kalerkantho


দেশে ফিরে যা বললেন অনন্য মামুন

মাহতাব হোসেন   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৩৫



দেশে ফিরে যা বললেন অনন্য মামুন

মালয়েশিয়ায় দুটো কারণে গ্রেপ্তার করা হয়। এক. সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুই. সন্দেহের ভিত্তিতে। আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সন্দেহের ভিত্তিতে। আমাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের হেফাজতে ১৪ দিন রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কথাগুলো বলছিলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় আটক হওয়া চিত্রপরিচালক অনন্য মামুন। দেশে ফিরে কালের কণ্ঠের সাথে আলাপকালে জানালেন বিস্তারিত। গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দেশে ফিরেছেন।

অনন্য মামুন বলেন, আমি দেশে ফিরেই অবাক হয়ে খেয়াল করলাম এখানে প্রচার হয়ে গেছে আমি দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছি দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছি, ধ্বংসাত্মক কাজ করেছি। এসব আমাকে ব্যথিত করেছে। আমাদের আটক করা হয়েছিল একটি কমপ্লেইন পেয়ে। এই কমপ্লেইনটাও করা হয়েছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

মামুন বলেন, আমাদের মালয়েশিয়ায় শো ছিল ২৩ ডিসেম্বর। শো-এর আগে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। আমরা চাঁদা দিতে অপারগ ছিলাম। পরে আমাদের কাছে ৫০০ টিকেট ফ্রি-তে চাওয়া হয়। কিন্তু আমরা কীভাবে ফ্রি টিকেট দেবো? আমাদের শো সাকসেসফুল হওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে ওই গোষ্ঠী পুলিশের নিকট মিথ্যা অভিযোগ করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরে মালয়েশিয়ার পুলিশ বুঝতে পারে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যার কারণে আমরা এখন দেশে, আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি।

এই গোষ্ঠী কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে এই চিত্রপরিচালক বলেন, এখনও বিষয়টি নিয়ে দেশটির পুলিশ তদন্ত করছে। কারা এই হ্যারাজমেন্টের ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা জানার চেষ্টা চলছে। আমি এখন এই বিষয়ে কথা বলতে পারছি না। তবে আমি বলতে পারি, আমাদের কাছে সবকিছুই ভ্যালিড ছিল। আমাদের কাছে পাসপোর্ট, ভিসা, রিটার্ন টিকেট সবকিছুই ছিল।

অনন্য মামুন বলেন, আমি চাইলে শো-এর পরের দিন দেশে ফিরে চলে আসতে পারতাম। কিন্তু আমি তো সঠিক পথেই ছিলাম, আমার কোনো ভয় ছিল না। দেশে ফিরে অনেকেই সাক্ষাৎকারে বলেছে, আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমাকে খুঁজে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব মিথ্যা। যেখানে আমার সব কাগজপত্রই সঠিক রয়েছে সেখানে আমি পালিয়ে থাকতে যাবো কেন?

তাহলে এতোদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থানের কারণ কী? অনন্য মামুন বলেন, মালয়েশিয়ার পুলিশ আমাদের ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে নেয়। সেখানেই আমাদের নানা জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে। এরপর তারা আমাদের ওপর প্রাপ্ত অভিযোগ সম্পর্কে কোনো সত্যতা না পেয়ে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অনন্য মামুন বলেন, সেখানে আমাদের আদালতে তোলাও হয়নি। জাস্ট আটক করে তাদের হেফাজতে রেখেছে। আদালতে যে তুলবে পুলিশ তাদের কাছে কোনো তথ্য-উপাত্তও ছিল না। তারা এই ১৪ দিন ইনভেস্টিগেট করেছে। তাতে এমন কিছু পায়নি যে আমাদের আদালতে তোলা হবে। আদালতে তুলতে হলে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ থাকতে হবে। যেটা মালয়েশিয়ার পুলিশ পায়নি।

অনন্য মামুনের চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্যপদ আজীবন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেখেন আমাদের সেখানে আটক করে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখান থেকে গণমাধ্যমে সঠিক খবর আসার উপায় ছিল না। আপনি মালয়েশিয়ার পত্রিকাগুলোতে দেখতে পারবেন সেখানে বলা হয়েছে সন্দেহজনকভাবে আমাদের আটক করা হয়েছে। এই একটি ওয়ার্ড আমাদের দেশের অনেক গণমাধ্যম ভুল করে ফেলছে। যার কারণে পরিচালক সমিতি পত্রিকার বক্তব্যের ওপর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহসচিব বদিউল আলম খোকন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন গণমাধ্যমের খবরের ওপর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে তারা আবার বসবেন, আবার সিদ্ধান্ত নেবেন।

মামুন বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর তিনি, তার সহকারী ও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে মালয়েশিয়া যাওয়া কর্মীসহ ‘মোট ১৯ জনকে’ পুলিশ আটক করে। সবাইকেই এখন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশের শোবিজ তারকাদের নিয়ে ‘বাংলাদেশি নাইটস’ নামক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে করতে ২২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া যান ‘অস্তিত্ব’ খ্যাত নির্মাতা অনন্য মামুন। কিন্তু ‘আদম পাচারের’ অভিযোগ পেয়ে কুয়ালালামপুর থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ পরিচালক সমিতি অনন্য মামুনের সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল ঘোষণা করে।


মন্তব্য