kalerkantho


নেকেডে প্রশ্ন, ভারচুয়াল জগতেও কি সুরক্ষিত নারী?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৭ ১৫:৩৫



নেকেডে প্রশ্ন, ভারচুয়াল জগতেও কি সুরক্ষিত নারী?

নারী। এক অঙ্গে অনেক রূপ।

কখনও একা হাতে সংসার সামলানো মা তো কখনও ভরসার মর্যাদা রাখা ভালো বন্ধু। কখনও পটু স্ত্রী তো কখনও দায়িত্ববান কর্মী। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছে নারী। তবু সমাজের এক অংশের রক্তচক্ষুর কাছে মাঝে মধ্যেই নিজেকে অসহায় মনে হয় নারীর। অনিয়ন্ত্রিত পৌরুষ আর লালসায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেতে হয় তাদের। এক মুহূর্তের ঘটনা গোটা জীবনকে ঠেলে দেয় গভীর অন্ধকারে। যেখান থেকে নিজেদের আর উদ্ধার করতে পারেন না অনেকেই। আবার হয়তো কেউ কেউ পারেন। ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই চালান সমাজের হীনমন্যতার বিরুদ্ধে। তেমনই দুই প্রতিবাদী নারীর যুগলবন্দি, অনলাইনে ফুটিয়ে তুললেন পরিচালক রাকেশ কুমার। নারী দিবসে মুক্তি পেল তার ছবি নেকেড।

ধর্ষণ মানে তো শুধুই নারী শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়া নয়। একবিংশ শতকে প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও ধর্ষিত হতে হচ্ছে বহু মহিলাকে। সোশাল মিডিয়ায় পোশাক নিয়ে কট্টরপন্থীদের কটাক্ষের শিকার হতে হয় সেলিব্রিটিদেরও। এই ছবিতেও নিজেদের তেমনই নগ্ন অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন অভিনেত্রী কালকি কোয়েচলিন এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী। সমালোচনাকে ভয় পান না তারা। কিন্তু অশ্লীল মন্তব্য তাদেরও মন খারাপ করে দেয়। বডিশেমিংয়ের উদাহরণ বর্তমান সমাজে নেহাত কম নয়। অনেকের আবার ধারণা নারীর পোশাক, ইন্টারনেটে যৌনতার বাড়বাড়ন্তই নাকি দেশে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে। নায়িকার প্রশ্ন, তবে ৫ বছরের শিশু অথবা বোরখার আড়ালে থাকা মহিলার দোষ কোথায়? উত্তর এখনও অজানা।

তবে ছবির মাধ্যমে পরিচালক নারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে গেলেন। যে ভার্চুয়াল মিডিয়া মানুষকে মনের কথা খুলে বলার স্বাধীনতা দিয়েছে, সেখানে প্রতিবাদের রাস্তাও তো খোলা। এবার সেই রাস্তায় হাঁটার পালা। কটূক্তিতে চুপ করে না থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হতে হবে। তা সে অ্যাকচুয়াল হোক অথবা ভার্চুয়াল দুনিয়া। পরিবর্তন নিজে থেকে আসে না, আনতে হয়। নারী দিবসে সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন কালকি এবং ঋতাভরী।

 


মন্তব্য