kalerkantho


রোজী আফসারীর চলে যাওয়ার মুহূর্তে

মালেক আফসারী   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০৮:৫১



রোজী আফসারীর চলে যাওয়ার মুহূর্তে

তখন দিনের ৩ টা। রোজী ফিসফিস করে বললো আফসারী চকলেট খেতে ইচ্ছে করছে। আমি ডাক্তারের দিকে তাকাই। ডাক্তার ইশারায় বুঝালো দেন। বুলু'কে (রোজীর পার্সোনাল আয়া) বললাম নিয়ে আসো।

বুলু ছুটে বেরিয়ে গেলো আইসিইউথেকে। এখানে রোজী এসেছে মার্চের ৩ তারিখে আজ ৯ তারিখ। বারডেম হাসপাতালের নিচেই পান সিগারেটের দোকান থেকে একটি চকলেট নিয়ে আসে বুলু। আমি কাগজ ছিঁড়ে রোজীকে
দেই। রোজী পুরাটা খেতে চায় না। আমি দাঁত দিয়ে কামড়ে একটু দেই। ও বাচ্চাদের মতো মুখে নিয়ে চুষতে থাকে।
তারপর ইশারায় আমাকে ডাকে।

আমি আমার কান ওর মুখের কাছে নেই। আস্তে করে বলে... আফসারী ডাক্তার আমাকে ভালো করতে পারবে না।
তুমি তোমার যাদু দিয়ে আমাকে ভালো করে দিতে পারো না? আমি হেসে ওর হাত ধরে বসে পড়ি পাশে নার্সের রাখা টুলে। ভাবতে থাকি ওর এখনো মনে পারছে সেই প্রথম দিনের কথা।

'বিনি সুতার মালা' ছবির শুটিংয়ের কোনো এক ফাঁকে আমি রোজী ম‍্যাডামকে যাদু দেখিয়েছিলাম। তখন আমি ৬০০ টাকা বেতনের প্রধান সহকারী পরিচালক। উনাকে ম‍্যাডাম ডাকি। উনি শুধু আমার বয়সে না... সব দিক থেকে অনেক বড়। উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমি আট আনার একটি আধলি হাতের তালুতে রেখে অন্য হাত দিয়ে চেপে ধরে দুইটা করে দেখিয়েছিলাম। আবার দুইটা আধুলি এক সাথে গায়েব করে উনাকে আরো
অবাক করে দিয়েছিলাম... উনি অবাক হয়ে আমার মুখে তাকিয়ে ছিলেন। বিশ্বাস করেছিলেন আমি জাদুকর।

সেই থেকে রোজী প্রতিদিন আমার কাছে জানতে চাইতোআসলে এইটা যাদু না হাতের কারসাজি। আমি মিথ্যা কসম কেটে বলতাম সত্যি যাদু ও বিশ্বাস করতো... আবার করতো না। একদিন বললো আমাকে শিখাবে। আমি বললাম শিখাবো... শিখাবার বাহানায় হাত ধরলাম। আমি সত্যিই উনার, উনার হাত ধরলাম।

হঠাৎ টুন টুন শব্দ করে উঠে রোজীর গায়ে লাগানো মেশিন গুলো। আমি চমকে উঠে ওর হাত ছেড়ে দিয়ে দেখি রোজী ঘুমাচ্ছে। কিন্তু নার্স ডাক্তার সবাই ছুটাছুটি করছে। আমি ওর কপালে হাত দিলাম।
হালকা গরম। মনে হলো সব ঠিক আছে। ও ঘুমাচ্ছে।

পরে ডেথ সার্টিফিকেটে লিখা দেখি ৩ টা ৪৫মি:...২০০৭। ২৭ বছরের জার্নি এন্ড।

মালেক আফসারী, নির্মতা


মন্তব্য