kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'আজ রবিবার' হিন্দি ডাবিং-এর লক্ষ্য কেন বাংলাদেশি দর্শক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:০১



'আজ রবিবার' হিন্দি ডাবিং-এর লক্ষ্য কেন বাংলাদেশি দর্শক

ভারতের স্টারপ্লাস চ্যানেলে প্রচার শুরু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক 'আজ রবিবার। ' শুরুতে যখন এই খবর প্রচারিত হয় তখন এদেশের দর্শকদের আগ্রহের কমতি ছিল না।

কিন্তু সেই আগ্রহে ভাটা পড়তে সময় লাগলো না। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই প্রভাব জোরালো হলো। কেন?

এই বিষয় নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন,

'কলুষিত  মন আমার।   হুমায়ূন  আহমেদ  আমার খুব আগ্রহের  চরিত্র । ফলে তাঁকে  নিয়ে  যে কোনো ভালো খবরেই  আমি আনন্দিত  হই।
তারপরও  উনার আজ রবিবার  হিন্দিতে ডাব করে স্টার প্লাসে  দেখাবে- শুনে  অন্য  অনেকেই  গর্বে  গর্বিত  হয়ে  পড়লেও  আমার কলুষিত  মনের কারণেই আমি তা পারছিলাম না । কাছের কয়েকজন  সাংবাদিক  ভাই-ব্রাদারকে  কয়টা  প্রশ্ন  করে বলেওছিলাম  "জানি এই বিষয়ে  সত্য লিখতে পারবি না, তবুও নিদেন পক্ষে  তদন্ত করে আমাকে পারসোনালি  সত্যটা  জানা"!

দেখা যাচ্ছে, তদন্ত  শেষ হওয়ার  আগে সত্য  বাবু  নিজেই এসে দুয়ারে  হাজির।   না, আজ রবিবার  ভারতের  হিন্দিভাষীরা  দেখছেন  না, এবং তাদেরকে  দেখানোর  জন্য  সেটা প্রচারও  হচ্ছে না । মানে স্টার প্লাসের মূল হিন্দি  ফিডে এটা নাই। থাকার কথাও  ছিলো না কোনো কালে। এটা  বাংলাদেশের  দর্শকদের  টার্গেট  করেই  সম্প্রচারিত  হচ্ছে  বলে জানতে পারলাম ।  

প্রশ্ন  আসতে পারে, তবে বাঙালির কি এমন প্রয়োজন  পড়লো হুমায়ূন আহমেদকে  হিন্দিতে  পুনরাবিষ্কারের?  সেটা জিজ্ঞেস  করেন সেইসব সংস্কৃতি রক্ষকদের  যারা এই ঘটনায়  পেছন থেকে কলকাঠি  নাড়ছে।  

প্রসঙ্গত, প্রাণ কম্পানি  বাঙালিদের  উদ্দেশ্যে  হিন্দিতে  বিজ্ঞাপন প্রচার  করে "হর সামায়  ফ্রুটোমায় "। আমি প্রাণ কোম্পানির  বড় সমর্থক। আমজাদ  সাহেব  মারা যাওয়ার  পর তাঁকে  শ্রদ্ধা জানিয়েছি  দেশের  জন্য  তাঁর কোম্পানির  অবদান স্মরণ  করে । ফলে ভাববেন না  তাদের প্রতি  আমার  বিরাগ ভাব আছে । কিন্তু  আমি সত্যি  মনে করি শুধুমাত্র  বাঙালিদের  উদ্দেশ্যে  প্রচারিত হিন্দি বিজ্ঞাপনের  মাধ্যমে  তারা আমাদের হীনম্মণ্যতাকে আরো উস্কে  দিচ্ছে  এবং সেটাকে পুঁজি  করে ব্যবসা  করার চেষ্টা  করছে ।   যেনো হিন্দিতে যদি বলে "মালটা ভালো" তবে "মালটা ডাবল আচ্ছা হো যায়েঙা"।

