত না হয়তো।

তিনি মনে করেন, বাচ্চারা প্রতিবাদ করতে পারে না। তাদের দম আটকে আসে। অনিয়মিত হয়ে যায় শ্বাস-প্রশ্বাস। গলার কাছে মনে হয় কাঁটার মতো কিছু বিঁধে আছে। এগুলো আমি নিজের জীবনে দেখেছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ভেতরটা যে কতটা ক্ষতবিক্ষত, তা বোঝা যাবে ছবিটা দেখলে। ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’ কিন্তু কোনো ‘বিনাকা চিত্রমালা’ নয়। যে আঠারোখানা গান শুনব বসে বসে। এর মধ্য দিয়ে একটা ছোট জার্নি আছে। জাতকের গল্পে যেমন জীবনের মূল্যবোধ শেখানো হয়, ঠিক তেমনই কিশোরকুমার জুনিয়র খুব দরকারি একটি সামাজিক কথা বলে।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমি না সিনেমা বানানোটাকে কখনোই ব্যবসা হিসেবে দেখি না। ব্যবসা হলে আনন্দ লাগে, সেটা অস্বীকার করছি না। সে কারণেই এই পাবলিসিটি করা। কিন্তু, সত্যি বলতে সিনেমার চেয়ে খারাপ ব্যবসা আর হয় না।

এত অনিশ্চিত একটা ব্যবসা! টাকা আসবে কি আসবে না, আমরা জানি না। তার থেকে আমি মাছের ভেড়ি করতাম, কয়লার ব্যবসা করতাম, খাওয়ার একটা হোটেল খুলে ফেলতাম; যেখানে নিশ্চিতভাবে প্রচুর প্রফিট হতো। সিনেমা কেন করব তাহলে? রামকৃষ্ণ গিরীশ ঘোষকে বলেছিলেন, থিয়েটারে লোকশিক্ষে হয়। এই ‘লোকশিক্ষে’ শব্দটাকে আমি খুব গুরুত্ব দিই। এখন আমার ৫০ বছর বয়স হয়ে গেছে, যতদিন ছবি বানাব, এই ‘লোকশিক্ষে’-টাই হবে আমার কাছে প্রথম ক্রাইটেরিয়া।



মন্তব্য