kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফের অভিযোগ প্রসূন আজাদের বিরুদ্ধে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:২২



ফের অভিযোগ প্রসূন আজাদের বিরুদ্ধে!

প্রসূন আজাদকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শোবিজে নতুন কিছু নয়, এবার রোকেয়া প্রাচীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে ফের আলোচনা এলেন। ঘটনার শুরু রোকেয়া প্রাচীর একটি নাটকে শুটিং স্পটে যাওয়া নিয়ে-

শুটিং হবে ফরিদপুরের দৌলতদিয়ায়।

আগের দেয়া শিডিউল অনুযায়ী খুব ভোরে ইউনিট নিয়ে রওনা হওয়ার কথা। সবাই এসে গেছেন। কেবল প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রীর দেখা নেই। একাধিকবার ফোন দেয়া হয়। ফোনে বার বার একই কথা, ‘…এই তো কাছাকাছি এসে পড়েছি। …১০ মিনিট লাগবে। …পাঁচ মিনিট লাগবে। ’ এভাবেই পার হলো এক ঘণ্টা। আর কতোক্ষণ এক প্রসূন আজাদের জন্য এতোগুলো মানুষ অপেক্ষায় থাকবেন! পরিচালক রোকেয়া প্রাচী কয়েকজন শিল্পীসহ নিজে স্পটে যাওয়ার একটি গাড়ি রেখে অন্যসব গাড়িকে শুটিং লোকেশনের উদ্দেশে পাঠিয়ে দিলেন।

প্রসূন আজাদ এলেন নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরে। তার সঙ্গে একটি ছেলে। পরিচালক রোকেয়া প্রাচীকে প্রসূন বললেন, আমার সঙ্গে শুটিংয়ে এই ভাইটাও যাবে? অথচ গাড়িতে ফাঁকা আছে একটা সিট প্রসূনের জন্য।   পরিচালক পড়ে গেলেন বিপদে।   জানতে চাইলেন, ভাইকে সঙ্গে নেয়ার কথা আগে বলোনি কেন? তাকে সঙ্গে নেয়ারই বা কি দরকার! অমনি রেগে গেলেন প্রসূন। জানালেন, ভাইকে সঙ্গে না নিয়ে সে শুটিংয়ে যাবে না। তাছাড়া পরিচালকের কথাগুলো তার মোটেও ভালো লাগেনি। অসহ্য লাগছে, ক্যামেরার সামনে এ অবস্থায় ভালোভাবে অভিনয় করা তার পক্ষে সম্ভব না। কাউকে তো আর জোর করে অভিনয় করানো সম্ভব নয়। তাই পরিচালককে শুটিং প্যাক-আপ করতে হলো।

এ প্রসঙ্গে ফেসবুক স্ট্যাটাসে রোকেয়া প্রাচী বলেছেন, ‍‍‘প্রসূন আজাদ তার অমুক এক ভাইকে ছাড়া শুটিংয়ে যাবে না… তার জন্য দুই ঘন্টা ওয়েট করে এই কথা শুনতে হলো। এই ভাই কে, কেন যাবে- জানতে চাইলে তার নাকি খুব ‘suffocated and pain’ লাগছে ?! ফলাফল শুটিং প্যাক-আপ। ফরিদপুরে তখন টেকনিক্যাল টিম পৌঁছে গেছে …আমরা ওয়েট করে প্যাক আপ হয়ে অসম্মানিত হয়ে বসে আছি। প্যাক-আপ হলে অনেকগুলো মানুষের রুটি রুজিতে আঘাত হয় …এটা প্রসূন আজাদ বুঝবে? আর এই নাটকের আমি দুর্ভাগা পরিচালক।

নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রসূন আজাদ লিখেছেন –

‘সন্ধ্যায় আম্মু ইলিশ মাছ রান্না করছিল। আমি কিচেনের ফ্লোরে বসে কফি খাচ্ছিলাম। আম্মু বলছিল, প্রসূন এত দূর যাবি, আমার মন চাচ্ছে না। আমি আম্মুকে বললাম সুন্দর ক্যারেক্টার, আর অনেক দিন পর, করি একটা নাটকে অভিনয়, কি আসে যায় – বলে আমি লাগেজ গুছাতে বসলাম। আবার জানলাম, এসিস্টেন্টের বাড়িতে ঝামেলা তাই সাথে যাবে না। আমারও ভালো লাগছিল না। একা একা শুটিংয়ে যাইনা যে তা না, তবে ব্রোথেলের মত জায়গায় এত কালারফুল ফ্রেম পাওয়া যাবে ভেবে প্রত্যয়কে বললাম। প্রত্যয় জানালো, ওর কাজ আছে। আমি একাই বের হলাম। মাঝ রাস্তায় প্রত্যয় ফোন করে জানালো সাথে যাবে। গেলাম ডিরেক্টরের বাড়ির সামনে। দৌলতদিয়া বেশ দূরে। ৮টায় পৌছালাম বলে ডিরেক্টর সালাম না নিয়েই এতগুলো কথা শুনিয়ে দিলো। আমার ধারনা ওনার পারিবারিক ঝামেলা চলছে। নইলে সুস্থ মাথায় একটা মানুষ এত বাজে আচরণ কেনো করবে! মগবাজার, মৌচাকে প্রচুর যানজট। এটা এই শহরে নতুন নয়। আমার জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি। ৭:৩০ থেকে ৮:০০ টা বেজে গেলো কেনো সেজন্য উনি এত রাগ করলেন! আমি অবাক। কোনোভাবেই উনি প্রত্যয়কে সহ্য করতে পারছিল না। আমি আমার এসিস্টেন্ট ছাড়া অথবা এই ছোট ভাই ছাড়া দৌলতদিয়ার মত জায়গায় যাওয়ার সাহস পাই নাই।
আমার বহু রাত গেছে চোখের পানি মুছে। আপনাদের আগেও অনেক বড় বড় স্টার আমাকে “নাই” করে দিতে চেয়েছিলেন। এই কথা আমি নতুন শুনি নাই। কিন্তু তারা কোথায়? প্রত্যয় ভাবছিল, আমি চড় থাপ্পর মেরে বসি কিনা। কিন্তু পুরোটা সময় হাসি মুখেই ওনার কথা শুনে যাচ্ছিলাম আর উত্তর দিচ্ছিলাম। কারণ আমি আমার ভাইকে ছাড়া শুটিংয়ে ওনার সাথে যেতে চাই নাই।
সুতরাং অসুস্থ ডিরেক্টর, আমার আব্বু আম্মু আপনার মত না, আপনি আমার মায়ের পরিচিত তাই সালাম দিয়ে কথা বলেই কথা শেষ করেছি। আমাকে “নাই” করবেন করেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন… আপনি কি আমাকে দিয়ে অভিনয় করাতে চাচ্ছিলেন? নাকি অন্য কিছু? তাহলে ছোট ভাইকে দেখে এমন করলেন! এতগুলো মানুষের সামনে নেরি কুত্তা হয়ে গেলেন! ভাদ্র মাস নাকি? আপনি কে?’

পরে অবশ্য প্রসূন আজাদ স্ট্যাটাসটি নিজের ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেন।

 


মন্তব্য