kalerkantho

26th march banner

কল্যাণের জামিন নামঞ্জুর, কারাফটকে জিজ্ঞসাবাদের নির্দেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৮:০১



কল্যাণের জামিন নামঞ্জুর, কারাফটকে জিজ্ঞসাবাদের নির্দেশ

আদালত আলোকচিত্র সাংবাদিক জিয়া ইসলামকে গাড়িধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কল্যাণ কোরাইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।   আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এ আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, আসামি কল্যাণ কোরাইয়াকে তিন দিনের মধ্যে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই নির্দেশে বলা হয়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই দিন আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। আদালতে কল্যাণ কোরাইয়ার আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, যে ধারায় মামলা করা হয়েছে সে ধারা জামিনযোগ্য। আসামি জামিন পাওয়ার হকদার। এ সময় আদালত বলেন, যিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তাঁর অবস্থা তো আশঙ্কাজনক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, জামিনযোগ্য ধারা হওয়ায় আসামিকে রিমান্ডে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কল্যাণ কোরাইয়ার গাড়িটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তাঁর বন্ধু আহত হন। তিনি ওই বন্ধুকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জিয়া ইসলাম গাড়িধাক্কায় আহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

এ সময় বাদী পক্ষের আইনজীবী আশরাফ-উল আলম বলেন, মামলাটির ধারা জামিনযোগ্য হলেও রিমান্ডে দেওয়া যাবে না, আইনে এমন কোনো ধারা নেই। সাংবাদিক মিশুক মুনীর হত্যা মামলা, ঢাকা মেডিকেলের সামনের অ্যাম্বুলেন্স চাপা দিয়ে চারজনকে হত্যা মামলার আসামিকে রিমান্ডে দেওয়ার নজির আছে।

বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার বলেন, দুর্ঘটনার পর পরই আসামি গাড়ির লাইট নিভিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যান। এখন পর্যন্ত গাড়িটি জব্দ হয়নি। জিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসামি কল্যাণ কোরাইয়ার তো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর রোগীর কাছে চার তলায় যাওয়ার কথা। তিনি কেন জিয়াকে দেখতে আইসিইউতে গিয়েছিলেন? হাসপাতালে থাকা তার বন্ধুর কাছে যাওয়ার রেফারেন্সও দিতে পারেননি। এসব রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

আদালতে বাদী পক্ষের শুনানিতে আরও অংশ নেন সৈয়দ আহমেদ গাজী, চৈতন্য চন্দ্র হালদার, আনোয়ারুল কবির বাবুল, মাহবুবুল হক, আবুল কালাম আজাদ, তুহিন হাওলাদার, শুভ্র সিনহা রায় প্রমুখ।

এর আগে আজ কলাবাগান থানার এসআই ওমর ফারুক খান আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কল্যাণ কোরাইয়া এই মামলার আসামি। তিনি কলাবাগান থানার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের উল্টো দিকের রাস্তার ফার্নিচার মার্কেটের সামনে তাঁর গাড়ি দিয়ে জিয়া ইসলামকে সজোরে ধাক্কা মারেন। তিনি গাড়ির সামনের ও পেছনের আলো নিভিয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা শপিংমলের সামনের সড়কে একটি গাড়ি জিয়ার মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর জিয়া অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর একটি পা ভেঙে গেছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর হলো মাথার আঘাত।

মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে জিয়া ইসলামকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তবে পর্যবেক্ষণের সময় বাড়তে পারে। আজ সকাল ১০টার দিকে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকেরা বলেন, জিয়া ইসলামের অবস্থা অপরিবর্তিত আছে।

এ ঘটনায় গতকাল কলাবাগান থানায় মামলা করেন প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) সাজ্জাদুল কবীর। এই মামলায় কল্যাণ কোরাইয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কল্যাণ বিজ্ঞাপনের মডেল ও অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত।


মন্তব্য