kalerkantho


একজন জন্মান্ধ গায়ক মোহন আলী

আজিজুর রহমান চৌধুরী   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ১১:২২



একজন জন্মান্ধ গায়ক মোহন আলী

'দুঃখ দিয়া সুখ যদি পাও বান্ধব-যত খুশি ব্যথা দিয়া যাও, আমার মনে আঘাত দিয়া সুখের বৈঠা বাও-যত খুশি ব্যথা দিয়া যাও'- এমন শতাধিক গান গেয়ে একাই ঘুরে বেড়ান জন্মান্ধ মোহন আলী। তিনি অন্তরের চোখ দিয়ে দুনিয়াটাকে অনুভব করেন। অন্তরের চোখ দিয়েই দুনিয়াকে দেখেন।

মোহন আলীর বাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে শেরপুর জেলার নন্দী বাজার এলাকায়। জামালপুর প্রেসক্লাবে গতকাল দুপুরে এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব মোহন আলী। ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন জামালপুর শহরে আসেন তিনি। তার দরদী কণ্ঠর গান শ্রোতারা তন্ময় হয়ে শোনেন। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন তার নিজের কণ্ঠ আর একটি সরোজ। সরোজ বাজিয়ে গান গেয়ে তিনি মানুষকে আনন্দ দেন। বিনিময়ে খুশি হয়ে যে যা দেন, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন। সারা দিন ঘুরে বেড়ান জামালপুর শহরের বিভিন্ন অফিস-আদালতে।

ওই সব জায়গায় গান গেয়ে রোজগার করে সংসার চলে তার। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করান। সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে উপার্জনক্ষম করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। মেয়ে চট্টগ্রামে সরকারি মহিলা পলিটেকনিক্যাল কলেজে পড়েন। এক ছেলে পড়ে স্কাউট স্কুলে, আরেক ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

মোহন আলী বলেন, "চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখার সৌভাগ্য নিয়ে জন্মাতে পারিনি। তবে অন্তরের চোখ দিয়ে সব কিছু দেখি আর অনুভব করি মানুষের দয়া-মায়া ও জীবনযাপন। সারা দিন গান গেয়ে যা উপার্জন করি, তা দিয়েই চলে সংসার এবং ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া। " তিনি বলেন, "আমি গান গেয়ে উপার্জন করে তিন সন্তানকে পড়াই, ওরাই আমার ভবিষ্যৎ। "

 


মন্তব্য