kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্ষণ মামলায় এফ এ সুমন গ্রেপ্তার, পরিবারের অভিযোগ ফাঁসানো হয়েছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৩০



ধর্ষণ মামলায় এফ এ সুমন গ্রেপ্তার, পরিবারের অভিযোগ ফাঁসানো হয়েছে

সঙ্গীতশিল্পী এফ এ সুমনকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গত বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে এই সঙ্গীতশিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  কুমিল্লার এক তরুণী (১৬) সুমনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এফ সুমনের পরিবার।  

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে মগবাজারে মধরাতে এক তরুণীকে বসে থাকতে দেখে টহল পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই তরুণী জানায় তাকে সেখানে সঙ্গীতশিল্পী এফ এ সুমনের ম্যানেজার রেখে গেছে সে তার জন্য অপেক্ষা করছে।   রমনা থানায় এই খবর গেলে, তরুণী জানায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

এফ সুমনের স্ত্রী কালের কণ্ঠকে জানান এফ এ সুমনকে পরিকল্পনা করে ফাঁসানো হয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের শিকার।   গীতিকার  সোহাগ ওয়াজিউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, কুমিল্লা থেকে এফ এ সুমন ভাইয়ের এক মেয়ে ভক্ত আসেন দেখা করার জন্য। ওই ভক্ত অনেকদিন থেকেই দেখা করতে চাচ্ছিলেন। ঢাকায় আত্মীয় বাসায় বেড়াতে এসেছেন এ সুযোগে প্রিয় শিল্পীর সাথে দেখা করতে চান। সেই অনুযায়ী সুমন ভাই তখন নাইম তালুকদারের স্টুডিওতে ওই ভক্তকে ডাকেন।   ওই মেয়ে স্টুডিওতে আসার পরে সুমন ভাইয়ের সাথে কয়েক মিনিট 'পারসোনাল কথা' বলতে চান বলে পাশের আরেকটা রুমে যেতে বলেন। সেখানে কয়েক মিনিট কথা বলার পর বের হয়ে এসে ওই মেয়ে বলে সুমন ভাইকে সে বিয়ে করতে চায়।    ওই মেয়েকে বুঝিয়ে মগবাজারে পৌঁছে দেওয়া হলেও মেয়ে নাকি বাড়ি না গিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন।   সোহাগ বলেন, ওই মেয়ে পাগল ভক্ত।   তাকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছিল না। সে সুমনকে বিয়ে করবেই। শেষে বাধ্য হয়ে তাকে গাড়িতে করে মৌচাকের কাছে নামিয়ে দেওয়া হয়।  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, মগবাজারে মঙ্গলবার মধ্যরাতে এক তরুণীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় ঐ তরুণী জানায়,  এফ এ সুমন তাকে এখানে অপেক্ষা করতে বলছে তাই সে অপেক্ষা করছে। পরে ঐ তরুণী জানায়, মোবাইলে এফ এ সুমনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাসায় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সে  সুমনের সাথে পরামর্শ করে ঢাকায় আসে। এরপর ঐ তরুণীকে সুমন এক স্টুডিওতে নিয়ে ধর্ষণ করে মগবাজারে ফেলে রেখে যায়।   এস আই গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। এফ এ সুমনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মেয়েটিকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বাকিটুকু জানা যাবে।

এদিকে, এফ এ সুমনকে আদালতে নেওয়া হয়। তাঁর পক্ষে থেকে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে সুমনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সঙ্গীতশিল্পী বিবাহিত জীবনে এক ছেলে ও মেয়ে সন্তানের জনক।


মন্তব্য