kalerkantho


'বেপরোয়া টিএসসি' গানের সৃষ্টির কথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ১৯:৩৩



'বেপরোয়া টিএসসি' গানের সৃষ্টির কথা

শূন্য দশকের গোড়ার দিকের কথা। তখন রাজীব আহমেদ গান লিখে পরিচিত হচ্ছেন। এরই মাঝে একদিন আইয়ুব বাচ্চু রাজীবকে ডেকে নিলেন। একটি সলো অ্যালবামের গান লিখতে বললেন। রাজীব আহমেদ নির্ঘুম রাত কাটিয়ে লিখে ফেললেন 'বেপরোয়া টিএসসি তোমার।' অ্যালবামের নাম পথের গান। অবশ্য ওই গানটি চাইলে পেতে পারো শিরোনামে অ্যালবামে যুক্ত হয়। অ্যালবাম রিলিজের পর গান হিট।

গানের কথাগুলো হলো- চাইলে পেতে পারো এক ফালি রোদ্দুর/চাইলে পেতে পারো দখিণের সমুদ্দুর/চাইলে গোটা বাংলা তোমার/শুধু যদি তুমি চাইতে পারো। চাইলে শহীদ মিনার তোমার/চাইলে স্মৃতিসৌধ তোমার/চাইলে শিখা অনির্বাণ তোমার/চাইলে বেপরোয়া টিএসসিও তোমার। চাইলে তোমার দু’চোখ কামান/ চাইলে তুমি দস্যি বিমান/চাইলে তুমি রক্ত বন্যা/চাইলেই তুমি শেষ কান্না। চাইলে তুমি নিশি জাগা রাত/চাইলে তুমি ফিরতি প্রভাত/চাইলে তুমি প্রেয়সী চাঁদ/চাইলেই তুমি বন্ধুর হাত।

এই গানের সৃষ্টির কথা জানালেন গীতিকার রাজীব আহমেদ। রাজীব বলেন, তখন সবে গীতিকার হিসেবে একটু নাম হচ্ছে। গীতিকারের নাম ডাক বলতে যা বোঝায় আর কি। একদিন হঠাৎ ফোন দিলেন আইয়ুব বাচ্চু । বললেন আমিই নাকি বাংলাদেশের দ্বিতীয় গীতিকার যার কাছে তিনি নিজে আগ্রহী হয়ে গান চাইলেন।

তিনি বলেন, একে তো আইয়ুব বাচ্চুর ফোন তারপরে এই কথা। আমার তো থরকম্প শুরু হয়ে গেল। বললেন গান সলো অ্যালবামের জন্য লাগবে। রাতের ঘুম হারাম। এখানে আর একটি কথা বলা প্রয়োজন আমি জীবনের প্রথম যে  অ্যালবাম কিনি তার নাম কষ্ট। গানের ডায়েরি নিয়ে যেতে বলেছিলেন তিনি।

রাজীব বলেন, আমি ডায়েরি পাবো কোথায়? হাতে লেখা কাগজে এই গানটি নিয়ে গিয়েছিলাম। গানটি হাতে পেয়ে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন তুমি রোজ এসো। আসলে আমি বিরক্ত না খুশিই হবো।

এরপর রাজীব আহমেদ ব্যান্ড সঙ্গীতে এদেশের জনপ্রিয় গীতিকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজীব আহমেদের উল্লেখযোগ্য গান হলো, জেমসের কণ্ঠে গাওয়া-পাগলা হাওয়ার তোড়ে, নদী, রাখেনি আমায় কেউ তোর মতো করে, কুসুম কুসুম প্রেম, বিধাতা, নয় ছয়, আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া- এক আকাশ তারা, নদীর বুকে চাঁদ, ও আমার সখী, আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই রে, হাসানের- লাল বন্ধু, কানিজ সুবর্ণার, বন্ধু তোমার চিঠি পেয়েছি, আসিফ আকবরের গাওয়া- উড়ো মেঘ, তুই যদি মোর চন্দ্র হতি, জান রে, বন্ধু তোর খবর কি রে। 



মন্তব্য