kalerkantho


অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ক্যাম্বোডিয়া 'জাগরণ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:২৪



অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ক্যাম্বোডিয়া 'জাগরণ'

বিবিসির সাথে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন ক্যাম্বোডিয়া কিভাবে তার জন্য জেগে ওঠার মতো ঘটনা ছিল। জোলির নতুন সিনেমা 'ফার্স্ট দে কিল্ড মাই ফাদার' প্রদর্শনের পূর্বে তিনি বিবিসির সাথে কথা বলেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জোলি নিজে।

তিনি আশা করছেন ওই সময়ের মানসিক পীড়ন সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা করতে ক্যাম্বোডিয়ার মানুষকে সাহায্য করবে এই সিনেমাটি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত জোলি প্রথম ক্যাম্বোডিয়া সফর করেন ২০০১ সালে।

সেসময় 'লারা ক্রফ্ট : টুম্ব রেইডার' সিনেমার শুটিং করেন দেশটিতে। পরে সেখান থেকেই প্রথম সন্তান ম্যাডক্সকে দত্তক নেন।

বিবিসির ইয়ালদা হাকিমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "আমি এই দেশে এসে এখানকার মানুষের প্রেমে পড়ে যায়। আমি দেশটির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারি, তখন মনে হয়েছিল এই বিশ্ব সম্পর্কে আমি কত কম জানি। এই দেশটি আমার জন্য জাগরণ," বলছিলেন জোলি।

"আমি সব সময় এই দেশটির কাছে কৃতজ্ঞ থাকব, আমার মনে হয় না দেশটি আমাকে যা দিয়েছে তার সমপরিমাণ আমি ফেরত দিতে পারব।

''

'কঠিন সময়'
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রাড পিটের সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর এই প্রথম জনসম্মুখে এলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি বিবিসিকে বলেন, "এটা ছিল খুব কঠিন"।

২০০৪ সাল থেকে জোলি এবং পিট একসঙ্গে থাকতেন কিন্তু বিয়ে করেন ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে। জোলি বলেন, "আমার পুরো পরিবার কঠিন সময়ের ভিতর দিয়ে গেছে। আমার লক্ষ্য আমার সন্তানরা, আমাদের সন্তানরা। আমরা সব সময় একটা পরিবারের মতই থাকব। ''

ক্যাম্বোডিয়ার অ্যাংকর ওয়াট টেম্পল কমপ্লেক্স শনিবার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের আয়োজন করে ছবিটির পরিবেশনা সংস্থা নেটফ্লিক্স। জোলি এবং তার ছয় সন্তান ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্বোডিয়ার রাজা নরোডম শিহামনি। তিনি ২০০৫ সালে এই অভিনেত্রীকে ক্যাম্বোডিয়ার নাগরিকত্ব দেন। এই বছরেই একটা সময় সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

'যুদ্ধ সম্পর্কে বলতে সাহায্য করবে'
ফার্স্ট দে কিল্ড মাই ফাদার সিনেমা নির্মিত হয়েছে লুং ইয়ং নামে লেখকের একই নামের একটি বই এর গল্পের উপর ভিত্তি করে।

সিনেমাটিতে ক্যাম্বোডিয়ার খেমার রুজ যুদ্ধের গণহত্যার বর্ণনা করেছেন একজন শিশু। একজনের জীবনের সত্য কাহিনীর ওপর নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। ধারণা করা হয় ওই যুদ্ধে ২০ লাখ মানুষ নিহত হয়।

"যুদ্ধটি হয়েছে ৪০ বছর আগে। সেই সময় মানুষদের সাথে আসলে কি হয়েছিল সেটা সঠিক ভাবে বোঝা যায়নি। আমি আশা করছি সিনেমাটি দেশটির মানুষকে যুদ্ধ সম্পর্কে কথা বলতে সাহায্য করবে। কারণ অনেক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি আছেন যারা তাদের সন্তানদের সেই গল্পগুলো বলেন না," বলছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
সূত্র : বিবিসি বাংলা


মন্তব্য