kalerkantho


করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টরস, নেসলে বাংলাদেশ

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো জরুরি

কেউ গানের জনপ্রিয় তারকা, কেউ বা অভিনয়ে মাতান দর্শক। কারো ক্ষেত্র আবার মডেলিং। এসব পরিচয়ের বাইরে তাঁরা চাকরিজীবী। কয়েকজন তারকা কর্মজীবীর গল্প শোনাচ্ছেন মাহতাব হোসেন ও আতিফ আতাউর

নকীব খান, জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা   

১৪ জুন, ২০১৮ ১০:৩১



যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো জরুরি

রেনেসাঁ ব্যান্ডের ভোকাল নকীব খানের চাকরিতে ঢোকার গল্পটা বেশ মজার। নেসলে বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। যদিও শুরুটা ফিলিপস কম্পানিতে। আগে থেকেই গান করতেন। কিন্তু সেই সময় গায়ক পরিচিতি যথেষ্ট ছিল না। নকীব বলেন, ‘মানুষ মনে করত, ও তো শিল্পী। তা গানের বাইরে আর কিছু করে না? এমন প্রশ্নের কারণও ছিল। শুধু গান গেয়ে আশির দশকে জীবিকা নির্বাহ করা বেশ কঠিন ছিল।’ তাই গান গাওয়ার পাশাপাশি একটি জুতসই চাকরির চেষ্টায় ছিলেন। পরীক্ষা দিয়ে পেয়েও যান। ‘কোনো মামা-খালুর জোরে নয়, আর দশটা ছেলে যেভাবে চাকরিতে ঢোকে, সেভাবেই ঢুকেছিলাম। চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে সিভি জমা ও ভাইভা দিয়ে পাস করার পরই চাকরি হয়েছিল।’ বললেন নকীব খান। ফিলিপসের পর কাজ করেছেন আরেকটি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন নেসলে বাংলাদেশে।

চাকরি আর গান কিভাবে সমন্বয় করেন? ‘চাকরি আমার পেশা আর গান আমার নেশা। দুটি জিনিস একসঙ্গে সমন্বয় করা বেশ কঠিন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান বলে কাজের চাপও অনেক বেশি। তবে এর জন্য টাইম ম্যানেজ করতে পারাটা জরুরি। যতক্ষণ অফিসে থাকি, তখন শতভাগ অফিসের কাজেই মনোনিবেশ রাখি। আবার যখন গানের কাজ করি, তখন শতভাগ মনোনিবেশ গানে রাখার চেষ্টা করি। এতে গান ও পেশাগত জীবন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় না। তবে চাকরির কারণে গানে সময় বেশি দিতে পারি না। আমাদের ব্যান্ডের কমবেশি সবাই চাকরি করেন। এ কারণে রেনেসাঁর অ্যালবামও কম।’

নেসলেতে কী দায়িত্ব পালন করেন? ‘সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কম্পানির সঙ্গে লিয়াজোঁ মেইনটেন করতে হয়। পলিসি অ্যাডভোকেসি করতে হয়। করপোরেট কমিউনিকেশন বাড়ানোর দায়িত্বটাও আমার কাজের অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজের জন্য অনেক ইউনিট আছে। সমন্বয়ের কাজটা আমাকে করতে হয়।’ বললেন তিনি।

শিল্পী পরিচিতিটা কি চাকরিজীবনে বাড়তি সুবিধা দেয়? ‘শিল্পী পরিচিতি কাজের ক্ষেত্রে বেশ সহায়তা করে। আমাদের যেহেতু পাবলিক রিলেশনের কাজ, সে কারণে পরিচিতিটা অনেক কাজে আসে। যখন কোনো মন্ত্রণালয়ে যাই বা কোনো ফোরামে যাই, সবাই আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এর জন্য শুধু শিল্পী পরিচয়টা মুখ্য নয়, মানুষের মনে শ্রদ্ধা, আস্থার জায়গাটাও তৈরি করতে হয়। আমি যে বিষয়ে কথা বলছি, সে বিষয়ে যদি দক্ষ না হই, সেটি শুধু শিল্পী পরিচয় দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।’ বললেন তিনি।

সুইজারল্যান্ড-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি নকীব খান। অটিস্টিক শিশুদের একটি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এই পরিচয়টাও কাজের ক্ষেত্রে সহায়তা করে তাঁকে। নকীব খানের পেশায় যাঁরা আসতে চান, তাঁদের প্রতি তাঁর পরামর্শ—‘কাজের জায়গাটা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানাশোনা জরুরি। নিজেকে তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো পরিচয় থাকতে হবে। যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। সফলতা আসবেই।’

 কাজকে ভালোবাসতে হবে



মন্তব্য