kalerkantho


বিধ্বংসী কাইজু আর রোবটের লড়াই স্টার সিনেপ্লেক্সে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৮ ১৫:২৬



বিধ্বংসী কাইজু আর রোবটের লড়াই স্টার সিনেপ্লেক্সে

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ও অ্যাকশননির্ভর ছবি 'প্যাসিফিক রিম'-এর কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি দর্শকরা। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি যেভাবে মাতিয়েছিলো দর্শকদের তাতে বেশ ভালোভাবেই মনে থাকার কথা। একদিকে অদ্ভুত দৈত্যাকার পশু কাইজু, অন্যদিকে মানুষ-নিয়ন্ত্রিত রোবট। সমুদ্রের নিচ থেকে উঠে আসা কাইজু আক্রমণ করে পৃথিবীকে, যার আঘাতে পৃথিবী ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। এর মোকাবিলা করতে মানুষ আবিষ্কার করে জায়েগারস নামক মানুষ-নিয়ন্ত্রিত রোবট।

এই রোবট নিয়ন্ত্রিত হয় দুজন পাইলট দিয়ে, যারা একে অপরের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত থাকে। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জাপানি অভিনেত্রী রিঙ্কো কিকুচি, ইদ্রিস এলবা, বার্ন গুরমান, চার্লি ডে প্রমুখ। ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটের ছবিটি  আয় করে ৪১১ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি মন জয় করে সমালোচকদেরও।
সাফল্যের রেশ কাটার আগেই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েছিলো সিরিজের পরবর্তী ছবির। যার নাম দেয়া হয়েছিলো ‘প্যাসিফিক রিম ২’। ছবির পরিকল্পনাও এগিয়েছিলো অনেকখানি। কিন্তু হঠাৎ থেমে যায় সব। পড়ে যায় লম্বা একটা বিরতি। পাঁচ বছরের বিরতির পর অবশেষে নির্মিত হয় নতুন ছবি। যার নাম ‘প্যাসিফিক রিম আপরাইজিং’। নামের সাথে বদলে যায় পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তালিকাও। গুয়েলের্মো দেল তোরোর পরিবর্তে এ ছবি পরিচালনার দায়িত্ব পান স্টিভেন এস. ডিনাইট। আর অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় আসেন জন বোয়েগা, স্কট ইস্টউড, জিং তায়ান, রিংকো কিকুচি, চার্লি ডে প্রমুখ। ২৩ মার্চ আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘প্যাসিফিক রিম আপরাইজিং’। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে ছবিটি।

ছবির গল্প এগিয়ে যাবে আগের ছবির পথ ধরেই। বিধ্বংসী কাইজুরা আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসার পথ খুঁজে পাবে এবং ইয়াগার পাইলটদের আরও একবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে। পশুপতি রিম বিদ্রোহে মানবতাবিরোধী সর্বাত্মক হামলার নিন্দা জানানোর জন্য মানব-পাইলটযুক্ত সুপার- মেশিনগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত দ্বন্দ্ব সংঘটিত হয়েছিল।

জেক পেন্টেকস্ট (জন বোয়েগা) একসময় উদীয়মান পাইলট ছিলেন, যার কিংবদন্তি বাবা মানসিকভাবে কাইজু’র বিরুদ্ধে মানবতার বিজয়কে নিরাপদ করার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন আরও অচলাবস্থা হুমকির সম্মুখীন হয় এবং পৃথিবীকে তার হাঁটুতে নিয়ে আসার জন্য, তার বাবা-মা এবং বোন মাকো মোরিকে (রিংকো কিচুচি) তার পিতার উত্তরাধিকার পর্যন্ত জীবনযাপন করার শেষ সুযোগ দেওয়া হয়। জেক নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুদ্ধের ছায়ায় বড় হয়ে উঠেছে এমন একটি পাইলটের সাহসী নতুন প্রজন্মকে।

তারা ন্যায়বিচার চান, তাদের একমাত্র আশা বিলুপ্তির বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংঘাতে একত্রিত হওয়া। জেকের প্রতিভাধর প্রতিদ্বন্দ্বী পাইলট ল্যাম্বার্ট (স্কট ইস্টউড) এবং ১৫ বছর বয়সী জেইজার হ্যাকার আমারা (ক্যাবেল স্প্যানি) যোগদান করেন, কারণ পিপিডিসি হিরো একমাত্র পরিবার যা তিনি রেখে গেছেন। পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী হয়ে উঠতে তারা একটি বিশাল স্কেলে দর্শনীয় এবং নতুন দু:সাহসিক কাজ শুরু করবে। আগের ছবির মতো এ ছবির সাফল্য নিয়েও আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

কারণ এ ছবিতে আরো অনেক নতুনত্ব দেখা যাবে। চরিত্রগুলো উঠে আসবে আরো শক্তিশালীরুপে। এ ছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দর্শককে আকৃষ্ট করবে বলে মনে করেন পরিচালক। সবমিলিয়ে সাফল্যের দিক থেকে এটি প্রথম ছবিকে ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশ্বাস তার।


মন্তব্য