kalerkantho


এই মুহূর্তে কলকাতার জনপ্রিয় ৫ ধারাবাহিক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৫৮



এই মুহূর্তে কলকাতার জনপ্রিয় ৫ ধারাবাহিক

ভালো-লাগা বা খারাপ-লাগা দর্শকের একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয় তাই মতবিরোধ থাকতেই পারে। টেলিভিশনের ব্যবসায়িক দিকটির জন্য টিআরপি ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তার ওপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞাপন আসে আর এই টিআরপির নির্ভর করে ধারাবাহিকটি কতজন দর্শক দেখছেন তার ওপর।

তাই দর্শক কী চাইছেন আর কী চাইছেন না, সেটা বুঝে সেই অনুযায়ী ধারাবাহিকের গল্প এগোয়। এখানেই এসে পড়ে সেই অমোঘ প্রশ্ন, দর্শকের মানোন্নয়ন কি টেলি-নির্মাতাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? অর্থাৎ ঠিক যেভাবে ছবির জগৎ এখন দ্বিধাবিভক্ত, কনটেন্ট-বেসড ছবি ও পুরোপুরি মশলামাখা-একই ছকে গোল গোল ঘুরে বেড়ানো বাণিজ্যিক ছবি, তেমনটা টেলিভিশনে কি ঘটতে পারে না? এমন ধারাবাহিক কি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় না যা শুধুমাত্র বিনোদন নয় বরং দর্শকের মননকে সমৃদ্ধ করবে?

এই বিতর্ক আজকের নয়, গত দুই দশক ধরে চলছে! হয়তো সেই কারণেই সুবর্ণলতা বা চোখের বালির মতো সাহিত্যধর্মী ধারাবাহিক আমরা পেয়েছি। আবার পুরোপুরি সোশাল ড্রামা হয়েও বাংলা টেলিভিশনকে সমৃদ্ধ করেছে এক আকাশের নিচের মতো ধারাবাহিক। কিন্তু সস্তা রসিকতা ও আদ্যোপান্ত সেক্সুয়াল কনোটেশনে ভরপুর সংলাপের সুড়সুড়ি দিয়ে দর্শক টানার প্রবণতাই ইদানীং চোখে পড়ছে বেশি। দর্শকদের একটি বড় অংশ এখনো বিনোদন বলতে কি শুধু এইটিই বোঝেন? আবার শিশু চরিত্রকে সামনে রেখে, তাদের মুখে অস্বাভাবিক সব সংলাপ বসিয়ে দর্শককে আকর্ষণ করার চেষ্টা এখন একটা প্যাটার্নে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বরং শাশুড়ি-বউ-পারিবারিক কূটকচালি এখন পুরনো চাল হয়েও ভাতে খুব একটা বাড়ছে না!

কিন্তু স্রোতে গা না ভাসিয়ে, দর্শকের কাছে উন্নতমানের কনটেন্ট তুলে ধরেও যে টিআরপি-তে শীর্ষে থাকা যায়, সেটা প্রমাণ করেছে রাণী রাসমণি। এই ধারাবাহিকটি যে সবদিক থেকেই এই মুহূর্তে সেরা, সেটা আর দর্শককে নতুন করে বলে দিতে হবে না। কিন্তু রাসমণি ছাড়াও আরো পাঁচটি ধারাবাহিক রয়েছে এই মুহূর্তে, যেগুলি সত্যিই ভ্যালু অ্যাডিশন ঘটিয়েছে বাংলা টেলিজগতে।

সবার আগে বলতে হয় আকাশ ৮-এর জগজ্জননী মা সারদা ধারাবাহিকটির কথা।

অত্যন্ত যত্নে বানানো, অথেন্টিক বায়োপিক। ঠাকুর ও মায়ের জীবনের সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য উঠে এসেছে এই ধারাবাহিকে। অভিনয়ও অসাধারণ। সম্প্রচারের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। স্টার জলসার রাত ১১টার স্লটের ধারাবাহিক ভক্তের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-কে রাখতেই হবে সেরা পাঁচে কারণ এর আগে শ্রীকৃষ্ণ-কে নিয়ে এতটা গবেষণামূলক কাজ হয়নি বাংলা টেলিভিশনে। চতুর্থ নম্বরে কিন্তু রয়েছে একটি সোশাল ড্রামা, জি বাংলা-র অন্দরমহল। নারী প্রগতির কথা এত সাটল ভঙ্গিতে বলছে এই ধারাবাহিক যে তা এককথায় অসাধারণ। বছরের পর বছর যে মহিলারা তাঁদের স্বামী এবং সংসারের হাতে নির্যাতিত হয়ে এসেছেন, তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় এই ধারাবাহিক। অথচ একই সঙ্গে পারিবারিক ট্রাডিশনকে সম্মান করতেও শেখায়।

তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন সন্ন্যাসী রাজা। খুব অল্পদিনের মধ্যেই অত্যন্ত আশা জাগিয়েছে। হয়তো স্ট্র্যাটেজিক কারণেই এই ধারাবাহিকের উৎপত্তি কিন্তু পিরিয়ড ধারাবাহিক নির্মাণে যে ডিটেলিং প্রয়োজন হয়, তা পুরোমাত্রায় রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, পরিজনদের ষড়যন্ত্র, অভিজাত অন্তঃপুরের পলিটিক্স, এসব কিছুর পর আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করে এই ধারাবাহিক ব্যক্তি-স্বাধীনতা! বাঙালি এখনো বিষয়টা ভালো বোঝে না আর বুঝতে গিয়ে বার বার জেন্ডার পলিটিক্স ঢুকে পড়ে তার মধ্যে। সন্ন্যাসী রাজা কিন্তু খুবই মুন্সিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরছে এই আপাতদৃষ্টিতে জটিল বিষয়টিকে, জেন্ডার বায়াসকে সন্তর্পণে পাশ কাটিয়ে।

 


মন্তব্য