kalerkantho


একদিকে অপরাহ উইনফ্রে অন্যদিকে জেনিফার লরেন্স

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৮ ১৫:২৭



একদিকে অপরাহ উইনফ্রে অন্যদিকে জেনিফার লরেন্স

ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের ব্যানারে ৯ মার্চ আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা ‘আ রিঙ্কল ইন টাইম’। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে ছবিটি। জেনিফার লি’র চিত্রনাট্যে ছবিটি পরিচালনা করেছেন আভা ডুভার্নে। অভিনয় করছেন অপরাহ উইনফ্রে, ক্রিস পাইন, রিজ উইদারস্পুন ও জ্যাক গ্যালেফিনাকিসের মতো তারকারা। অন্যদিকে, এ ছবির সঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্স মুক্তি দিচ্ছে আরেকটি আলোচিত ছবি ‘রেড স্প্যারো’। জেসন ম্যাথিউসের ‘রেড স্প্যারো’ গ্রন্থ অনুসারে ফ্রান্সিস লরেন্স পরিচালিত এ ছবিতে মূল চরিত্রে অর্থাৎ গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেনিফার লরেন্স। এ ছাড়া রয়েছেন জোয়েল এডগার্টন, শার্লট র‌্যামপ্লিং, জেরেমি আয়রন্স, মেরি-লুইস পার্কারসহ আরও অনেকে।

‘আ রিঙ্কল ইন টাইম’
প্রায় পাঁচ বছর হলো মেগ মারে বাবাকে ছাড়া থাকছে। তবে সে একা নয়। তার ছোট ভাই চার্লস তার এই সময়টায় সবচেয়ে আপনজন হিসেবে পাশে আছে। সেদিন বাবা একটা নতুন গ্রহের খোঁজ পেলেন। এরপর সেই যে বেরিয়ে গেলেন, আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ একটা সময় কেমন দেখতে দেখতে কেটে গেলো! হঠাৎ একদিন মেগের সাথে দেখা হয় অদ্ভুত তিন অভিযাত্রীর সাথে। তারপর সহপাঠী ক্যালভিনকে নিয়ে তাদের সাথে সে বের হয় সেই গ্রহের সন্ধানে। এভাবেই এগিয়েছে মেডেলিন লেঙ্গেলের ‘আ রিঙ্কল ইন টাইম’ বইয়ের গল্প। এই গল্পের উপর ভিত্তি করেই নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র। বইয়ের নামেই চলচ্চিত্রের নাম রাখা হয়েছে। প্রায় একশ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এ ছবিটি বছরের সেরা ছবিগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন থাকলেও এ ছবির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন বিশ্বখ্যাত টিভি উপস্থাপিকা অপরাহ উইনফ্রে। ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মূলত উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিতি পেলেও হলিউডের চলচ্চিত্র পরিবারেরও একজন তিনি। এ যাবৎ ১৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার মধ্যে দ্য ইমরটাল লাইফ অব হেনরিটা ল্যাক্স, আনটাইটেলড রিচার্ড প্রায়র বায়োপিক, গ্রিনলিফ, সেলমা, লি ড্যানিয়েলস দ্য বাটলার, বিলাভড, বিফোর উইমেন হ্যাড উইংস, দেয়ার আর নো চিলড্রেন হেয়ার, ব্রুস্টার প্লেস, দ্য উইমেন অব ব্রুস্টার প্লেস, নেটিভ সান, দ্য কালার পার্পল ছবিগুলোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অধিকাংশ ছবিতেই তিনি মূল চরিত্রের অভিনেত্রী ছিলেন। যার ধারাবাহিকতা থাকছে ‘আ রিঙ্কল ইন টাইম’ ছবিতেও।

ইতোমধ্যেই ছবিটি নিয়ে নিজের আশাবাদের কথা জানিয়েছেন তিনি। হলিউডভিত্তিক বিভিন্ন সিনে ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এ ছবি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চমৎকার কাহিনী এবং নির্মাণে আধুনিকতা ছবিটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। কাজটি দারুণ উপভোগ করেছি আমি। দর্শকরাও বঞ্চিত হবেন না আশা করি’।

উল্লেখ্য, টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের একশজন সর্বোচ্চ প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় অপরাহ উইনফ্রে একমাত্র নারী যিনি টানা আটবার নির্বাচিত হয়েছেন। যেখানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র পাঁচবার। অন্যদিকে, সিএনএন এবং টাইম ডট কম অপরাহকে বিশ্বের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান নারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রেড স্প্যারো
প্রিমা ব্যালেরিনা ডোমিনিকা এগরোভা। আচমকা এক আঘাত পেয়ে নিজের পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। যোগ দেয় রেড স্প্যারোতে। সেখানে নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করে সে। হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শেখে নিজেকে। একের পর এক দুরুহ সব ধাপ আর পরীক্ষা পার করে চৌকষ গুপ্তচর হয়ে ওঠে। সে মানুষের মন পড়তে পারে এবং তথ্য আদায়ের উদ্দেশ্যে পুরুষ প্রতিপক্ষকে প্রলুব্ধ করার বিষয়ে বেশ দক্ষ। মিশনে যোগ দিয়ে রাশিয়ান গুপ্তচর হিসেবে কাজ করে। সিআইএর ভেতরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। কাজ করতে গিয়ে একসময় সিআইএ অফিসার জোয়েল এডগার্টনের প্রেমে পড়ে যায় সে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অবিশ্বাসের জালের মধ্যে কেবল ওই একটি মানুষকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রকৃত অর্থে ডোমিনিকা কি শুধুই একজন রাশিয়ান গুপ্তচর, নাকি ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে সে? নানা সন্দেহ-সংশয় ঘূরপাক খায়।
সমালোচকদের মন জয় করে ছবিটি। ৫ ফেব্রুয়ারি প্রিমিয়ার শো-এর পর অনেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান ছবিটিকে নিয়ে। তবে ছবিটি মুক্তি দিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ছবির কলাকুশলীকে। প্রথমদিকে আর রেটিং পেয়ে অনেকটা বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল রেড স্প্যারো। নৃশংসতা, নগ্নতা, অপ্রীতিকর ভাষা এবং যৌন নৃশংসতার জন্য আটকে যায় ছবিটি। যুক্তরাজ্যে আন্ডার ফিফটিন এবং কানাডায় ১৮এ রেটিং পায় চলচ্চিত্রটি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে সহিংসতা এবং যৌনতার জন্য সমালোচিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।

কিন্তু সমালোচনায় অনেক এগিয়ে থাকলেও রোটেন টম্যাটোজের কাছ থেকে ৬৪ শতাংশ রেটিং পেয়েছে মুভিটি। ১০-এর মধ্যে একে দেওয়া হয়েছে ৬। মেটাক্রিটিক অবশ্য আরও একটু বেশি সমালোচনা করার মাধ্যমে ছবিটিকে দিয়েছে মাত্র ৫৬ শতাংশ রেটিং। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দর্শকরা মেতে আছেন জেনিফার লরেন্সকে নিয়ে। ছবিতে তার আবেদনময় উপস্থিতি এবং অনবদ্য অভিনয় দৃষ্টি কেড়েছে সবার। যার ফল মিলেছে বক্স অফিসেও।

 


মন্তব্য