kalerkantho


'ইত্যাদি' মানেই রুপুর গান...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৪:০৫



'ইত্যাদি' মানেই রুপুর গান...

আলী আকবর রুপু, ছবিটি এখন স্মৃতি

এই তো বছর দুয়েক আগের কথা। সুস্থ-সবল তিনি। কথা বলেছিলেন কালের কণ্ঠ'র সঙ্গে। কিন্তু আজ সেই মানুষটি আর নেই। দেশের সংগীত ভুবনে শূন্যতা ফেলে চলে গেলে আলী আকবর রুপু। আজ বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

দেশের আনাচে-কানাচে তুমুল জনপ্রিয় ম্যগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'। 'ইত্যাদি' মানেই থাকছে দারুণ দু-একটি গান। আর ইত্যাদির এসব গান মানেই রুপুর গান। তেমনটাই বুঝতেন ইত্যাদির বিপুল পরিমাণ দর্শক। কেবল ইত্যাদি-ই নয়, অনেক খ্যাতিমান শিল্পী ও অনেক নবাগত শিল্পীর গান তিনি সুর করেছেন। অডিওতে এমন তার অনেক গান রয়েছে যা শ্রোতার হৃদয় অবধি পৌঁছায়। চলচ্চিত্রেও রয়েছে তার কর্মপরিধি। বাংলাভিশনের সংগীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১১ বছর।

সেই ১৯৮০ সালের কথা, ৩৮ বছর পেরিয়েছে বাংলাদেশের সংগীত জগতে তার পরচারণা শুরু হয়। প্রথম অ্যালবাম 'একটি দুর্ঘটনা'। আর জাফর ইকবাল ও অঞ্জনার ওই দ্বৈত অ্যালবামেই বাজিমাত। আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের মেধা ও শ্রমের দ্বৈতে সংগীতে অবদান রেখে গেছেন। 

কুমার বিশ্বজিতের ‘একদিন কান্নার রোল পড়বে আমার বাড়িতে’, ‘যারে ঘর দিলা সংসার দিলা’, ‘মুর্দায় কাইন্দা কয়’, তপন চৌধুরীর ‘যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণই আশ’- এ গানগুলো সেই সময় কার না ঘরে বাজতো! এ ছাড়াও রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, দিলরুবা খান, শুভ্র দেব প্রমুখের জন্যেও গান করেছেন রুপু। 

ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা চলাকালে নোলক বাবু ও মাহাদীর জন্যেও গান বানিয়েছিলেন রুপু। সেই সব গান কতটা জনপ্রিয় তা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। শ্রোতারা দারুণভাবে গ্রহণও করেছিলেন। 

ইত্যাদি'র জন্যে তার করা সব গানই দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। সাবিনা ইয়াসমীনের ‘প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি’, এন্ড্রু কিশোরের ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’, মুরাদের ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি’ ইত্যাদির কথা না বললেই নয়। এই অনুষ্ঠানে তার সুরে গেয়েছেন আরো অনেক গুণী শিল্পী। 

১৯৮৪ সালে মালেক আফসারীর ‘রাস্তার ছেলে’ দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ। সর্বশেষ সংযোজন আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘দুই বেয়াইর কীর্তি’। খুব বেশি নয়, তবুও পাঁচ-ছয়টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন সফলতার সঙ্গে। 

সংগীতপ্রেমী বংশের ছেলে তিনি। তার বাবা মনসুর আলী ছিলেন অনেক জনপ্রিয় গানের সুরকার। সেতার বাজাতেন মা জামিলা মনসুর। বড় চাচা ধীর আলীও নন্দিত সুরকার। মামা আলাউদ্দিন আলীও সুরের ভুবনে মিশে আছেন। ছোট ভাই আলী আকতার রুনুও ব্যতিক্রম নন। চাচাতো ভাই আলী আকরাম শুভ তো বর্তমান চলচ্চিত্রের ব্যস্ত সুরকার। 


মন্তব্য