kalerkantho


'চুরি'র দায়ে 'শেপ অব ওয়াটার'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:৪১



'চুরি'র দায়ে 'শেপ অব ওয়াটার'

১৩টি বিভাগে অস্কার নমিনেশন পাওয়া পরিচালক গুলের্মো দেল তোরো তাঁর নতুন ছবি 'দ্য শেপ অব ওয়াটার' নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এর কাহিনি না-কি চুরি করা। আর সে চুরি যেনতেন জায়গা থেকে নয়। সেলিব্রিটি নাট্যকার পল জিন্দেলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, ছবিটির প্লট-লাইন 'নিশ্চয়ই' ১৯৬৯ সালে পল জিন্দেল রচিত ও মঞ্চস্থ নাটক 'লেট মি হিয়ার ইওর হুইসপার' থেকে নেওয়া।

গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, পুলিৎজার-বিজয়ী নাট্যকার পল জিন্দেলের পুত্র ডেভিড জিন্দেল ছবিটির পরিচালক দেল তোরো ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্স সার্চলাইট-এর প্রতি আঙুল নির্দেশ করে বলেন, 'আইডিয়া' চুরি করার অধিকার তাদের কেউ দেয়নি।

আরো পড়ুন : ঋষি দম্পতির প্রশংসায় ভাসলেন দীপিকা 

তিনি আরো বলেন, এটি খুবই ঘৃণ্য একটি ব্যাপার। আমরা স্তম্ভিত, এটা সরাসরি চুরি। আমাদের কাছে এটির প্লট 'ধার' নেওয়ার জন্য কেউ আসেনি। এবং আমাদের প্রয়াত পিতার সম্মানহানিতে আমরা ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা এই দুটি বিষয়ের (নাটক ও ছবির স্টোরি-লাইন) মধ্যে দারুণ মিল খুঁজে পেয়েছেন, যা অযাচিত। বিষয়টি আমাদের নজরে আনার জন্য পল জিন্দেলের ভক্তদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

আরো পড়ুন : পদ্মাবত-এ দুই নায়কের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছেন দীপিকা!

'দ্য শেপ অব ওয়াটার' ছবির কাহিনি গত শতকের ষাটের দশকের। যেখানে দেখা যায়, একজন নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে যিনি বাল্টিমোর ল্যাবরেটরিতে কর্মরত এবং ভালোবেসে ফেলেন সেখানে বন্দি করে রাখা এক অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণীর। ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্যালি হকিন্স।

আর জিন্দেলের নাটকটির বিষয়বন্তু ছিল প্রায় একইরকম। এখানে প্রধান চরিত্র নীনা কাজ করেন একটি বায়োলজিক্যাল টেস্টিং ফ্যাসিলিটিতে। সেখানে তিনি একজন রাত্রিকালীন ক্লিনার। এখানে তিনিও একটি 'টেস্টিং ক্রিয়েচার'-এর বাঁধনে জড়িয়ে যান। আর সেটি একটি ডলফিন, যাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মেরে ফেলা হবে। শেষ পর্যন্ত হেলেন তাঁর বন্ধু ও সহকর্মীদের সাহায্যে ডলফিনটির জীবন রক্ষা করেন।

আরো পড়ুন : 'পদ্মাবত' একাই মাত করলেন 'খিলজি' রণবীর!

উভয় কাহিনিতেই রয়েছে আরেকটি মুখ্য চরিত্র, যে থাকে একজন প্রহরী। তার সাথে প্রধান চরিত্রের বন্ধুতা হয় এবং তার সাহায্যেই প্রাণীদের বাঁচানো সম্ভব হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফক্স সার্চলাইট এক বিবৃতিতে জানায়, ছবিটির পরিচালক দেল তোরো এই নাটকটি কখনো পড়েননি বা দেখেননি। তাঁর ২৫ বছরের ক্যারিয়ার। তিনি বানিয়েছেন ১০টি ফিচার ফিল্ম। তাঁর বিরুদ্ধে এমন 'বাজে' অভিযোগ আগে কেউ কখনো করেনি। অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে আমরা মনে করি। তারপরও, আমরা এই 'মৌলিক' কাজটি নিয়ে পল জিন্দেলের পরিবারের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি আছি।
সূত্র : গার্ডিয়ান  


মন্তব্য