এখানে একটা কথা পুনরায় বলা দরকার, হিন্দি  উর্দু  কোনো ভাষার প্রতি  আমার বিরাগ  নাই, থাকার কোনো কারণও  নাই। দুই দিন  পর আমি মুম্বাই  গিয়ে  হিন্দিতেও  ছবি বানাতে  পারি। আমার আপত্তি তখনই  আসে দেখি বাংলার  চেয়ে  উর্দুকে বা হিন্দিকে বা ইংরেজিকে  মহান বানানোর সাংস্কৃতিক  এজেন্ডা  বাস্তবায়নে কেউ কাজ করে। কাউকে সাংস্কৃতিক  হীনম্মন্যতায়  ভোগানোর  পেছনের রাজনৈতিক  এবং অর্থনৈতিক  কারণ যদি আমরা খেয়াল করতে ব্যর্থ  হই তাহলে আমাদের  কপালে  শনি-রবি-সোম সবই আছে। '

সাংবাদিক রাজীব হাসান কয়েকটি প্রশ্ন রেখে  নিজকের ফেসবুকে লিখেছেন,

'দারওয়াজাকা ছেদ সে মতি দেখ রাহা হ্যায়, দাঁড়াও উসকো চাঁটা মারকে আতা হ্যায়!

স্টার প্লাসে আজ রবিবারের হিন্দি ডাবিং ৫ মিনিট দেখার পর আমার একটুও ভালো লাগেনি। কারণগুলো বলছি:

১. এটাকে বাংলার জয় ভাবার কোনো কারণ নেই। এই নাটকের টার্গেট অডিয়েন্স ভারত নয়। কারণ ১৩০টি দেশে দেখানো হলেও এই নাটক ভারতে সম্প্রচার হচ্ছে না।
২. তাহলে টার্গেট অডিয়েন্স কারা? কেন হুমায়ূন আহমেদের নাটক বেছে নেওয়া হলো?
আমার অনুমান এটা একটা এক্সপেরিমেন্ট। এর মূল টার্গেট অডিয়েন্স বাঙালিরাই যারা দীর্ঘদিন হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে হিন্দিটা বুঝতে পারেন।
৩. স্টার প্লাসে অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের পণ্যের বিজ্ঞাপন হিন্দিতে দেখানো হয়। মাশরাফি প্রাণ সস হাতে নিয়ে বলছেন, ম্যায় প্রাণ সস খাতা হুঁ।
৪. মাশরাফি প্রাণ সস খায় এটা দেখে ভারতের (কলকাতা বাদে) কয়জন লোক প্রাণ সস কিনবে? ভারতের বাজার ধরা অবশ্যই উদ্দেশ্য, তবে মূল উদ্দেশ্য না। হলে কোহলি এই বিজ্ঞাপনের মুখ হতেন। বাংলাদেশের দর্শক টার্গেট অডিয়েন্স জন্য সব মডেল বাংলাদেশের। বাংলা বিজ্ঞাপনটাই হিন্দিতে ডাব করা। মৌসুমীকে ব্যবহার করে ভারতে পণ্যের প্রচারণা করা যায়?
৫. স্টার প্লাস ও হিন্দি অভ্যস্ত বাংলাদেশের বিশাল টিভি দর্শকদের মধ্যে ঢোকার এক্সপেরিমেন্ট কি এটা? আর এটা কি করা হচ্ছে এ দেশের কোনো বহুজাতিক বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে?
৬. আজ রবিবারের গল্পটা বুঝতে হলে বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত পরিবার বুঝতে চিনতে হবে। না হলে এর পুরো মজাটা বোঝা যাবে না। হিন্দি ভাষীরা তা কি পাবেন?

ভাইসব, আপনিই এর ভোক্তা। আজ রবিবারকে ব্যবহার করে আমাদের হিন্দিটা আরও ভালোভাবে শেখানো হচ্ছে। যার আসল ফল দশ বছর পর মিলেংগা। '

হুমায়ূন আহমেদের 'আজ রবিবার' হিন্দি ডাবিং-এ রবিবার যতটা না আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল ততটাই ক্ষোভের উদ্রেক ঘটিয়েছে।


মন্তব্য