kalerkantho


চিত্রনায়ক বাপ্পির বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪৪



চিত্রনায়ক বাপ্পির বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ প্রজন্মের চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক প্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

তার এ দর্শক প্রিয়তা অর্জনের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও ভূমিকা কম নয়। এবার চিত্রনায়ক বাপ্পির বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানোসহ নানা টালবাহানার অভিযোগ এনে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে চিঠি পাঠিয়েছেন তরুণ নির্মাতা তাজুল ইসলাম।

উল্লেখ, গত বছর তাজুল ইসলাম পরিচালিত 'গোপন সংকেত' শিরোনামের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন বাপ্পি চৌধুরী। এ সময় তাকে সাইনিং মানি বাবদ ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন সিনেমাটির প্রযোজক। পিকক মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন নবাগত চিত্রনায়িকা রাফিয়া তিশা। তাদের নিয়ে ফটো সেশনও করা হয়। শুটিং শুরু করার সকল প্রস্তুতিও শেষ হয়। শুটিং শুরুর দুদিন আগে নতুন নায়িকার বিপরীতে কাজ করতে অস্বীকার করেন বাপ্পি। বাধ্য হয়ে সিনেমাটির শুটিং বন্ধ করতে হয় বলে জানান পরিচালক তাজুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে তাজুল ইসলাম বলেন, বাপ্পির মতামত গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তীতে পিয়া বিপাশাকে চুক্তিবদ্ধ করে শিডিউল চাওয়া হয় কিন্তু তখন বাপ্পি চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং শিডিউল জটিলতায় কাজটি বেশ পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে গত বছরের শেষের দিকে শিডিউল সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো পিয়া বিপাশার ফিটনেস নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং নায়িকা পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই বাপ্পির  সম্মতিক্রমে পরিচালক চলচ্চিত্রটির কাজ শুরু করার জন্য নবাগত আলভিরা ইমুকে নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ১৫ দিনের শুটিং শিডিউলে বাপ্পি চৌধুরীর ১০ দিনের ডেট নেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, দৃশ্যধারনের কাজ শুরু করে দুদিন বাপ্পিকে নিয়ে কাজ করেছি। এরপর বাপ্পি ক্লাসের অজুহাতে দুই দিন ব্রেক নেয়। তারপর থেকেই পুরো ইউনিটের সাথে টালবাহানা শুরু করেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি টানা ৩ দিন পুরো টিমকে নিজের ইচ্ছেমতো খেলনা সামগ্রী মনে করে বিভিন্ন অজুহাতে মুঠোফোন থেকে মেজেস দিয়ে শুটিংয়ে অনুপস্থিত থাকেন। শত চেষ্টায় তার সঙ্গে ফোনালাপ এবং সাক্ষাৎ লাভে ব্যর্থ হই।

এসব কারণে বাধ্য হয়ে 'গোপন সংকেত' সিনেমা থেকে বাপ্পিকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এবং টাকা ফেরত চেয়ে এসএমএস প্রদান করি। তাতেও বাপ্পি চৌধুরী নীরব ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির কাছে পুরো ঘটনার বিবরণী এবং প্রমাণাদি পেশ করে ক্ষতিপূরণসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। সমিতি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সমিতির স্টাডি রুমে বাপ্পিকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বাপ্পির কোনো খোঁজ নেই। তিনি আসবেন না। এখন পরিচালক সমিতি যা সিদ্ধান্ত নিবেন তাই মেনে নিব।

এ বিষয়টি জানতে বাপ্পি চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনটির সুইচ বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বার বার সিনেমাটির শুটিং প্যাক-আপ করায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েও শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন সিনেমাটির পরিচালক। বাপ্পি বাদে এখন অন্যান্য শিল্পীদের নিয়ে শুটিং করছেন তিনি। বাপ্পি-ইমু ছাড়াও এ সিনেমায় অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা মৌমিতা মৌ, সিয়াম খানসহ অনেকে।


মন্তব্য