kalerkantho


সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন শাহরুখ খান!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৯:৪৭



সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন শাহরুখ খান!

শাহরুখ খান বলিউডের সবচেয়ে সম্মানীয় অভিনেতাদের মধ্যে একজন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি সবসময় ভদ্র ব্যবহার করেন। কিন্তু একবার এক সাংবাদিককে এমন গালিগালাজ করেছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন যে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার পর্যন্ত করেছিলেন।

একবার একটা জনপ্রিয় ফিল্ম ম্যাগাজিনে শাহরুখ সম্বন্ধে একটা আর্টিকল প্রকাশিত হয়। সেখানে লেখা হয় একজন পরিচালকের কথায় নাকি শাহরুখ একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। এটা পড়ার পর শাহরুখ প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ওই পত্রিকার একজন সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দেন। অনুপমা চোপড়া পরে এই বিষয়ে তার বই ‘কিং অফ বলিউড: শাহরুখ খান অ্যান্ড দ্য সিডাকটিভ ওয়ার্ল্ড অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা‘-তে এই ঘটনার উল্লেখ করেন।

সালটা ছিল ১৯৯২। এই সময় শাহরুখ ‘মায়া মেমসাব‘ ছবির জন্য একটা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিং করেন অভিনেত্রী দীপা শাহির সঙ্গে। এই ছবির পরিচালক ছিলেন দীপা শাহির স্বামী কেতন মেহতা।

ওই সময়কার জনপ্রিয় ফিল্মি পত্রিকা সিনে ব্লিতজ একটা আর্টিকল প্রকাশ করে। সেই আর্টিকল থেকে জানা যায় কেতন মেহতা নাকি শাহরুখকে দীপার সঙ্গে একটা হোটেলে রাত কাটানোর নির্দেশ দেন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিং এর আগে। যাতে তারা একসঙ্গে রাত কাটানোর পর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং সহজেই ওই দৃশ্যটার শ্যুটিং করতে পারেন।

সেইখান থেকে আরো জানা যায় শাহরুখ নাকি কেতনের কথায় রাজি হয়ে দীপার সঙ্গে রাত কাটান। এবং এর পরের দিন ওই দৃশ্যের শ্যুটিং হয়।

পত্রিকাতে প্রকাশিত ওই আর্টিকলটা যিনি লেখেন তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু এর কয়েকদিন পরে এই পত্রিকার একজন সাংবাদিক কেত ডি কোস্টা‘র সঙ্গে দেখা হয় শাহরুখের। শাহরুখ ধরেই নেন ওই আর্টিকলটা কেত লিখেছেন। কিনি সবার সামনেই কেত কে গালাগালি দেন।

এখানেই শেষ নয়। সেই রাতে কেত কে ফোন করে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন শাহরুখ। এবং তার পরের দিন সত্যিকারের কেতের বাড়িতে গিয়ে কেতের বাবা মায়ের সামনেই সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। গালিগালাজ করা ছাড়াও তিনি কেত কে আরো একবার মেরে ফেলার হুমকি দেন।

পত্রিকার সম্পাদকের বুদ্ধিতে কেত শাহরুখের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি‚ শাহরুখ তাকে ফোনে হুমকি দিতেই থাকেন। এর পরেরদিন শাহরুখকে গ্রফতার করে পুলিশ। ততদিনে শাহরুখ একজন নামকরা স্টার হয়ে গেছেন। তাই জেলে পোড়া হয়নি তাকে। এমনকি থানাতে কয়েকজন পুলিশ তার অটোগ্রাফও নেন। সেখানে শাহরুখ পুলিশের কাছে একজনকে একটা ফোন করার অনুরোধ করেন। এবং অবিশ্বাস্য হলেও তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে ফোন না করে তিনি। কেত কে ফোন করে থানা থেকে গালাগালি দেন।

শাহরুখ পুলিশের সামনেই কেত কে বলেন ‘আমি এখন থানায় আছি কিন্তু যে মুহূর্তে ছাড়া পাবো তোমার ওখানে গিয়ে আই উইল ফা.. ইউ।' পরে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ শাহরুখের এক বন্ধু জামিন দিয়ে ছাড়ায় তাকে।

এই ঘটনার দু‘বছর বাদে সিনে ব্লিটজ পত্রিকার অন্য এক সাংবাদিক শাহরুখকে বোঝাতে সক্ষম হন যে কেত ডি কোস্টা সেই আর্টিকলটা লেখেননি। শাহরুখ নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং কেতের কাছে ক্ষমা চান। এমনকি কেতের মা বাবার কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

একই সঙ্গে সিনে ব্লিটজের জন্য এক্সক্লুসিভ ফটোশ্যুটও করেন শাহরুখ। তবে আজ অবধি জানা যায়নি সেই সাংবাদিকের নাম যিনি শাহরুখ আর দীপাকে কেন্দ্র করে ওই আর্টিকলটি লেখেন।

প্রসঙ্গত ‘মায়া মেমসাব‘ ছবি থেকে ওই অন্তরঙ্গ দৃশ্য বাদ দিয়ে দিতে হয় সেন্সর বোর্ডের নির্দেশে। কিন্তু ২০০৮ সালে ইন্টারনেটে ওই দৃশ্য ফাঁস হয়ে যায়।



মন্তব্য