kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

তিন তারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:১৪



তিন তারা

তিনজনই নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন এদেশের শোবিজে। নিজ নিজ অঙ্গনে পারদর্শীতার ছাপ রেখেছেন।

  বলছিলাম শমী কায়সার, মেহের আফরোজ শাওন ও  সাদিয়া ইসলাম মৌ-এর কথা।

শমী কায়সার

 ১৯৮৯ সালে পরিচালক আতিকুল হক চৌধুরী এমন একজন মেয়ে খুঁজছিলেন, যে কিনা নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারে, তার নাটক কেবা আপন কেবা পর এ অভিনয়ের জন্যে। এর ফলে শমী প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। এরপর তিনি ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় তিন পর্বের ধারাবাহিক নাটক যত দূরে যাই এ অভিনয় করে পরিচিত লাভ করেন। তারপর তিনি বহু নাটকে যেমন, নক্ষত্রের রাত, ছোট ছোট ঢেউ, স্পর্শ, একজন, অরণ্য, আকাশে অনেক রাত, মুক্তি, অন্তরে নিরন্তরে, স্বপ্ন, ঠিকানা সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেন।

শমী ঢাকা থিয়েটারে ১২ বছর ধরে কাজ করেন। তিনি শহীদুজ্জামান সেলিমের সাথে হাত হোদাই নাটকে অভিনয় করেন। লালন (২০০৪),হাছন রাজা র মতো সিনেমায় তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের জীবনী নিয়ে নির্মিত দ্য নেম অব এ রিভার (২০০২) সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন।

মেহের আফরোজ শাওন

মেহের আফরোজ শাওন একজন একই সাথে অভিনেত্রী, পরিচালক ও গায়িকা। তিনি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী। শাওন অভিনয়ে আসেন ৮৫ সালে।   প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন মামুনুর রশীদের 'সুপ্রভাত ঢাকা' নামের একটি নাটকে। চলচ্চিত্রেও পা রাখেন সেই ছোটবেলাতে। ৮৯ সালে সুচরিতার চরিত্রে অভিনয় করেন ইবনে মিজানের আলাল দুলাল ছবিতে। অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করলেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ৬টিতে। প্রতিটি চলচ্চিত্রটি দর্শক নন্দিত ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে।   ১৯৯৮ সালে হুমায়ূন আহমেদের আজ রবিবার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ আলোচনায় আসেন। গান গেয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শাওন পরিচালনা শুরু করেন ২০০৩ সাল থেকে পরিচালনার  সর্বশেষ হুমায়ূন আহমেদের 'কৃষ্ণপক্ষ' উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়েন মেহের আফরোজ শাওন।  

সাদিয়া ইসলাম মৌ

সাদিয়া ইসলাম মৌ বাংলাদেশের একজন মডেল এবং নৃত্যশিল্পী।   তাঁর প্রথম মডেল ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। তিনি বেশ কিছু টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন।   মৌ এর মা রাশা ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের স্টিল অ্যাড মডেলিং-এর পথিকৃৎ এবং বাংলাদেশের প্রথম মডেল ও নৃত্যশিল্পী। সাড়ে তিন বছর বয়সে মৌ যখন স্কুলে ভর্তি হলেন, তখনই তাঁকে নাচের স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন তাঁর মা। তাঁর নানা আজফার হাসান মাহমুদ ছিলেন শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী এবং রবীন্দ্রনাথের ছাত্র। তাঁর মা তাঁকে জোর করে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভর্তি করান। তাঁর গুরু ছিলেন রাহিজা খানম ঝুনু এবং কবিরুল ইসলাম রতন।

মৌ বাংলাদেশের একজন মডেল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০০ এর দশকে তিনি সবচেয়ে সফল নারী মডেল। তিনি একজন সফল নৃত্যশিল্পীও।   মডেলিং-এ এখন খুব কম দেখা দিলেও নৃত্য করেন নিয়মিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন।


মন্তব্য