kalerkantho


অভিনেত্রীর আর্তি: তারা শুটিংয়ে ডাকে ‘মা’ কিন্তু রাতে ডাকে বিছানায়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ২০:০২



অভিনেত্রীর আর্তি: তারা শুটিংয়ে  ডাকে ‘মা’ কিন্তু রাতে ডাকে বিছানায়!

শ্রী রেড্ডি -ইন্সটাগ্রাম ছবি

সিনেমার পর্দায় তাদের সাধারণত মা, ভাবী বা চাচীর ভূমিকায় দেখা যায়। এদের পরিচয় ‘জুনিয়র আর্টিস্ট’, কোথাও ডাকা হয় ‘এক্সট্রা’ নামে। 

একশ্রেণির চিত্রনির্মাতা তাদের মতো ‘ছোটখাটো আর্টিস্টদের’ শুটিংয়ের সেটে সবার সামনে ‘মা’ বলে সম্বোধন করলেও রাতের বেলা সেই ব্যক্তিরাই তাদেরকে বিছানায় ডাকে। সন্ধ্যা নাইডু নামে ভারতীয় এক অভিনেত্রী এমন অভিযোগ করেন। 

ছোটখাটো রোল দেওয়ার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয় তাদের। টালিউড ফিল্ম পাড়ায় টালিউড উদ্যোগ নিয়ে গত দশ বছর ধরে সক্রিয় সন্ধ্যা চমকানো এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার নেতৃত্বে হায়দারাবাদে একাট্টা হয়েছেন প্রায় ১৫ জন অভিনেত্রী। 

প্রতিকারহীনভাবে যৌন নিপীড়ন সয়ে যাওয়ার বুক ভরা কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন, আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা আর চাচীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি। ওই সব লোক (নির্মাতা ও তাদের সঙ্গীরা) দিনের বেলা শুটিংয়ের সময়ে আমাকে ‘আম্মা’ বলে ডাকে। আর রাতের বেলা তাদের সঙ্গে শোয়ার জন্য ডাকে। 

তিনি অভিযোগ করেন, সিনেমায় রোল চাইতে গেলে প্রায় ক্ষেত্রেই জিজ্ঞেস করা হয়- এর বিনিময়ে তারা কী পাবে? 

সন্ধ্যা বলেন, কাজ শেষে ঘরে ফেরার পর হোয়াটসেঅ্যাপে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি কী ধরনের পোশাক পরে আছি? যা গায়ে আছে তা স্বচ্ছ কাপড়ে তৈরি কি না? 

অপর এক জুনিয়ার আর্টিস্ট বলেন, ছবিতে কাজ পেতে আমরা ছবির পরিচালকের জন্য সবকিছু করি। এর মধ্যে আছে, সেক্সুয়াল ফেভার। এছাড়া সুন্দর দেখানোর জন্য সার্জারি কিংবা ত্বকের পরিবর্তন পর্যন্ত করতে রাজি থাকি। এতসব সত্ত্বেও আমরা কাঠের পুতুলের মতো থাকি- কিন্তু এখন আর এমনটা হতে দেবো না আমরা। 

অ্যাংকর থেকে অভিনেত্রী বনে যাওয়া শ্রী রেড্ডি এই শোষিত-নিপীড়িত নারীদের নেতৃত্বে আছেন। মুভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ের বাইরে সমাবেশে অর্ধনগ্ন হয়ে কাস্টিং কাউচের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাপক শোরগোল তুলেছেন শ্রী রেড্ডি। এর জন্য তাকে হুমকি-ধামকির মুখেও পড়তে হয়েছে। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী অভিনেত্রীরা অংশ নেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পর্দায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতির জন্যও যৌন শোষণের শিকার হতে হয়েছে। 

অভিনেত্রী কে অপূর্বা জানান, অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেকনিশিয়ানদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়। তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয যেন তারা পোকা-মাকড়। 

একসময়ে হলিউডে বিখ্যাত এবং হালে কুখ্যাত প্রযোজক হার্ভে উইনেস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীদের শ্লীলতাহানি, যৌন নিপীড়নের নানান অভিযোগের সূত্রে দুনিয়ার দেশে দেশে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরনের নানা কাহিনী প্রকাশ হতে থাকে। জানা যায় শুধু নারীরা নন, পুরুষ অভিনয়শিল্পীরাও নারী প্রযোজক-পরিচালকদের যৌন লালসার শিকার হয়ে থাকেন। ঘিনঘিনে কাস্টিং কাউচের বিষয়টি তো সবারই জানা। অনেকের কাছেই এটা ‘ওপেন সিক্রেট’। জনসত্তা.কম


মন্তব্য