kalerkantho


বিউটি অ্যাডভাইজার, সেফোরা

পরিকল্পনা সৌন্দর্যচর্চার জগৎ ঘিরেই

কেউ গানের জনপ্রিয় তারকা, কেউ বা অভিনয়ে মাতান দর্শক। কারো ক্ষেত্র আবার মডেলিং। এসব পরিচয়ের বাইরে তাঁরা চাকরিজীবী। কয়েকজন তারকা কর্মজীবীর গল্প শোনাচ্ছেন মাহতাব হোসেন ও আতিফ আতাউর

মোনালিসা, জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী   

১৪ জুন, ২০১৮ ১০:৩৭



পরিকল্পনা সৌন্দর্যচর্চার জগৎ ঘিরেই

জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা। ২০১৩ সালে হুট করেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নিউ ইয়র্কে সেফোরা নামের আন্তর্জাতিক মেকআপ প্রতিষ্ঠানে বিউটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। শুরুটা মেকআপ আর্টিস্ট দিয়ে হলেও চার বছর অনেকটা সিঁড়ি পেরিয়ে এখন তিনি বিউটি অ্যাডভাইজার।

মোনালিসা বলেন, ‘অনেকেই জানে না, যখন আমি দেশের শোবিজে কাজ করতাম, তখন নিজের মেকআপ নিজেই নিতাম। মেকআপ বিষয়টায় আমার তীব্র আকর্ষণ ছিল। মেকআপের ওপর দেশ-বিদেশের সাময়িকী জোগাড় করতাম, সেগুলো খুঁটে খুঁটে পড়তাম।’

তিনি আরো বললেন, ‘মেকআপ একটা আর্ট। আমাদের দেশে গণ্য না হলেও ইউরোপ-আমেরিকায় এর কদর অনেক। একজন মেকআপ আর্টিস্টকে সবাই সমীহ করে, সম্মান করে।’

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় টাইম টেলিভিশনে অনুষ্ঠানপ্রধান হিসেবে যোগদান করেন মোনালিসা। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল। নিত্যনতুন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের বাঙালি কমিউনিটিতে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোই ছিল কাজ। নিজেও কিছু অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন। কিন্তু মোনালিসার মন পড়ে রয় অন্যখানে। এখানে বেশিদিন স্থায়ী হলেন না। মাত্র এক বছর কাজ করেছেন। টাইম টেলিভিশন ছেড়ে দেওয়ার পর নিউ ইয়র্কের কুইন্সমলে ম্যাক নামের একটি প্রসাধনসামগ্রীর প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দেন। সেখানে ইন্টারভিউ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা জানতে হয়, থাকতে হয় ডিগ্রি। মোনালিসার সেসব ছিল না, ছিল অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান। সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অনেককেই পেছনে ফেলে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে সুযোগ পান। ম্যাকে দুই বছর কাজ করেন। ডাক আসে ইতালির কিকা মিলানো নামের একটি প্রসাধনসামগ্রী কম্পানি থেকে। সেখানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। এর কিছুদিন পরেই সেফোরায় বিউটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজের প্রস্তাব পান। সেখানে মেকআপের ওপর প্রশিক্ষণ দেন, পরামর্শ দেন ও ক্লাস নেন। তাঁর হাত দিয়েই এখন অসংখ্য মেকআপ আর্টিস্ট তৈরি হয়।

মোনালিসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন এই সৌন্দর্যচর্চার জগৎ ঘিরেই। জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রে এটির কদর আকাশচুম্বী। সেখানে মেকআপের জন্য একজন আর্টিস্টকে হাজার হাজার ডলার ঘণ্টা চুক্তিতে হায়ার করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই কাজের এখনো তেমন মূল্যায়ন নেই। কেউ এই কাজে যুক্ত হতে চাইলে ইউরোপ, আমেরিকায় যথেষ্ট সুযোগ আছে। তবে এর আগে ডিপ্লোমা করে নিতে হবে মেকআপ আর্টের ওপর। নিউ ইয়র্কে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, সেখান থেকেও অনেকে কোর্স করছে।’

মোনালিসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো এই শিল্পকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করা। দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি সৌন্দর্যচর্চার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু করার চিন্তা রয়েছে তাঁর।

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো জরুরি



মন্তব্য