kalerkantho


নারী জাগরণের চিরায়ত নাটক 'আয়না বিবির পালা'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:১১



নারী জাগরণের চিরায়ত নাটক 'আয়না বিবির পালা'

নতুন বছরের শুরুতেই আগামীকাল ৩ জানুয়ারি বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে নারী জাগরণের নাটক ‘আয়না বিবির পালা’। লোকসাহিত্য সংকলন ময়মনসিংহ গীতিকার ‘আয়না বিবি’ হলো নারীর প্রতি সমাজের অমানবিকতার অন্যতম দৃষ্টান্ত। তবুও কিছু নারী হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। শৃঙ্খল ভাঙা প্রদিতবাদী এক নারীর গল্প নিয়ে নাট্যধারার ২০তম প্রযোজনা ‘আয়না বিবির পালা’। রবিউল আলমের নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় নাটকটির নবনির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফ করেছেন লিটু সাখাওয়াত।

বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য ‘পালা’র প্রতি রয়েছে তাদের গভীর ভালোবাসা এবং ভালোলাগা। এই পালার প্রধান চরিত্র ‘আয়না বিবি’। ‘আয়না বিবি’ দূর যুগের লৌকিক গল্প বা কথন থেকে গ্রামীণ প্রেম-বিশ্বাসের পটভূমিকায় মৌখিকভাবে রচিত ও চর্চিত। গল্পের আবেদন বর্তমান পেশাবাদী আধুনিক যুগে এসেও শেষ হয়ে যায়নি। ভোগবাদী পুরুষতন্ত্রের সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বক্তৃতামালা, কলমের খোঁচায় পত্রিকার কলামে, ফেসবুকের পাতায় বা ওয়েব লিংকে যতটা বলিষ্ঠতা পায়, বাস্তবে ততটা পায় না। কর্পোরেট কালচারেও ঘরে ফেরা নারী ঘরের চৌকাঠে পা রেখেই হয়ে যান গৃহিণী, শোষিত-বঞ্চিত নতমুখী নারী। পরিবর্তন যে কিছুই হয়নি, তা বলা অর্থপূর্ণ নয়। সে যুগেও আমরা বলিষ্ঠ, কর্তৃত্বপরায়ণ নারী চরিত্রের সন্ধান পাই।
উজ্জলের মা কিংবা কুরুঞ্জিয়া নারীরা পুরুষের চেয়ে ক্ষমতায়-নেতৃত্বে কোনো অংশে কম নন, বরং পুরুষরা সেখানে অবনত বা সমান্তরাল। কিন্তু এটাকে পুরো সমাজ ব্যবস্থার চিত্র বলা যাবে না, বলা যায় বিচ্ছিন্ন ছেঁড়াপত্র, যেমনটি কুরুঞ্জিয়া জাতি ও সমাজ বিচ্ছিন্ন। প্রকৃতচিত্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মস্তিষ্কের চাপে সত্য যুগের সীতাকে যেমন অগ্নপরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হয়েছে, পতি ছাড়া হতে হয়েছে, ঠিক তেমনি আয়নাকে হতে হয়েছে ঘরছাড়া, স্বামীছাড়া এবং আয়নার এই বিসর্জনের প্রক্রিয়ার শেষ ছোঁয়াটা নিগৃহীত সকলের মতোই তার স্বামীর।

নাট্যধারা নাটকটিতে পালারীতি থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। নবনির্দেশক লিটু সাখাওয়াত নাটকটি নিয়ে বলেন, 'বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ঐহিত্য পালাগান। এই ধারার প্রতি আমার রয়েছে গভীর ভালোবাসা। যখন থেকে থিয়েটার শুরু করেছি, তখন থেকেই স্বপ্ন লালন করতাম অন্তরে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছি। আর নাট্যধারার কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই প্রযোজনা। খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত প্রান্তরে পালাকার যা শত বছর ধরে পরিবেশন করে আসছে, তা আমরা প্রসেনিয়ামের ঘেরাটোপে সুনির্দিষ্ট চরিত্রায়নের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরেছি।'

নাটকের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন লিটু সাখাওয়াত এবং সব্যসাচী চঞ্চল। পোশাক ও মুখোশ ডিজাইন করেছেন শুচিস্মীতা বোস শাওলী। সেট করেছেন রফিকুল ইসলাম এবং আলোক পরিকল্পনায় আছেন শাকিল আহমেদ। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিটু সাখাওয়াত, দীপান্বিতা, গাজী রহিসুল ইসলাম তমাল, কামাল হোসেন, হাফসা আক্তার, রুবেল, সব্যসাচী চঞ্চল, রফিকুল ইসলাম, মিরাজ, রবিন, নাঈম, ইমরান প্রমুখ।


মন্তব্য