kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেন বাংলাদেশে কোক স্টুডিও জনপ্রিয়?

মাহতাব হোসেন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:১৬



কেন বাংলাদেশে কোক স্টুডিও জনপ্রিয়?

উপমহাদেশে কোক স্টুডিও প্রথম শুরু হয় পাকিস্তানে।   পরে একই প্যাটার্নে ভারতেও এমটিভির সাথে যুক্ত হয়ে যাত্রা শুরু করে স্টুডিও।

  ২০০৮ সাল থেকেই কোকাকোলা অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে আসছে। ভারতীয় কোক স্টুডিও কিছু গান ভালো করলেও  পাকিস্তানের কোক স্টুডিওর ধারে কাছেও যেতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশে কোক স্টুডিওর প্রবেশ ভারতীয় সংস্করণের বাংলা গানের ফিউশন দিয়ে।    প্রথম কোক স্টুডিও ছিল পাকিস্তানের একটা টিভি সিরিজ যেখানে বিভিন্ন জনরার, এলাকার আর বিভিন্ন স্টাইলের আর্টিস্টরা একত্র হয়ে লাইভ রেকর্ডিং করে। কোক স্টুডিওর নিজস্ব হাউস ব্যন্ড থাকে, সেই সাথে যোগ দেয় সুফি, ক্লাসিকাল, রাগা, ফোক ধাচের বিখ্যাত ওস্তাদ শিল্পীরা। আবার বিভিন্ন রক,পপ ব্যন্ড পারফর্ম করে এই সব ওস্তাদদের সাথে।

প্রথম কোক স্টুডিও ২০০৮ এ রোহাইল হায়াত আর তার স্ত্রী আম্বার হায়াত এর প্রোডাকশনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। সফলভাবে এর তিনটি সিজন দেখানো হয়। কোক স্টুডিওর হাউস ব্যন্ডটিও ভালো।    সম্প্রতি পাকিস্তানের কোক স্টুডিওর ফিউশন বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।   সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কিছুদিন ধরে কোক স্টুডিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।   এছাড়া ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও গতি বৃদ্ধির কারণে কোক স্টুডি এদেশের ফিউশনপ্রেমী মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।  

ইতিহাস থেকে বলা যায়, সর্বপ্রথম  ব্রাজিলীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠান স্টুডিও কোকা-কোলা (Estúdio Coca-Cola ), যেটি এমটিভি ব্রাজিল এ ২০০৭ এর মার্চে প্রথমবার প্রিমিয়ার হয়। পাকিস্তানি কোক স্টুডিও এর আদলে করা হয়েছে যদিও। অনুষ্ঠান দুইটির মধ্যে সাধারণ কিছু পার্থক্য রয়েছে। ব্রাজিলীয় শোটি সাধারণত কনসার্টের মতো হয়ে থাকে কিন্তু পাকিস্তানের সংস্করণে এটি একটি বদ্ধ স্টুডিওতে হয়ে থাকে। কোক স্টুডিও পাকিস্তানি সংস্করণ পাকিস্তানের কোকা-কোলা কম্পানি ,রুহালী হায়াত, পাকিস্তানের প্রথম পপ ব্যান্ড ভাইটাল সাইনস এর প্রতিষ্ঠাতা, এবং উমবার হায়াত দ্বারা পৃষ্ঠপোষকিত হয় । তারা দুইজনেই অনুষ্ঠানটির নির্বাহী প্রযোজক ছিলেন।

ফিউশন হচ্ছে এমন একধরনের মিউজিক প্যাটার্ন যেখানে একাধিক ধরনের মিউজিক এক সাথে যুক্ত করা হয়।   রক এন্ড রোল মিউজিক মূলত ব্লুস, গস্পেল আর কান্ট্রি মিউসিকের কম্বিনেশন। আবার আমরা ইদানিং লালনের যে নতুন মিউজিকের গান গুলা শুনি সেগুলো হচ্ছে ফোক এর সাথে রক বা ব্যান্ড এর কম্বিনেশন। সাধারনত ফিউশন মিউজিকে কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন রকমের সুর, তাল, লয় (টেম্পো, রিদম, বিট) এর ছোট ছোট পার্ট করে
স্বতন্ত্র ভাবে উপস্থাপন করা হয়। অডিয়েন্স একি সাথে কয়েক ধরনের গানের স্বাদ পায়। এ কারণে ফিউশন শুনতে কখনই বিরক্ত লাগেনা।

কোক স্টুডিওতে সারাবিশ্বের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্য বহনকারী গানগুলোকে ফিউশন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কোক স্টুডিওতে বাংলাদেশের কিছু গান করা হয়েছে।   তবে এটা ভারতীয় সংস্করণে।   বাবুল সুপ্রিয় আর সাত্যকি ব্যানার্জির সঙ্গে মিলে অনুপম গাইলেন লালনগীতি ‘মিলন হবে কতদিনে’।   দেশের অন্যতম বাউলশিল্পী শফি মন্ডলও গেয়েছেন ভারতীয় টেলিভিশন এমটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কোক স্টুডিও’তে।      আর পাকিস্তানি কোক স্টুডিও বাংলাদেশে জনপ্রিয় হওয়ার কারণ গুলো শ্রুতিমধুর গান। যেগুলো কানে একধরনের আবেশ তৈরি করে।

 আর যারা সেখানে গান তারা মোটেও এদেশের মানুষের কাছে অপরিচিত নন।    জুনুন ব্যান্ড এদেশে জনপ্রিয়তা পায় বেশকিছুদিন আগে। তাঁদের গান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আতিফ আসলামের চালে মাদিনে চলে (চলো মদিনায় চলো) সারবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়তা পায়।   সর্বশেষ নুসরাত ফতেহ আলী খানের 'আফরিন আফরিন' নতুন করে কোক স্টুডিওতে গান রাহাত ফতেহ আলী খান ও মোমিনা মুহতেহসান। তাঁদের কণ্ঠের এই গান পাকিস্তানের সীমানা ছাড়িয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। যার ঢেউ এসে লাগে এদেশেও।   তবে ভারতীয় সংস্করণের 'রাঙাবতী রাঙাবতী' সুন্দরী কমলা, এইসব গানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কোক স্টুডিও দ্রুত প্রবেশ করে।


মন্তব্য